ঢাকা ০৪:৪৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ভাষা শহীদদের প্রতি রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রাকে সুসংহত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ : প্রধানমন্ত্রী জামায়াতের নিবন্ধন বাতিলের দাবি, প্রধানমন্ত্রীর কাছে চিঠি একুশে ফেব্রুয়ারি: ভাষা, আত্মত্যাগ ও আত্মমর্যাদার প্রতীক একুশে ফেব্রুয়ারি আত্মপ্রত্যয় ও আত্মপরিচয়ের দিন অসুস্থ স্ত্রীকে দেখতে গিয়ে যমুনায় নিখোঁজ, ১১দিন পর মরদেহ উদ্ধার জামায়াত আমিরের প্রশ্ন/ সরকার কি চাঁদাকে ‘জাতীয়করণ’ করছে? ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক জোরদার করতে আগ্রহী জামায়াতের কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন, নতুন নেতৃত্ব চূড়ান্ত ‘ফ্যামিলি কার্ডে’ নগদ সহায়তা: প্রথমে পাচ্ছেন হতদরিদ্র ও নারীপ্রধান পরিবার

চিঠি চালাচালিতেই ৪৬ বছর, আলোর মুখ দেখেনি হাউজিং এস্টেট

আজিজুল হক সরকার,ফুলবাড়ী (দিনাজপুর)
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০১:০২:০৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ১৯ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার পৌর শহরের কেন্দ্রস্থলে ১৯৭৯ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী হাউজিং এস্টেটের জন্য অধিগ্রহণ করা ১১.৬৯ একর জমি ৪৬ বছর পার হলেও এখনও কার্যকর হয়নি। চিঠি চালাচালির জটিলতায় দীর্ঘ সময় ধরে জমিটি ব্যবহার ও উন্নয়নের আওতার বাইরে থেকেছে।

তৎকালীন প্রশাসনিক পরিকল্পনা অনুযায়ী ফুলবাড়ীকে সাব-ডিভিশন (মহকুমা) করার প্রেক্ষিতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসিক সুবিধার জন্য উপশহর প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। তখন এই প্রকল্পের জন্য ১৯ লক্ষ টাকা বরাদ্দও করা হয়েছিল। পরে জমি অধিগ্রহণ করা হয় জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের হাতে। ৯১টি প্লট তৈরি, রাস্তা ও বিদ্যুতের পিলার বসানো হলেও ১৯৮৪ সালে সরকার পরিবর্তনের পর প্রকল্প স্থগিত হয়ে যায়।

জমিদাতাদের মধ্যে ছিলেন মৃত হাজি সুলতান হোসেন, মৃত দেলোয়ার হোসেন, মৃত রহমতুল্লাহ, মৃত সিদ্দিক মিয়া, মৃত আ. জব্বার, মোন্নাফ কমিশনার, মৃত জুবু উদ্দিন ও আরও অনেকে। তাদের কাছে ১১.৬৯ একর জমির জন্য মাত্র ৫ লাখ ৭৭ হাজার ২৬০ টাকা পরিশোধ করা হয়েছিল।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, এত বছর ধরে জমি অনাবাদি পড়ে আছে, মাদকাসক্ত ও দুষ্কৃতিকারীদের দখলে চলে গেছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে কয়েকজন বেকার যুবক স্বেচ্ছায় জমিতে ধান চারা রোপণ করেছেন।

ফুলবাড়ী ভারপ্রাপ্ত ইউএনও মো. ছামিউল ইসলাম জানান, তিনি নতুন দায়িত্বে রয়েছেন এবং বিষয়টি এখন তাঁর জানা বাইরে। সাবেক পৌর মেয়র মাহমুদ আলম লিটন মন্তব্য করেন, শহরের কেন্দ্রস্থলে এমন গুরুত্বপূর্ণ জমি দীর্ঘ সময় পতিত রাখা যৌক্তিক নয়।

জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের দিনাজপুর ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী বাদল কুমার মন্ডল বাংলা টাইমসকে জানিয়েছেন, ৫ নভেম্বর জমি হস্তান্তর হয়েছে। তিনি সম্পূর্ণ এলাকাটি সার্ভে করেছেন এবং ঢাকায় নক্সা পাঠানো হয়েছে। প্লট বরাদ্দ ও রাস্তা নির্মাণসহ কাজ দ্রুত এগোতে থাকবে।

স্থানীয়রা আশা করছেন, অনেক বছর ধরে স্থগিত থাকা এই হাউজিং এস্টেট অবশেষে বাস্তব রূপ পাবে এবং শহরের জন্য আবাসিক সুবিধা ও খেলার মাঠের সুযোগ তৈরি হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

চিঠি চালাচালিতেই ৪৬ বছর, আলোর মুখ দেখেনি হাউজিং এস্টেট

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০১:০২:০৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার পৌর শহরের কেন্দ্রস্থলে ১৯৭৯ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী হাউজিং এস্টেটের জন্য অধিগ্রহণ করা ১১.৬৯ একর জমি ৪৬ বছর পার হলেও এখনও কার্যকর হয়নি। চিঠি চালাচালির জটিলতায় দীর্ঘ সময় ধরে জমিটি ব্যবহার ও উন্নয়নের আওতার বাইরে থেকেছে।

তৎকালীন প্রশাসনিক পরিকল্পনা অনুযায়ী ফুলবাড়ীকে সাব-ডিভিশন (মহকুমা) করার প্রেক্ষিতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসিক সুবিধার জন্য উপশহর প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। তখন এই প্রকল্পের জন্য ১৯ লক্ষ টাকা বরাদ্দও করা হয়েছিল। পরে জমি অধিগ্রহণ করা হয় জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের হাতে। ৯১টি প্লট তৈরি, রাস্তা ও বিদ্যুতের পিলার বসানো হলেও ১৯৮৪ সালে সরকার পরিবর্তনের পর প্রকল্প স্থগিত হয়ে যায়।

জমিদাতাদের মধ্যে ছিলেন মৃত হাজি সুলতান হোসেন, মৃত দেলোয়ার হোসেন, মৃত রহমতুল্লাহ, মৃত সিদ্দিক মিয়া, মৃত আ. জব্বার, মোন্নাফ কমিশনার, মৃত জুবু উদ্দিন ও আরও অনেকে। তাদের কাছে ১১.৬৯ একর জমির জন্য মাত্র ৫ লাখ ৭৭ হাজার ২৬০ টাকা পরিশোধ করা হয়েছিল।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, এত বছর ধরে জমি অনাবাদি পড়ে আছে, মাদকাসক্ত ও দুষ্কৃতিকারীদের দখলে চলে গেছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে কয়েকজন বেকার যুবক স্বেচ্ছায় জমিতে ধান চারা রোপণ করেছেন।

ফুলবাড়ী ভারপ্রাপ্ত ইউএনও মো. ছামিউল ইসলাম জানান, তিনি নতুন দায়িত্বে রয়েছেন এবং বিষয়টি এখন তাঁর জানা বাইরে। সাবেক পৌর মেয়র মাহমুদ আলম লিটন মন্তব্য করেন, শহরের কেন্দ্রস্থলে এমন গুরুত্বপূর্ণ জমি দীর্ঘ সময় পতিত রাখা যৌক্তিক নয়।

জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের দিনাজপুর ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী বাদল কুমার মন্ডল বাংলা টাইমসকে জানিয়েছেন, ৫ নভেম্বর জমি হস্তান্তর হয়েছে। তিনি সম্পূর্ণ এলাকাটি সার্ভে করেছেন এবং ঢাকায় নক্সা পাঠানো হয়েছে। প্লট বরাদ্দ ও রাস্তা নির্মাণসহ কাজ দ্রুত এগোতে থাকবে।

স্থানীয়রা আশা করছেন, অনেক বছর ধরে স্থগিত থাকা এই হাউজিং এস্টেট অবশেষে বাস্তব রূপ পাবে এবং শহরের জন্য আবাসিক সুবিধা ও খেলার মাঠের সুযোগ তৈরি হবে।