ঢাকা ০৪:৪২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ভাষা শহীদদের প্রতি রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রাকে সুসংহত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ : প্রধানমন্ত্রী জামায়াতের নিবন্ধন বাতিলের দাবি, প্রধানমন্ত্রীর কাছে চিঠি একুশে ফেব্রুয়ারি: ভাষা, আত্মত্যাগ ও আত্মমর্যাদার প্রতীক একুশে ফেব্রুয়ারি আত্মপ্রত্যয় ও আত্মপরিচয়ের দিন অসুস্থ স্ত্রীকে দেখতে গিয়ে যমুনায় নিখোঁজ, ১১দিন পর মরদেহ উদ্ধার জামায়াত আমিরের প্রশ্ন/ সরকার কি চাঁদাকে ‘জাতীয়করণ’ করছে? ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক জোরদার করতে আগ্রহী জামায়াতের কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন, নতুন নেতৃত্ব চূড়ান্ত ‘ফ্যামিলি কার্ডে’ নগদ সহায়তা: প্রথমে পাচ্ছেন হতদরিদ্র ও নারীপ্রধান পরিবার

একুশে ফেব্রুয়ারি: ভাষা, আত্মত্যাগ ও আত্মমর্যাদার প্রতীক

সুপন রায়
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:১০:০২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ১২ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বাংলাদেশের ইতিহাসে একুশে ফেব্রুয়ারি এক গৌরবময় ও বেদনাবিধুর দিন। ১৯৫২ সালের এই দিনে মাতৃভাষা বাংলার মর্যাদা রক্ষায় তরুণ ছাত্রসমাজের আত্মত্যাগ বাঙালি জাতির ইতিহাসে অমর হয়ে আছে। ভাষার জন্য জীবন দেওয়া সেই শহিদদের জাতি আজও গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় স্মরণ করে।

১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ শাসনের অবসানের পর পাকিস্তান রাষ্ট্র গঠিত হলে ভৌগোলিকভাবে বিচ্ছিন্ন দুই অংশ—পূর্ব পাকিস্তান ও পশ্চিম পাকিস্তান—নিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা শুরু হয়। সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের ভাষা বাংলা হলেও পশ্চিম পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার উদ্যোগ নেয়। ১৯৪৮ সালে তৎকালীন গভর্নর জেনারেল মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা ঘোষণার পর পূর্ব বাংলায় তীব্র প্রতিবাদের সৃষ্টি হয়।

এই বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ছাত্রসমাজ ও সাধারণ মানুষ আন্দোলনে নামেন। আন্দোলন ক্রমেই তীব্র হয়ে ওঠে এবং ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে শিক্ষার্থীরা মিছিল বের করেন। তখন পুলিশের গুলিতে রফিক, বরকত, সালাম, জব্বারসহ আরও অনেকে শহিদ হন। তাদের রক্তের বিনিময়ে বাংলা ভাষা রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা লাভের পথ সুগম হয় এবং ভাষা আন্দোলন বাঙালির জাতীয় চেতনার ভিত্তি হয়ে ওঠে।

ভাষা আন্দোলন শুধু ভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম ছিল না; এটি ছিল বাঙালির আত্মপরিচয়, সংস্কৃতি ও মর্যাদা রক্ষার আন্দোলন। পরবর্তীতে এই আন্দোলনের চেতনা থেকেই বাঙালির স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা শক্তিশালী হয় এবং তা মহান মুক্তিযুদ্ধের পথকে সুগম করে।

ভাষা আন্দোলনের অবদানে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের বিকাশ নতুন গতি পায়। তবে বর্তমান সময়ে বিদেশি ভাষার প্রতি অতিরিক্ত নির্ভরতা এবং বাংলা চর্চার প্রতি আগ্রহ কমে যাওয়ায় উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষা, প্রশাসন ও অফিস-আদালতে বাংলা ভাষার ব্যবহার আরও বাড়ানো জরুরি। মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষা করে পাশাপাশি অন্যান্য ভাষা শেখার ভারসাম্য তৈরি করাই সময়ের দাবি।

একুশে ফেব্রুয়ারি আমাদের শিখিয়েছে অধিকার আদায়ের সংগ্রাম, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ এবং আত্মমর্যাদার মূল্য। তাই এই দিনের ইতিহাস শুধু স্মরণে রাখাই নয়, এর চেতনা ধারণ করে দায়িত্বশীল, সচেতন ও মানবিক নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠাই আমাদের প্রধান অঙ্গীকার হওয়া উচিত।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

একুশে ফেব্রুয়ারি: ভাষা, আত্মত্যাগ ও আত্মমর্যাদার প্রতীক

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:১০:০২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশের ইতিহাসে একুশে ফেব্রুয়ারি এক গৌরবময় ও বেদনাবিধুর দিন। ১৯৫২ সালের এই দিনে মাতৃভাষা বাংলার মর্যাদা রক্ষায় তরুণ ছাত্রসমাজের আত্মত্যাগ বাঙালি জাতির ইতিহাসে অমর হয়ে আছে। ভাষার জন্য জীবন দেওয়া সেই শহিদদের জাতি আজও গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় স্মরণ করে।

১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ শাসনের অবসানের পর পাকিস্তান রাষ্ট্র গঠিত হলে ভৌগোলিকভাবে বিচ্ছিন্ন দুই অংশ—পূর্ব পাকিস্তান ও পশ্চিম পাকিস্তান—নিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা শুরু হয়। সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের ভাষা বাংলা হলেও পশ্চিম পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার উদ্যোগ নেয়। ১৯৪৮ সালে তৎকালীন গভর্নর জেনারেল মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা ঘোষণার পর পূর্ব বাংলায় তীব্র প্রতিবাদের সৃষ্টি হয়।

এই বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ছাত্রসমাজ ও সাধারণ মানুষ আন্দোলনে নামেন। আন্দোলন ক্রমেই তীব্র হয়ে ওঠে এবং ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে শিক্ষার্থীরা মিছিল বের করেন। তখন পুলিশের গুলিতে রফিক, বরকত, সালাম, জব্বারসহ আরও অনেকে শহিদ হন। তাদের রক্তের বিনিময়ে বাংলা ভাষা রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা লাভের পথ সুগম হয় এবং ভাষা আন্দোলন বাঙালির জাতীয় চেতনার ভিত্তি হয়ে ওঠে।

ভাষা আন্দোলন শুধু ভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম ছিল না; এটি ছিল বাঙালির আত্মপরিচয়, সংস্কৃতি ও মর্যাদা রক্ষার আন্দোলন। পরবর্তীতে এই আন্দোলনের চেতনা থেকেই বাঙালির স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা শক্তিশালী হয় এবং তা মহান মুক্তিযুদ্ধের পথকে সুগম করে।

ভাষা আন্দোলনের অবদানে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের বিকাশ নতুন গতি পায়। তবে বর্তমান সময়ে বিদেশি ভাষার প্রতি অতিরিক্ত নির্ভরতা এবং বাংলা চর্চার প্রতি আগ্রহ কমে যাওয়ায় উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষা, প্রশাসন ও অফিস-আদালতে বাংলা ভাষার ব্যবহার আরও বাড়ানো জরুরি। মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষা করে পাশাপাশি অন্যান্য ভাষা শেখার ভারসাম্য তৈরি করাই সময়ের দাবি।

একুশে ফেব্রুয়ারি আমাদের শিখিয়েছে অধিকার আদায়ের সংগ্রাম, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ এবং আত্মমর্যাদার মূল্য। তাই এই দিনের ইতিহাস শুধু স্মরণে রাখাই নয়, এর চেতনা ধারণ করে দায়িত্বশীল, সচেতন ও মানবিক নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠাই আমাদের প্রধান অঙ্গীকার হওয়া উচিত।