বাংলাদেশ-তাইওয়ান সিরামিকের ৩৯ কোটি টাকার শুল্ক ফাঁকি
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০১:১৯:০৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ২৬ বার পড়া হয়েছে
ভুয়া রপ্তানির কাগজপত্র তৈরি করে প্রায় ৩৮ কোটি ৮৬ লাখ টাকার শুল্ক ফাঁকির অভিযোগে বাংলাদেশ-তাইওয়ান সিরামিক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের চেয়ারম্যানসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
দুদকের ঢাকা-১ সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ধীরাজ চন্দ্র বর্মন বাদী হয়ে চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে এ মামলা দায়ের করেন।
দুদকের অভিযোগ অনুযায়ী, নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ের চর রমজান এলাকায় অবস্থিত প্রতিষ্ঠানটি ২০১৩ সালে শতভাগ রপ্তানিমুখী শিল্প হিসেবে বন্ড সুবিধার আওতায় নিবন্ধিত হয়। নিয়ম অনুযায়ী, কাঁচামাল বা আধা-প্রস্তুত টাইলস আমদানি করে তা প্রক্রিয়াজাত করে রপ্তানি করার কথা থাকলেও প্রতিষ্ঠানটি কাঁচামালের পরিবর্তে চীন থেকে সম্পূর্ণ তৈরি (ফিনিশড) টাইলস আমদানি করে।
২০১৩ সাল থেকে ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৬২টি বিল অব এন্ট্রির মাধ্যমে ২২ হাজার ৯৪৩ মেট্রিক টন তৈরি টাইলস আমদানি করা হয়। শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের উদ্যোগে বুয়েটের গ্লাস অ্যান্ড সিরামিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ নমুনা পরীক্ষা করে নিশ্চিত করে যে, এগুলো সম্পূর্ণ প্রস্তুত টাইলস, যা বন্ড সুবিধায় আমদানির অনুমতি নেই।
তদন্তে আরও দেখা যায়, আমদানির বিপরীতে ৮০টি বিল অব এক্সপোর্ট দেখিয়ে রপ্তানির তথ্য দেওয়া হলেও সংশ্লিষ্ট বিল অব লেডিং জাল। গোল্ডেন কন্টেইনার ও ইনকন্ট্রেড লিমিটেড নামে দুটি প্রতিষ্ঠান জানায়, তাদের মাধ্যমে কোনো রপ্তানি হয়নি। একইভাবে শিপিং এজেন্ট ওয়ান কার্গো লিমিটেড ও জেডএন্ডজেড এক্সপ্রেস সার্ভিসও এসব নথি জাল বলে নিশ্চিত করেছে।
রপ্তানি চালান পরীক্ষণের দায়িত্বে থাকা দুই রাজস্ব কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তারা কোনো চালান পরীক্ষা করেননি এবং তাদের স্বাক্ষরও জাল করা হয়েছে।
কাস্টমস বন্ড কমিশনারেটের অডিটে আরও উঠে এসেছে, আমদানিকৃত টাইলস স্থানীয় বাজারে বিক্রি করা হয়েছে এবং মজুদ হিসাবেও কারচুপি করা হয়েছে।
মামলায় আসামি করা হয়েছে প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান হাসান শরিফ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. জিয়া উদ্দিনসহ শিল্পগ্রুপের শীর্ষ কর্মকর্তাদের। এছাড়া দুটি সিএন্ডএফ এজেন্ট প্রতিষ্ঠানের মালিককেও আসামি করা হয়েছে।
দুদকের প্রাথমিক অনুসন্ধানে বলা হয়েছে, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ভুয়া রপ্তানি নথি তৈরি করে ব্যাংকে জমা দেন এবং এর মাধ্যমে প্রায় ৩৯ কোটি টাকার শুল্ক ফাঁকি দেন, যা সরকারি রাজস্বের বড় ধরনের ক্ষতি করেছে।
এ ঘটনায় দণ্ডবিধির ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১ ও ১০৯ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। দুদক জানিয়েছে, তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করে পরবর্তী আইনি কার্যক্রম নেওয়া হবে।





















