ঢাকা ০৬:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬, ২ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ব্রিটিশ গণমাধ্যমের প্রতিবেদন

টিউলিপকে ফেরাতে ব্রিটিশ সরকারের দ্বারস্থ হবে বিএনপি সরকার

বাংলা টাইমস ডেস্ক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৮:১৭:৫৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ৩৪ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

শপথ গ্রহণের আগেই বিএনপি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ সিদ্দিককে দেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। নতুন সরকারের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির জানিয়েছেন, ক্ষমতা গ্রহণের পরপরই ব্রিটিশ সরকারের কাছে টিউলিপসহ সেখানে অবস্থানরত ‘দণ্ডিত অপরাধীদের’ প্রত্যর্পণের জন্য আনুষ্ঠানিক তালিকা ও আবেদন জমা দেওয়া হবে।

হুমায়ুন কবির ব্রিটেনের প্রভাবশালী পত্রিকা দি ইনডিপেনডেন্টকে বলেছেন, “হাসিনা ও টিউলিপ উভয়েই বাংলাদেশের আদালতের রায়ে দণ্ডিত অপরাধী। বিচার প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ স্বচ্ছ। আমরা ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পিছপা হব না।”

উল্লেখ্য, শেখ হাসিনাকে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আর টিউলিপ সিদ্দিককে ঢাকায় একটি জমি ক্রয়ে দুর্নীতির অভিযোগে চার বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তবে টিউলিপ এই রায়কে ‘মিডিয়া ট্রায়াল’ ও ‘ক্যাঙারু কোর্ট’ বলে অভিহিত করেছেন।

হুমায়ুন কবির বলেন, “যুক্তরাজ্য সরকারকে অপরাধীদের বিষয়ে তাদের অবস্থান পরিষ্কার করতে হবে। টিউলিপ সিদ্দিক ব্রিটিশ সরকারের জন্য একটি ‘বিব্রতকর বিষয়’। আমরা খুব শিগগির একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা ব্রিটিশ সরকারের হাতে তুলে দেব এবং তাদের বাংলাদেশে ফেরত চাই।”

যদিও বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে সরাসরি কোনো প্রত্যর্পণ চুক্তি নেই, হুমায়ুন এই সীমাবদ্ধতাকে অগ্রাহ্য করে বলেন, “যদি আমরা অবৈধ অভিবাসন রোধে যুক্তরাজ্যের অংশীদার হতে পারি, তবে পালিয়ে যাওয়া অপরাধীদের ধরার ক্ষেত্রেও যুক্তরাজ্য ন্যায্য আচরণ করবে।”

টিউলিপ সিদ্দিক সব অভিযোগকে প্রহসনমূলক ও ত্রুটিপূর্ণ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাঁর দল ব্রিটিশ লেবার পার্টিও বলেছে, “তার ন্যায্য আইনগত সুযোগ নেই, তাই রায়কে স্বীকার করা হচ্ছে না।”

মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন। শপথ গ্রহণের পরপরই টিউলিপ সিদ্দিক ও শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ ইস্যু ঢাকা-লন্ডন কূটনৈতিক সম্পর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

ব্রিটিশ গণমাধ্যমের প্রতিবেদন

টিউলিপকে ফেরাতে ব্রিটিশ সরকারের দ্বারস্থ হবে বিএনপি সরকার

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৮:১৭:৫৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

শপথ গ্রহণের আগেই বিএনপি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ সিদ্দিককে দেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। নতুন সরকারের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির জানিয়েছেন, ক্ষমতা গ্রহণের পরপরই ব্রিটিশ সরকারের কাছে টিউলিপসহ সেখানে অবস্থানরত ‘দণ্ডিত অপরাধীদের’ প্রত্যর্পণের জন্য আনুষ্ঠানিক তালিকা ও আবেদন জমা দেওয়া হবে।

হুমায়ুন কবির ব্রিটেনের প্রভাবশালী পত্রিকা দি ইনডিপেনডেন্টকে বলেছেন, “হাসিনা ও টিউলিপ উভয়েই বাংলাদেশের আদালতের রায়ে দণ্ডিত অপরাধী। বিচার প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ স্বচ্ছ। আমরা ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পিছপা হব না।”

উল্লেখ্য, শেখ হাসিনাকে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আর টিউলিপ সিদ্দিককে ঢাকায় একটি জমি ক্রয়ে দুর্নীতির অভিযোগে চার বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তবে টিউলিপ এই রায়কে ‘মিডিয়া ট্রায়াল’ ও ‘ক্যাঙারু কোর্ট’ বলে অভিহিত করেছেন।

হুমায়ুন কবির বলেন, “যুক্তরাজ্য সরকারকে অপরাধীদের বিষয়ে তাদের অবস্থান পরিষ্কার করতে হবে। টিউলিপ সিদ্দিক ব্রিটিশ সরকারের জন্য একটি ‘বিব্রতকর বিষয়’। আমরা খুব শিগগির একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা ব্রিটিশ সরকারের হাতে তুলে দেব এবং তাদের বাংলাদেশে ফেরত চাই।”

যদিও বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে সরাসরি কোনো প্রত্যর্পণ চুক্তি নেই, হুমায়ুন এই সীমাবদ্ধতাকে অগ্রাহ্য করে বলেন, “যদি আমরা অবৈধ অভিবাসন রোধে যুক্তরাজ্যের অংশীদার হতে পারি, তবে পালিয়ে যাওয়া অপরাধীদের ধরার ক্ষেত্রেও যুক্তরাজ্য ন্যায্য আচরণ করবে।”

টিউলিপ সিদ্দিক সব অভিযোগকে প্রহসনমূলক ও ত্রুটিপূর্ণ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাঁর দল ব্রিটিশ লেবার পার্টিও বলেছে, “তার ন্যায্য আইনগত সুযোগ নেই, তাই রায়কে স্বীকার করা হচ্ছে না।”

মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন। শপথ গ্রহণের পরপরই টিউলিপ সিদ্দিক ও শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ ইস্যু ঢাকা-লন্ডন কূটনৈতিক সম্পর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।