ঢাকা ০৪:৪৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ভাষা শহীদদের প্রতি রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রাকে সুসংহত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ : প্রধানমন্ত্রী জামায়াতের নিবন্ধন বাতিলের দাবি, প্রধানমন্ত্রীর কাছে চিঠি একুশে ফেব্রুয়ারি: ভাষা, আত্মত্যাগ ও আত্মমর্যাদার প্রতীক একুশে ফেব্রুয়ারি আত্মপ্রত্যয় ও আত্মপরিচয়ের দিন অসুস্থ স্ত্রীকে দেখতে গিয়ে যমুনায় নিখোঁজ, ১১দিন পর মরদেহ উদ্ধার জামায়াত আমিরের প্রশ্ন/ সরকার কি চাঁদাকে ‘জাতীয়করণ’ করছে? ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক জোরদার করতে আগ্রহী জামায়াতের কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন, নতুন নেতৃত্ব চূড়ান্ত ‘ফ্যামিলি কার্ডে’ নগদ সহায়তা: প্রথমে পাচ্ছেন হতদরিদ্র ও নারীপ্রধান পরিবার

একুশে ফেব্রুয়ারি আত্মপ্রত্যয় ও আত্মপরিচয়ের দিন

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:০৮:৩২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ১৭ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আজ শনিবার অমর একুশে ফেব্রুয়ারি ও মহান শহীদ দিবস। একইসঙ্গে এটি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। মাতৃভাষা আন্দোলনের ৭৪ বছর পূর্তি উপলক্ষে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি পালনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।

প্রতি বছর এই দিনে জাতি গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করে ১৯৫২ সালের ভাষাশহিদদের—আবদুস সালাম, আবুল বরকত, রফিক উদ্দিন আহমেদ, আবদুল জব্বারসহ অগণিত নাম না-জানা বীর সন্তানকে। তাদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে বাংলা রাষ্ট্রভাষার দাবিতে আন্দোলন চূড়ান্ত রূপ পায় এবং বাঙালির জাতীয় মুক্তিসংগ্রামের ভিত্তি সুদৃঢ় হয়।

ভাষা আন্দোলনের সূচনা ও প্রেক্ষাপট

ভাষা আন্দোলনের সূত্রপাত ১৯৪৮ সালের ১১ মার্চ। জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর গ্রন্থ অসমাপ্ত আত্মজীবনী-এ উল্লেখ করেন, বাংলা ভাষাকে বাদ দিয়ে উর্দুকে একক রাষ্ট্রভাষা করার ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে ছাত্রসমাজ সংগঠিত হয়। পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম ছাত্রলীগ ও তমদ্দুন মজলিশের উদ্যোগে গঠিত হয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ এবং ১১ মার্চ ‘বাংলা ভাষা দাবি দিবস’ পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে ছাত্ররা মিছিল বের করলে পুলিশ গুলি চালায়। এতে সালাম, বরকত, রফিক, জব্বারসহ অনেকে শহিদ হন। সেই আত্মদানের মধ্য দিয়ে একুশে ফেব্রুয়ারি বাঙালির আত্মমর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রতীক হয়ে ওঠে।

’৬৯-এর গণ-আন্দোলনে একুশের চেতনা

১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থানেও একুশের চেতনা নতুন মাত্রা পায়। ১১ দফা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে একুশে ফেব্রুয়ারি গণবিস্ফোরণের রূপ নেয়। শহিদ আসাদ, সার্জেন্ট জহুরুল হক ও ড. শামসুজ্জোহাসহ অসংখ্য শহিদের আত্মদান আন্দোলনকে বেগবান করে। ভাষা আন্দোলনের চেতনা তখন গণতান্ত্রিক অধিকার ও স্বাধিকার প্রতিষ্ঠার বৃহত্তর সংগ্রামের সঙ্গে মিশে যায়।

আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি

১৯৯৯ সালে ইউনেস্কো ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। ফলে একুশে ফেব্রুয়ারি শুধু বাঙালির নয়, বিশ্বব্যাপী ভাষাগত বৈচিত্র্য ও মাতৃভাষার অধিকার রক্ষার প্রতীক হয়ে ওঠে।

আজকের কর্মসূচি

দিবাগত রাত ১২টা ১ মিনিটে ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার-এ পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে দিবসের কর্মসূচি শুরু হবে। ভোরে কালো ব্যাজ ধারণ করে প্রভাতফেরি সহকারে সর্বস্তরের মানুষ আজিমপুর কবরস্থানে ভাষাশহিদদের কবরে শ্রদ্ধা জানাবে। সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন আলোচনা, কবিতা আবৃত্তি ও সংগীতানুষ্ঠানের আয়োজন করবে।

দিবসটি উপলক্ষে রাজধানীজুড়ে আলোচনা সভাসহ নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। ১৯৫২ সালের এই দিনে ‘বাংলাকে’ রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে তৎকালীন পূর্ববাংলার (তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান) ছাত্র ও যুবসমাজ শাসকগোষ্ঠীর জারি করা ১৪৪ ধারা উপেক্ষা করে রাজপথে নেমে আসে।

রক্তরাঙা একুশ আমাদের শিখিয়েছে আত্মত্যাগের মন্ত্র, দিয়েছে অসাম্প্রদায়িক ও গণতান্ত্রিক চেতনার ভিত্তি। ভাষার জন্য প্রাণ দেওয়া শহিদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে জাতি আজও উচ্চারণ করে—আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

একুশে ফেব্রুয়ারি আত্মপ্রত্যয় ও আত্মপরিচয়ের দিন

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:০৮:৩২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আজ শনিবার অমর একুশে ফেব্রুয়ারি ও মহান শহীদ দিবস। একইসঙ্গে এটি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। মাতৃভাষা আন্দোলনের ৭৪ বছর পূর্তি উপলক্ষে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি পালনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।

প্রতি বছর এই দিনে জাতি গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করে ১৯৫২ সালের ভাষাশহিদদের—আবদুস সালাম, আবুল বরকত, রফিক উদ্দিন আহমেদ, আবদুল জব্বারসহ অগণিত নাম না-জানা বীর সন্তানকে। তাদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে বাংলা রাষ্ট্রভাষার দাবিতে আন্দোলন চূড়ান্ত রূপ পায় এবং বাঙালির জাতীয় মুক্তিসংগ্রামের ভিত্তি সুদৃঢ় হয়।

ভাষা আন্দোলনের সূচনা ও প্রেক্ষাপট

ভাষা আন্দোলনের সূত্রপাত ১৯৪৮ সালের ১১ মার্চ। জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর গ্রন্থ অসমাপ্ত আত্মজীবনী-এ উল্লেখ করেন, বাংলা ভাষাকে বাদ দিয়ে উর্দুকে একক রাষ্ট্রভাষা করার ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে ছাত্রসমাজ সংগঠিত হয়। পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম ছাত্রলীগ ও তমদ্দুন মজলিশের উদ্যোগে গঠিত হয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ এবং ১১ মার্চ ‘বাংলা ভাষা দাবি দিবস’ পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে ছাত্ররা মিছিল বের করলে পুলিশ গুলি চালায়। এতে সালাম, বরকত, রফিক, জব্বারসহ অনেকে শহিদ হন। সেই আত্মদানের মধ্য দিয়ে একুশে ফেব্রুয়ারি বাঙালির আত্মমর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রতীক হয়ে ওঠে।

’৬৯-এর গণ-আন্দোলনে একুশের চেতনা

১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থানেও একুশের চেতনা নতুন মাত্রা পায়। ১১ দফা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে একুশে ফেব্রুয়ারি গণবিস্ফোরণের রূপ নেয়। শহিদ আসাদ, সার্জেন্ট জহুরুল হক ও ড. শামসুজ্জোহাসহ অসংখ্য শহিদের আত্মদান আন্দোলনকে বেগবান করে। ভাষা আন্দোলনের চেতনা তখন গণতান্ত্রিক অধিকার ও স্বাধিকার প্রতিষ্ঠার বৃহত্তর সংগ্রামের সঙ্গে মিশে যায়।

আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি

১৯৯৯ সালে ইউনেস্কো ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। ফলে একুশে ফেব্রুয়ারি শুধু বাঙালির নয়, বিশ্বব্যাপী ভাষাগত বৈচিত্র্য ও মাতৃভাষার অধিকার রক্ষার প্রতীক হয়ে ওঠে।

আজকের কর্মসূচি

দিবাগত রাত ১২টা ১ মিনিটে ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার-এ পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে দিবসের কর্মসূচি শুরু হবে। ভোরে কালো ব্যাজ ধারণ করে প্রভাতফেরি সহকারে সর্বস্তরের মানুষ আজিমপুর কবরস্থানে ভাষাশহিদদের কবরে শ্রদ্ধা জানাবে। সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন আলোচনা, কবিতা আবৃত্তি ও সংগীতানুষ্ঠানের আয়োজন করবে।

দিবসটি উপলক্ষে রাজধানীজুড়ে আলোচনা সভাসহ নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। ১৯৫২ সালের এই দিনে ‘বাংলাকে’ রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে তৎকালীন পূর্ববাংলার (তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান) ছাত্র ও যুবসমাজ শাসকগোষ্ঠীর জারি করা ১৪৪ ধারা উপেক্ষা করে রাজপথে নেমে আসে।

রক্তরাঙা একুশ আমাদের শিখিয়েছে আত্মত্যাগের মন্ত্র, দিয়েছে অসাম্প্রদায়িক ও গণতান্ত্রিক চেতনার ভিত্তি। ভাষার জন্য প্রাণ দেওয়া শহিদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে জাতি আজও উচ্চারণ করে—আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি।