ঢাকা ১২:০০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬, ২ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

চাঁদা, নিয়োগ বাণিজ্য ও ভীতি—কেয়ারটেকারের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ

বাগেরহাট প্রতিনিধি
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৭:২৯:৪৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ৫৬ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বাগেরহাটের রামপালে মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রমের মডেল কেয়ারটেকার মো. আল মামুনের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ ও অর্থ আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। বিভিন্ন শিক্ষক ও সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে ভয়ভীতি দেখিয়ে তিনি প্রায় ১২ লাখ টাকা আদায় করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ইসলামী ফাউন্ডেশনের অধীনে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই আল মামুন বিভিন্ন কেন্দ্রের শিক্ষকদের কাছে কেন্দ্র পরিদর্শন, চাকরি দেওয়া বা বহিষ্কারের ভয় দেখানো, মোটরসাইকেলের জ্বালানি খরচ, বাৎসরিক চাঁদা ও ঈদ বোনাসের নামে টাকা আদায় করতেন। উপজেলার ৭৬টি কেন্দ্রের শিক্ষকদের কাছ থেকে ধাপে ধাপে বড় অঙ্কের অর্থ নেওয়া হয়।

অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৬ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে একাধিক শিক্ষকের কাছ থেকে ৩০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া ২০১৭ সালে একটি সরকারি অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের খরচের নামে ৬৩টি কেন্দ্র থেকে ১ লাখ ৫১ হাজার ২০০ টাকা আদায় করা হয়, যার বড় অংশ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। একই বছর অনলাইনে ভর্তি প্রক্রিয়ার নামে আরও ৮৮ হাজার ২০০ টাকা নেওয়া হয়। ২০১৮ সালে নতুন কেন্দ্রের শিক্ষক নিয়োগের কথা বলে প্রায় আড়াই লাখ টাকা আদায়ের অভিযোগও রয়েছে।

এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে ভুক্তভোগী শিক্ষকরা ২০১৮ সালে ইসলামী ফাউন্ডেশনের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেন। তদন্তে অনিয়মের সত্যতা পাওয়ায় ২০১৯ সালে তাকে সাময়িক অব্যাহতি দিয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। পরে তিনি লিখিতভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করে দায়িত্বে ফিরে আসেন।

তবে অভিযোগ রয়েছে, পুনর্বহালের পরও তিনি আগের মতোই অনিয়ম চালিয়ে যাচ্ছেন এবং অভিযোগকারীদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষক দাবি করেন, স্থানীয় কিছু কর্মকর্তার সহযোগিতায় এসব কর্মকাণ্ড চলছে।

অভিযোগ অস্বীকার করে আল মামুন বলেন, তার বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য প্রচার করা হচ্ছে। তবে অতীতে দেওয়া লিখিত মুচলেকা সম্পর্কে তিনি স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।

এ বিষয়ে বাগেরহাট ইসলামী ফাউন্ডেশনের উপপরিচালক এবিএম গোলাম সরওয়ার বলেন, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী তার চাকরিতে থাকার কথা নয়। তবে কেন তিনি এখনও কর্মরত আছেন, সে বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষই সিদ্ধান্ত দেবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

চাঁদা, নিয়োগ বাণিজ্য ও ভীতি—কেয়ারটেকারের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৭:২৯:৪৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বাগেরহাটের রামপালে মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রমের মডেল কেয়ারটেকার মো. আল মামুনের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ ও অর্থ আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। বিভিন্ন শিক্ষক ও সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে ভয়ভীতি দেখিয়ে তিনি প্রায় ১২ লাখ টাকা আদায় করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ইসলামী ফাউন্ডেশনের অধীনে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই আল মামুন বিভিন্ন কেন্দ্রের শিক্ষকদের কাছে কেন্দ্র পরিদর্শন, চাকরি দেওয়া বা বহিষ্কারের ভয় দেখানো, মোটরসাইকেলের জ্বালানি খরচ, বাৎসরিক চাঁদা ও ঈদ বোনাসের নামে টাকা আদায় করতেন। উপজেলার ৭৬টি কেন্দ্রের শিক্ষকদের কাছ থেকে ধাপে ধাপে বড় অঙ্কের অর্থ নেওয়া হয়।

অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৬ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে একাধিক শিক্ষকের কাছ থেকে ৩০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া ২০১৭ সালে একটি সরকারি অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের খরচের নামে ৬৩টি কেন্দ্র থেকে ১ লাখ ৫১ হাজার ২০০ টাকা আদায় করা হয়, যার বড় অংশ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। একই বছর অনলাইনে ভর্তি প্রক্রিয়ার নামে আরও ৮৮ হাজার ২০০ টাকা নেওয়া হয়। ২০১৮ সালে নতুন কেন্দ্রের শিক্ষক নিয়োগের কথা বলে প্রায় আড়াই লাখ টাকা আদায়ের অভিযোগও রয়েছে।

এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে ভুক্তভোগী শিক্ষকরা ২০১৮ সালে ইসলামী ফাউন্ডেশনের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেন। তদন্তে অনিয়মের সত্যতা পাওয়ায় ২০১৯ সালে তাকে সাময়িক অব্যাহতি দিয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। পরে তিনি লিখিতভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করে দায়িত্বে ফিরে আসেন।

তবে অভিযোগ রয়েছে, পুনর্বহালের পরও তিনি আগের মতোই অনিয়ম চালিয়ে যাচ্ছেন এবং অভিযোগকারীদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষক দাবি করেন, স্থানীয় কিছু কর্মকর্তার সহযোগিতায় এসব কর্মকাণ্ড চলছে।

অভিযোগ অস্বীকার করে আল মামুন বলেন, তার বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য প্রচার করা হচ্ছে। তবে অতীতে দেওয়া লিখিত মুচলেকা সম্পর্কে তিনি স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।

এ বিষয়ে বাগেরহাট ইসলামী ফাউন্ডেশনের উপপরিচালক এবিএম গোলাম সরওয়ার বলেন, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী তার চাকরিতে থাকার কথা নয়। তবে কেন তিনি এখনও কর্মরত আছেন, সে বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষই সিদ্ধান্ত দেবে।