জুলাই শহীদ আবু সাঈদের মৃত্যুকে ঘিরে নতুন বিতর্ক
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৮:৩০:২৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ২১ বার পড়া হয়েছে
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ হিসেবে পরিচিত আবু সাঈদ-এর মৃত্যু নিয়ে আদালতে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে আসামিপক্ষ। তাদের দাবি, পুলিশের গুলিতে নয়—মাথায় ভোঁতা আঘাতজনিত কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে।
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের এই শিক্ষার্থী ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই রংপুরে কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় সংঘর্ষে নিহত হন। তার মৃত্যুকে ঘিরে দায়ের করা মামলায় দুই পুলিশ সদস্য—কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায় ও এএসআই আমির হোসেন—আসামি হিসেবে রয়েছেন। তবে আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান দুলু আদালতে দাবি করেন, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে গুলিবিদ্ধ হওয়ার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ নেই।
ময়নাতদন্ত রিপোর্ট নিয়ে প্রশ্ন
আইনজীবীর বক্তব্য অনুযায়ী, মৃতদেহে এক্স-রে বা রেডিওগ্রাফি পরীক্ষা করা হয়নি, যা গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যুর ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শরীরে বুলেট বা ছররা থাকার প্রমাণ নির্ধারণে এ ধরনের পরীক্ষা অপরিহার্য হলেও তা অনুপস্থিত বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এছাড়া ঘটনাস্থল থেকে কোনো কার্তুজ বা খোসা উদ্ধার হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি। আবু সাঈদের পরনের পোশাকেও গুলির ছিদ্রের স্পষ্ট চিহ্ন পাওয়া যায়নি বলে আদালতে উপস্থাপন করা হয়। এসব তথ্যের ভিত্তিতে আসামিপক্ষের দাবি—পুলিশের গুলিতে তার মৃত্যু হয়নি।
চিকিৎসকের রিপোর্ট নিয়ে অভিযোগ
ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক রাজিবুল হাসানের রিপোর্টে অসঙ্গতির অভিযোগও তোলা হয়েছে। আইনজীবীর দাবি, প্রাথমিক প্রতিবেদনে মাথায় আঘাতের বিষয়টি উল্লেখ থাকলেও পরবর্তী পর্যায়ে তা পরিবর্তনের চেষ্টা হয়েছে। কেন প্রয়োজনীয় ফরেনসিক পরীক্ষা করা হয়নি—এ প্রশ্নও তোলা হয়েছে আদালতে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট
২০২৪ সালের ১৬ জুলাই রংপুরে কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের মধ্যে আবু সাঈদ নিহত হন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে তাকে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়, যা দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন তোলে। পরবর্তীতে আন্দোলন গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয় এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় পরিবর্তনের সূচনা ঘটে।
ভিন্নমত ও চলমান বিচার
একদিকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের কিছু ফরেনসিক বিশ্লেষণে পুলিশের ছররা গুলির দায়ের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, অন্যদিকে আসামিপক্ষ মাথায় আঘাতের বিষয়টিকে প্রধান কারণ হিসেবে তুলে ধরছে। ফলে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন, ফরেনসিক বিশ্লেষণ এবং উপস্থাপিত প্রমাণ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন। আদালতের চূড়ান্ত রায়ই নির্ধারণ করবে আবু সাঈদের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং দায়-দায়িত্বের প্রশ্ন।





















