ঢাকা ০৪:৪৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ভাষা শহীদদের প্রতি রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রাকে সুসংহত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ : প্রধানমন্ত্রী জামায়াতের নিবন্ধন বাতিলের দাবি, প্রধানমন্ত্রীর কাছে চিঠি একুশে ফেব্রুয়ারি: ভাষা, আত্মত্যাগ ও আত্মমর্যাদার প্রতীক একুশে ফেব্রুয়ারি আত্মপ্রত্যয় ও আত্মপরিচয়ের দিন অসুস্থ স্ত্রীকে দেখতে গিয়ে যমুনায় নিখোঁজ, ১১দিন পর মরদেহ উদ্ধার জামায়াত আমিরের প্রশ্ন/ সরকার কি চাঁদাকে ‘জাতীয়করণ’ করছে? ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক জোরদার করতে আগ্রহী জামায়াতের কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন, নতুন নেতৃত্ব চূড়ান্ত ‘ফ্যামিলি কার্ডে’ নগদ সহায়তা: প্রথমে পাচ্ছেন হতদরিদ্র ও নারীপ্রধান পরিবার

গণতন্ত্রে ফেরা, স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ার পরীক্ষায় তারেক রহমান

জয়নাল আবেদিন
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:৫২:৩৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ৫১ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দেশে নির্বাচিত সরকারের প্রত্যাবর্তনকে অনেকেই গণতন্ত্রের নতুন অধ্যায় হিসেবে দেখছেন। নিরঙ্কুশ জনসমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় এসে এখন উন্নত, আধুনিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়ার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

১৭ বছরের প্রবাসজীবন শেষে দেশে ফিরে তিনি যে “স্বপ্নের বাংলাদেশ”-এর কথা বলেছিলেন, তা বাস্তবায়নের সুযোগ খুব দ্রুতই পেয়েছেন। কিন্তু এই দ্রুত উত্থানই তার জন্য প্রত্যাশার চাপকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। জনগণ এখন প্রতিশ্রুতির সঙ্গে বাস্তব কাজের মিল দেখতে চাইবে।

বড় চ্যালেঞ্জগুলো কোথায়?

১. অর্থনীতি ও ঋণের চাপ
২৩ লাখ কোটি টাকার বেশি সরকারি ঋণ, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, কর্মসংস্থান সংকট ও বিনিয়োগ স্থবিরতা—অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করাই হবে সরকারের প্রথম বড় পরীক্ষা।

২. রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও সহনশীলতা
নির্বাচনের পর রাজনৈতিক বিভাজন কমানো, বিরোধী দল ও ভিন্নমতের জন্য সহনশীল পরিবেশ নিশ্চিত করা গণতন্ত্রকে কার্যকর করার জন্য জরুরি।

৩. ধর্মনিরপেক্ষতা বনাম রাজনৈতিক বাস্তবতা
ধর্মনিরপেক্ষ ও আধুনিক রাষ্ট্রের বার্তা সামনে রেখে এগোলেও মাঠের রাজনীতিতে বিভিন্ন আদর্শিক শক্তির চাপ সামলাতে হবে সরকারকে।

৪. আইনশৃঙ্খলা ও সংখ্যালঘু নিরাপত্তা
সহিংসতা, প্রতিহিংসামূলক রাজনীতি ও সংখ্যালঘু নির্যাতনের অভিযোগ বন্ধ করতে না পারলে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

৫. আন্তর্জাতিক সম্পর্ক
ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, চীনসহ প্রধান অংশীদারদের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ কূটনীতি বজায় রাখা এবং বিদেশি বিনিয়োগ আনা বড় অগ্রাধিকার হবে।

সুযোগও কম নয়

শক্তিশালী জনসমর্থন, তুলনামূলক স্থিতিশীল রাজনৈতিক ম্যান্ডেট, সংস্কার নেওয়ার জন্য জনআকাঙ্ক্ষা, প্রশাসন ও অর্থনীতিতে পুনর্গঠনের সুযোগ।

তারেক রহমানের সামনে পথ একদিকে মসৃণ—কারণ জনগণ স্পষ্ট ম্যান্ডেট দিয়েছে। অন্যদিকে পথ কঠিন—কারণ প্রত্যাশা অস্বাভাবিকভাবে বেশি। আগামী কয়েক মাসেই বোঝা যাবে, তাঁর ঘোষিত স্বপ্ন রাজনৈতিক স্লোগানেই সীমাবদ্ধ থাকে, নাকি বাস্তব নীতিমালা ও সংস্কারের মাধ্যমে একটি আধুনিক, সহনশীল ও উন্নয়নমুখী বাংলাদেশের ভিত্তি গড়ে ওঠে।

দীর্ঘ ৩৪ বছর পর বাংলাদেশে একজন পুরুষ প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব নিলেন। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে তাকে শপথবাক্য পাঠ করান।

এর আগে সকালে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পড়ান। বিএনপির সংসদ সদস্যদের শপথের পর দলটির সংসদীয় দলের সভায় সর্বসম্মতিক্রমে তারেক রহমানকে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত করা হয়।

রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা শুরু করেন ২০০১ সালের নির্বাচনের সময় থেকে। যদিও সে সময় তিনি সংসদ সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেননি, পরে ২০০২ সালে তাকে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব করা হয়। এক–এগারোর সময় একাধিক মামলায় গ্রেপ্তার ও প্রায় ১৮ মাস কারাবরণের পর তিনি দীর্ঘ সময় লন্ডনে অবস্থান করেন। ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর আদালতে নির্দোষ প্রমাণিত হয়ে দেশে ফিরে সক্রিয় রাজনীতিতে সরাসরি নেতৃত্ব দেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

গণতন্ত্রে ফেরা, স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ার পরীক্ষায় তারেক রহমান

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:৫২:৩৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দেশে নির্বাচিত সরকারের প্রত্যাবর্তনকে অনেকেই গণতন্ত্রের নতুন অধ্যায় হিসেবে দেখছেন। নিরঙ্কুশ জনসমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় এসে এখন উন্নত, আধুনিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়ার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

১৭ বছরের প্রবাসজীবন শেষে দেশে ফিরে তিনি যে “স্বপ্নের বাংলাদেশ”-এর কথা বলেছিলেন, তা বাস্তবায়নের সুযোগ খুব দ্রুতই পেয়েছেন। কিন্তু এই দ্রুত উত্থানই তার জন্য প্রত্যাশার চাপকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। জনগণ এখন প্রতিশ্রুতির সঙ্গে বাস্তব কাজের মিল দেখতে চাইবে।

বড় চ্যালেঞ্জগুলো কোথায়?

১. অর্থনীতি ও ঋণের চাপ
২৩ লাখ কোটি টাকার বেশি সরকারি ঋণ, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, কর্মসংস্থান সংকট ও বিনিয়োগ স্থবিরতা—অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করাই হবে সরকারের প্রথম বড় পরীক্ষা।

২. রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও সহনশীলতা
নির্বাচনের পর রাজনৈতিক বিভাজন কমানো, বিরোধী দল ও ভিন্নমতের জন্য সহনশীল পরিবেশ নিশ্চিত করা গণতন্ত্রকে কার্যকর করার জন্য জরুরি।

৩. ধর্মনিরপেক্ষতা বনাম রাজনৈতিক বাস্তবতা
ধর্মনিরপেক্ষ ও আধুনিক রাষ্ট্রের বার্তা সামনে রেখে এগোলেও মাঠের রাজনীতিতে বিভিন্ন আদর্শিক শক্তির চাপ সামলাতে হবে সরকারকে।

৪. আইনশৃঙ্খলা ও সংখ্যালঘু নিরাপত্তা
সহিংসতা, প্রতিহিংসামূলক রাজনীতি ও সংখ্যালঘু নির্যাতনের অভিযোগ বন্ধ করতে না পারলে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

৫. আন্তর্জাতিক সম্পর্ক
ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, চীনসহ প্রধান অংশীদারদের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ কূটনীতি বজায় রাখা এবং বিদেশি বিনিয়োগ আনা বড় অগ্রাধিকার হবে।

সুযোগও কম নয়

শক্তিশালী জনসমর্থন, তুলনামূলক স্থিতিশীল রাজনৈতিক ম্যান্ডেট, সংস্কার নেওয়ার জন্য জনআকাঙ্ক্ষা, প্রশাসন ও অর্থনীতিতে পুনর্গঠনের সুযোগ।

তারেক রহমানের সামনে পথ একদিকে মসৃণ—কারণ জনগণ স্পষ্ট ম্যান্ডেট দিয়েছে। অন্যদিকে পথ কঠিন—কারণ প্রত্যাশা অস্বাভাবিকভাবে বেশি। আগামী কয়েক মাসেই বোঝা যাবে, তাঁর ঘোষিত স্বপ্ন রাজনৈতিক স্লোগানেই সীমাবদ্ধ থাকে, নাকি বাস্তব নীতিমালা ও সংস্কারের মাধ্যমে একটি আধুনিক, সহনশীল ও উন্নয়নমুখী বাংলাদেশের ভিত্তি গড়ে ওঠে।

দীর্ঘ ৩৪ বছর পর বাংলাদেশে একজন পুরুষ প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব নিলেন। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে তাকে শপথবাক্য পাঠ করান।

এর আগে সকালে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পড়ান। বিএনপির সংসদ সদস্যদের শপথের পর দলটির সংসদীয় দলের সভায় সর্বসম্মতিক্রমে তারেক রহমানকে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত করা হয়।

রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা শুরু করেন ২০০১ সালের নির্বাচনের সময় থেকে। যদিও সে সময় তিনি সংসদ সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেননি, পরে ২০০২ সালে তাকে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব করা হয়। এক–এগারোর সময় একাধিক মামলায় গ্রেপ্তার ও প্রায় ১৮ মাস কারাবরণের পর তিনি দীর্ঘ সময় লন্ডনে অবস্থান করেন। ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর আদালতে নির্দোষ প্রমাণিত হয়ে দেশে ফিরে সক্রিয় রাজনীতিতে সরাসরি নেতৃত্ব দেন।