জাতির উদ্দেশ্যে পীর সাহেব চরমোনাই এর ভাষণ
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় নতুন দিকনির্দেশনা দিল ইসলামী আন্দোলন
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৭:৩০:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ৩৫ বার পড়া হয়েছে
বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বেতারে দেয়া ভাষণে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম, পীর সাহেব চরমোনাই আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিজ দলের অঙ্গিকার, রাষ্ট্রগঠনে ও সংস্কারে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের চিন্তা তুলে ধরেন এবং ইশতেহারের মৌলিক অংশসহ বিশেষ কর্মসূচি তুলে ধরেন।
রবিবার (৮ জানুয়ার) সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় প্রচার মাধ্যম বিটিভি ও বাংলাদেশ বেতারে একযোগে প্রচারিত ভাষণে পীর সাহেব চরমোনাই রাষ্ট্র পরিচালনায় প্রচলিত মূলনীতির বদলে নুতন মূলনীতি প্রস্তাব করে বলেন, “আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এই ভূখণ্ডের মানুষের হাজার বছরের চর্চিত বিশ্বাস ও জীবনাচারের নীতি ইসলামকে রাষ্ট্র পরিচালনার নীতি হিসেবে উপস্থাপন করেছে। শরীয়াহ কেবলই একটি আইনের নাম নয় বরং শরীয়াহ হলো, মানুষের বিশ্বাস, জীবনবোধ, সংস্কৃতি, অভ্যাস ও আইনের সমষ্টি। আমরা এই অঞ্চলের অধিকাংশ মানুষ বিশ্বাস হিসেবে, জীবনবোধ হিসেবে এবং সংস্কৃতিতে, অভ্যাসে ইসলামকে ধারণ করি। এখন যদি রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিতে ইসলামকে বাস্তবায়ন করতে পারি তাহলেই বাংলাদেশ তার প্রত্যাশিত সমৃদ্ধি ও লক্ষ্য খুঁজে পাবে; ইনশাআল্লাহ।
রাষ্ট্র পরিচালনায় ইসলামের মৌলিক নীতিসমূহ তুলে ধরে পীর সাহেব চরমোনাই বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনায় ইসলামের মৌলিক নীতিমালার মধ্যে রয়েছে আদালত, ইনসাফ, নাগরিকের স্বার্থের প্রতি সংবেদনশীলতা, দায়বদ্ধতা, সামাজিক নিরাপত্তা, আইনের শাসন এবং সকল ধর্মের মানুষের ধর্মীয় আচার পালনের অধিকার ও সমান সন্মান-মর্যাদা প্রদান করা। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে এই মৌলিক নীতিমালার পূর্ণ প্রতিপালন করবে।
একজন পীর হিসেবে পীর সাহেব চরমোনাই তার বক্তব্যে ভোট সম্পর্কিত ইসলামের নীতি তুলে ধরে জাতিকে সতর্ক করে বলেন, “আপনি যদি ভোটের মাধ্যমে কোন ভালো নীতি ও ব্যক্তির জন্য সুপারিশ করেন তাহলে সেই ভালো নীতি ও ব্যক্তির কৃত ভালো কাজের নেকি আপনি পাবেন। আর যদি আপনি কোন খারাপ নীতি ও ব্যক্তির জন্য সুপারিশ করেন তাহলে সেই খারাপ নীতি ও ব্যক্তির করা অপরাধের পাপের ভাগ আপনার আমলনামাতেও যুক্ত হবে। কোন দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও টাকা পাচার না করেও কেবল ভুল জায়গায় ভোট দেয়ার কারণে আপনার আমলনামায় দুর্নীতি ও সন্ত্রাসের পাপ যুক্ত হতে পারে। তাই ভোট প্রদান কেবল ইহকালীন বিষয়-ই নয় বরং একইসাথে একটি পরকালীন বিষয়ও বটে। তাই ভোট প্রদানে সতর্ক থাকতে হবে।”
বক্তব্যে ইশতেহার সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত আকারে তুলে ধরেন মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম, পীর সাহেব চরমোনাই। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ইশতেহার মূলত ৫টি ভাগে উপস্থাপন করা হয়েছে। প্রথমভাগে রয়েছে রাষ্ট্র গঠনে নীতিগত অবস্থান। সেখানে রাষ্ট্র পরিচালনার সকল ক্ষেত্রে ইসলামের মৌলিক নীতিমালার পরিপালন, ক্ষমতার চর্চা ও হস্তান্তরে গণতান্ত্রিক পদ্ধতির অনুসরণ,সকল ধর্ম ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্টির অধিকার-সম্মানর রক্ষায় প্রতিশ্রুতি, পারস্পরিক সম্মান ও সহযোগীতামূলক বৈদেশিক সম্পর্ক, সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা, বৈষম্যবিরোধিতা ও ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠা, দুর্নীতির মূলোৎপাটন ও নারীর মর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠার মতো বিষয়।
পরের ভাগে রাষ্ট্র সংস্কারে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের চিন্তা তুলে ধরেন চরমোনাই-র পীর। সেখানে, মহান মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রতি দায়বদ্ধতা, পিআর পদ্ধতিতে জাতীয় নির্বাচন, ক্ষমতার ভারসাম্য নিশ্চিত করা, সেবাভিত্তিক দড়্গ ও সৎ জনপ্রশাসন গড়ে তোলা, রাজস্ব পরিধির সম্প্রসারণ,স্বনির্ভর শক্তিশালী ও বহুমাত্রিক ডিফেন্স সিস্টেম গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে।
ভাষণের শেষাংশে পীর সাহেব চরমোনাই তারুণ্যকে তাদের প্রথম ভোট ইসলামের পক্ষে ও পরিবর্তনের পক্ষে দেয়ার আহবান জানান। প্রশাসনে কর্তব্যরতদের সকল ধরণের ভয়-প্রলোভনের উর্ধে উঠে রাষ্ট্র ও জনতার স্বার্থে কাজ করার আহবান জানান।
পীর সাহেব চরমোনাই এর পুরো ভাষণ
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ,
নাহমাদুহু ওয়ানু সল্লি আলা রাসুলিহিল কারীম, আম্মাবাদ
জাতির ভাগ্যের পরিবর্তনের প্রত্যাশায় আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচনী আমেজে থাকা প্রিয় দেশবাসীকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আমি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করিম আপনাদেরকে জানাই শ্রদ্ধা ও আন্তরিক শুভেচ্ছা।
প্রিয় দেশবাসী ভাই ও বোনেরা,
শুরুতেই মহান আল্লাহর দরবারে কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। বিট্রিশ বিরোধী সংগ্রাম থেকে শুরু করে ৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং মানুষের মুক্তি ও সমৃদ্ধির জন্য সংগঠিত সকল আন্দোলন ও সংগ্রামে অংশ নেয়া জাতির সাহসী সন্তানদের প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা নিবেদন করছি। বিশেষ করে শাপলা ও চব্বিশের গণঅভ্যূত্থানের সকল আহত, নিহত বীরদের প্রতি আমাদের আন্তরিক শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা অর্পণ করছি।
প্রিয় দেশবাসী,
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ১৯৮৭ সালে দেশের সর্বধারার শীর্ষ উলামায়ে কেরাম, বুদ্ধিজীবী, শিক্ষাবিদ ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সমন্বয়ে গঠিত একটি প্ল্যাটফর্ম। প্রতিষ্ঠার পর থেকে সকল রাজনৈতিক আন্দোলনে আমরা ছিলাম সম্মুখসারীর দল। দেশ-জাতি ও মানবতার স্বার্থে আমাদের সরব পদচারণায় মুখর ছিলো রাজপথ। সর্বশেষ জুলাই গণঅভ্যূত্থানে একমাত্র রাজনৈতিক দল হিসেবে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ স্বনামে-প্রকাশ্যে রাজপথে লড়াই করেছে।
প্রতিষ্ঠাকালে আমাদের দলের নাম ছিলো ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলন। কারণ সেই ১৯৮৭ সালেই আমাদের অনুধাবনে এটা ছিলো, যে সংবিধানে দেশ চলছে তা এই দেশের ইতিহাস-ঐতিহ্য ও বোধ-বিশ্বাসের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ না। আজকের বাংলাদেশে সবাই একমত যে, সংবিধানই প্রধানতম সমস্যা। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্যে দিয়ে আমরা সংবিধান সংস্কারসহ রাষ্ট্রের সামগ্রিক সংস্কার করার একটি সুযোগ পেয়েছি। সেই সুযোগকে বাস্তবে পরিণত করার জন্য আগামী ১২ তারিখের নির্বাচন তাৎপর্যপূর্ণ। আপনার একটি ভোট মহান স্বাধীনতা ও চব্বিশের জুলাই এর প্রত্যাশাকে বাস্তবায়িত করতে সহায়তা করবে, ইনশাআল্লাহ।
প্রিয় দেশবাসী!
স্বাধীনতার পরে ৫৪টি বছর অতিক্রান্ত হয়েছে। এক সাগর রক্ত উৎসর্গ করার পরেও আমরা কাক্সিক্ষত সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায় বিচার পাই নাই। আর্থিক সমৃদ্ধি আসে নাই, নিরাপত্তা নিশ্চিত হয় নাই। বরং দারিদ্রতা, সন্ত্রাস, রাজনৈতিক হানাহানি, অবিচার, সীমাহীন বৈষম্য, বেকারত্ব আমাদের দেশকে কুঁড়ে কুঁড়ে খেয়েছে। অতিতে যারাই দেশ পরিচালনা করেছে তাদের কেউ-ই এই দায় এড়াতে পারবে না। এখানে ভোটার হিসেবে আমার-আপনার দায়ও রয়েছে। ভুল নীতি ও নেতাকে ভোট দেয়ার মাধ্যমে এর দায় আমাদের ওপরেও বর্তায়।
প্রিয় দেশবাসী ভাই ও বোনেরা!
আমাদের সমস্যা ছিলো দুইটা। এক. রাষ্ট্র পরিচালনার নীতি হিসেবে ভুল নীতি গ্রহণ করা এবং দুই. ভুল নেতা বাছাই করা।
ভুল নীতির কারণে অনেক ভালো নেতাও দেশকে কাক্সিক্ষতমানে নিয়ে যেতে পারে নাই। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এই ভূখÐের মানুষের হাজার বছরের চর্চিত বিশ্বাস ও জীবনাচারের নীতি ইসলামকে রাষ্ট্র পরিচালনার নীতি হিসেবে উপস্থাপন করেছে। শরীয়াহ কেবলই একটি আইনের নাম নয় বরং শরীয়াহ হলো, মানুষের বিশ্বাস, জীবনবোধ, সংস্কৃতি, অভ্যাস ও আইনের সমষ্টি। আমরা এই অঞ্চলের অধিকাংশ মানুষ বিশ্বাস হিসেবে, জীবনবোধ হিসেবে এবং সংস্কৃতিতে, অভ্যাসে ইসলামকে ধারণ করি। এখন যদি রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিতে ইসলামকে বাস্তবায়ন করতে পারি তাহলেই বাংলাদেশ তার প্রত্যাশিত সমৃদ্ধি ও লক্ষ খুঁজে পাবে; ইনশাআল্লাহ।
রাষ্ট্র পরিচালনায় ইসলামের মৌলিক নীতিমালার মধ্যে রয়েছে আদালত, ইনসাফ, নাগরিকের স্বার্থের প্রতি সংবেদনশীলতা, দায়বদ্ধতা, সামাজিক নিরাপত্তা, আইনের শাসন এবং সকল ধর্মের মানুষের ধর্মীয় আচার পালনের অধিকার ও সমান সন্মান-মর্যাদা প্রদান করা। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে এই মৌলিক নীতিমালার পূর্ণ প্রতিপালন করবে।
প্রিয় দেশবাসী!
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৫৮ আসনে হাতপাখা প্রতীকে প্রতিদ্ব›িদ্বতা করছে। আপনারা জানেন, প্রচলিত আইন ও বন্দোবস্তের মোকাবেলায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এ দেশের হাজার মানুষের বোধ বিশ্বাসের আলোকে ইসলামের নীতিতে দেশ পরিচালনার লক্ষ নিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। আপনাদের থেকে যে স্বতঃস্ফ‚র্ত সাড়া আমরা পাচ্ছি। তা আমাদেরকে আল্পুত করছে। ইনশাআল্লাহ আগামী ১২ তারিখ আপনারা হাতপাখা প্রতীকে ভোট দিয়ে আমাদেরকে বিজয়ী করলে জনপ্রত্যাশার বাংলাদেশ নির্মাণ করবো, ইনশাআল্লাহ।
প্রিয় দেশবাসী!
ভোট অর্থ হলো, আপনি কাউকে আপনার হয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দেয়া। ভোট অর্থ, কাউকে রাষ্ট্র পরিচালনায় যোগ্যতর বলে সাক্ষ্য দেয়া। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তা’য়ালা বলেন,
مَنۡ یَّشۡفَعۡ شَفَاعَۃً حَسَنَۃً یَّكُنۡ لَّهٗ نَصِیۡبٌ مِّنۡهَا ۚ وَ مَنۡ یَّشۡفَعۡ شَفَاعَۃً سَیِّئَۃً یَّكُنۡ لَّهٗ كِفۡلٌ مِّنۡهَا ؕ وَ كَانَ اللّٰهُ عَلٰی كُلِّ شَیۡءٍ مُّقِیۡتًا ﴿۸۵﴾
যে ভাল সুপারিশ করবে, তা থেকে তার জন্য একটি অংশ থাকবে এবং যে মন্দ সুপারিশ করবে তার জন্যও তা থেকে একটি অংশ থাকবে। সুরা আন নিসা-৮৫
এই আয়াতের অর্থ খুবই স্পষ্ট। আপনি যদি ভোটের মাধ্যমে কোন ভালো নীতি ও ব্যক্তির জন্য সুপারিশ করেন তাহলে সেই ভালো নীতি ও ব্যক্তির কৃত ভালো কাজের নেকি আপনি পাবেন। আর যদি আপনি কোন খারাপ নীতি ও ব্যক্তির জন্য সুপারিশ করেন তাহলে সেই খারাপ নীতি ও ব্যক্তির করা অপরাধের পাপের ভাগ আপনার আমলনামাতেও যুক্ত হবে। কোন দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও টাকা পাচার না করেও কেবল ভুল জায়গায় ভোট দেয়ার কারণে আপনার আমলনামায় দুর্নীতি ও সন্ত্রাসের পাপ যুক্ত হতে পারে। তাই ভোট প্রদান কেবল ইহকালীন বিষয়-ই নয় বরং একইসাথে একটি পরকালীন বিষয়ও বটে। তাই ভোট প্রদানে সতর্ক থাকতে হবে।
প্রিয় দেশবাসী!
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ইশতেহার জাতির সাথে একটি প্রতিজ্ঞা। আল্লাহর রহমতে এবং আপনাদের সমর্থনে রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হলে, এই ইশতেহারের প্রতিটি ধারা বাস্তবায়নে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ দৃঢ় প্রতিজ্ঞ থাকবে; ইনশাআল্লাহ। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর ইশতেহারের শিরোনাম রাখা হয়েছে “জনপ্রত্যাশার ইশতেহার”।
ইশতেহারকে আমরা তিনটি অধ্যায়ে উপস্থাপন করছি;
১. রাষ্ট্রগঠনে আমাদের নীতিগত অবস্থান।
২. রাষ্ট্র সংস্কারে আমাদের পরিকল্পনা।
৩. খাতভিত্তিক উন্নয়ন পরিকল্পনা।
এবং “মৌলিক ইশতেহার” শিরোনামে ৩০ টি বিষয় তুলে ধরা হয়েছে।
প্রিয় দেশবাসী!
রাষ্ট্র গঠনে আমরা নীতিগত ০৮ দফা ঘোষণা করেছি,
১. রাষ্ট্র পরিচালনার সকল ক্ষেত্রে ইসলামের মৌলিক নীতিমালার পরিপালন
ইসলাম প্রচলিত অর্থে ধর্ম বলতে যা বোঝায় তার চেয়েও বিস্তৃত একটি ধারণা। বিশ্বাসের সমষ্টি ও ইবাদতের সাথে সাথে ইসলাম জীবন পরিচালনার সকল ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা ও নির্দেশনা দেয়। বিশেষ করে মানুষের সবচেয়ে বড় যৌথ প্রকল্প রাষ্ট্র ও শাসন সংক্রান্ত বিষয়ে ইসলামের নির্ধারিত, বিস্তৃত এবং বহু শতাব্দি চর্চিত রীতি-নীতি ও বিধিমালা রয়েছে। যার আলোকে ১৩শ বছর মানবসভ্যতা শান্তি ও সমৃদ্ধির সাথে পরিচালিত হয়েছে।
২. ক্ষমতার চর্চা ও হস্তান্তরে গণতান্ত্রিক পদ্ধতির অনুসরণ
একটি ন্যায়ভিত্তিক, নিরাপদ, সুশাসিত ও সাম্যভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে। শাসন ও রাষ্ট্র সংক্রান্ত ইসলামের ধারনায় “ক্ষমতার চর্চা” হয় না বরং “দায়িত্ব পালন” এর মনোভাব প্রাধান্য বিস্তার করে। নাগরিকের সাথে শাসকের সম্পর্ক “ক্ষমতার সম্পর্ক” নয় বরং “দায়িত্ব”-এর সম্পর্ক বিরাজ করে। এই নীতিবোধ থেকে রাষ্ট্র পরিচালনা করা হবে এবং দায়িত্ব হস্তান্তরে আগ্রহী দৃষ্টিভঙ্গি লালন করা হবে।
৩. সকল ধর্ম ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্টির অধিকার-সম্মান রক্ষায় প্রতিশ্রæতি
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ দেশ ধর্ম বা জাতি বিবেচনায় কাউকে সংখ্যালঘু বা সংখ্যাগুরু বিবেচনা করবে না।
সকলের ধর্মীয় বিশ্বাস রক্ষা ও পালনের নিরাপদ ও উৎসবমূখর পরিবেশ নিশ্চিত করতে আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।
ক্ষুদ্র নৃগোষ্টির ভাষা ও সংস্কৃতির প্রতি এক ধরণের হুমকি থাকায় তা রক্ষায় বিশেষ কর্মপরিকল্পনা নেয়া হবে।
৪. পারস্পরিক সম্মান ও সহযোগীতামূলক বৈদেশিক সম্পর্ক
ইসলাম প্রতিবেশির সাথে আস্থার ও কল্যাণকামীতার সম্পর্ক গড়ার নির্দেশ দেয়। প্রতিবেশির প্রতি শত্রæতামূলক আচরন থেকে নিষেধ করে। ফলে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ঘোষণা করছে যে,
বাংলাদেশ তার সকল প্রতিবেশি ও বিশ্বের অপরাপর রাষ্ট্রের সাথে পারস্পরিক সন্মান ও সহযোগীতার সম্পর্ক গড়ে তুলবে।
মুসলিম উম্মাহের সমৃদ্ধি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।
৫. সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা
রাষ্ট্র পরিচালনায় সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা করা হবে। দক্ষ ও নিরপেক্ষ প্রশাসন গড়ে তোলা হবে এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানসমূহকে পেশাদারিত্ব, নৈতিকতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে অনুপ্রানিত করা হবে।
সংবিধানে নির্ধারিত ন্যায়পাল প্রতিষ্ঠান অবিলম্বে কার্যকর করা হবে এবং তাকে প্রকৃত অর্থে স্বাধীন ও ক্ষমতাবান করা হবে।
সংসদ সদস্য ও জনপ্রতিনিধিদের সম্পদের হিসাব দায়িত্ব গ্রহণের শুরুতেই এবং পরবর্তী সময়ে নিয়মিতভাবে প্রকাশ করা হবে। ক্ষেত্র বিশেষে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ও দুদক এর সঠিকতা যাচাই করবে।
৬. বৈষম্যবিরোধিতা ও ন্যায্যতা
রাষ্ট্রচিন্তা, আইন প্রণয়ন ও নীতিনির্ধারণের প্রতিটি স্তরে পিছিয়ে পড়া ও বঞ্চিত জনগোষ্ঠীর বাস্তব অভিজ্ঞতা ও প্রয়োজন প্রতিফলিত করা হবে।
বৈষম্যকে একটি কাঠামোগত সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করে তার আইনগত, প্রাতিষ্ঠানিক ও সামাজিক প্রতিকার নিশ্চিত করা হবে।
একটি কার্যকর বৈষম্যবিরোধী আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা হবে।
জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে স্বাধীন, সক্ষম ও জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলা হবে।
তৃতীয় লিঙ্গ/হিজড়া জনগোষ্ঠীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণসহ সকল ক্ষেত্রে বৈষম্যহীন অভিগম্যতা নিশ্চিত করা হবে।
শরীয়াহ মোতাবেক নারীদের সম্পত্তির উত্তরাধিকার নিশ্চিত করতে আইনগত ও সামাজিক বাস্তবায়ন জোরদার করা হবে।
৭. দুর্নীতির মূলোৎপাটন
বাংলাদেশের প্রধান সমস্যা হলো দুর্নীতি। ইসলামী আন্দোলন নৈতিক, আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক বহুমাত্রিক কৌশলে ও কর্মপন্থায় দুর্নীতিকে ক্রমান্বয়ে শুণ্যের কোঠায় নামিয়ে আনবে, ইনশাআল্লাহ।
রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি প্রতিরোধ করা হবে, আর্থিক খাতে স্বচ্ছতা জোরদার করা হবে এবং বাজার ও সেবাখাতে সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করা হবে।
ক্স রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের দুর্নীতির ক্ষেত্রে দৃষ্টান্তমূলক ও প্রকাশ্য শাস্তি নিশ্চিত করা হবে, যাতে আইনের ঊর্ধ্বে কেউ না থাকে।
৮. নারীর মর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠা
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ নারীর প্রতি দায় বোধ করে এবং নারীর বিদ্যমান পরিস্থিতি যে সমস্যাজনক তাও স্বীকার করে। সেজন্য নারীর মর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় এই ভূমির হাজার বছরের বোধ-বিশ্বাস ও ঐতিহ্যের আলোকে করণীয় সকল পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
আমরা দৃঢ়তার সাথে বলতে চাই যে, নারীর কর্মসংস্থান, অধিকার, মর্যাদা ও স্বাধীনতার জন্য ইসলাম-ই সবচেয়ে কার্যকর নীতি। আমাদের ইশতেহারের পরতে-পরতে তার প্রতিফলন দেখা যাবে ইনশাআল্লাহ।
প্রিয় দেশবাসী ভাই ও বোনেরা!
রাষ্ট্র গঠনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ৬ দফা ঘোষণা করছে।
১. মহান মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রতি দায়বদ্ধতা
মহান মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রত্যাশা পুরোমাত্রায় বাস্তবায়ন করা হবে।
২. পিআর পদ্ধতিতে জাতীয় নির্বাচন
বাংলাদেশের বিদ্যমান রাজনৈতিক সংস্কৃতি সুস্থ্য করতে এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা দুর করতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনে করে পিআর পদ্ধতি একটি কার্যকর সমাধান। সেজন্য আমরা ক্ষমতায় গেলে পিআর পদ্ধতি প্রবর্তন করবো।
৩. ক্ষমতার ভারসাম্য নিশ্চিত করা
বিগত ১৭ বছরের জুলুম শাহী দেশের বিদ্যমান সংবিধান মেনেই স্বৈরাচারী হয়ে উঠেছিলো। আমাদের সংবিধানে এবং রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে সেই সুযোগ করে দেয়া আছে। রাষ্ট্র ও রাজনীতিতে ক্ষমতার ভারাসাম্য নষ্ট করে একক ব্যক্তিকে অতিমাত্রায় ক্ষমতায়িত করা আছে। আমরা ক্ষমতার ভারসাম্য নিশ্চিত করবো।
৪. সেবাভিত্তিক দক্ষ ও সৎ জনপ্রশাসন গড়ে তোলা
বাংলাদেশ উপনিবেশন থেকে দুই-দুইবার স্বাধীনতা অর্জন করেছে। কিন্তু তিক্ত বাস্তবতা হলো, আমাদের জনপ্রশাসন এখনো বিট্রিশ আইন, আচার-প্রথা ও রীতি-নীতিতে পরিচালিত হয়। আমরা এর আমূল পরিবর্তন আনবো।
জনসেবামুখি, দক্ষতা ও জবাবদিহিতামূলক জনপ্রশাসন গড়ে তুলবো।
সরকারী ব্যয়ের অগ্রাধিকার নির্ধারণ ও ব্যয়ের দক্ষতা ও উৎকর্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ‘পাবলিক এক্সপেন্ডিচার রিভিউ কমিশন’ গঠন করা হবে।
৫. রাজস্ব পরিধির সম্প্রসারণ
রাজস্ব আয়-জিডিপি’র হারের উলে¬খযোগ্য বৃদ্ধি করে আগামী পাঁচ বছরে এ হার দক্ষিণ এশিয়ার গড় হারের সমপর্যায়ে (১৪-১৫%) উন্নিত করা হবে।
এন.বি.আর-এর যেসব সংস্কার কার্যক্রম গৃহীত হয়েছে সেগুলির বাস্তবায়ন করা হবে।
৬. স্বনির্ভর শক্তিশালী ও বহুমাত্রিক ডিফেন্স সিস্টেম গড়ে তোলা
বাংলাদেশ একটি স্বাধীন দেশ। বর্তমান বিশ্বব্যবস্থায় স্বাধীনতা টিকিয়ে রাখা দুস্কর। মতাদর্শগত ভিন্নতার কারণে অন্য দেশের স্বার্বভৌমত্ব লংঘন করার ঘটনা খুবই সাধারণ ঘটনায় পরিনত হয়েছে। সেজন্য আমরা স্বনির্ভর ও শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলবো। আকাশ, নৌ ও স্থল বাহিনীর সক্ষমতা বিশ্বমানের করে তুলবো।
প্রিয় দেশবাসী!
ইশতেহারের মৌলিক অংশগুলো একত্রে আপনাদের সামনে তুলে ধরছি,
১. দেশের স্থায়ী শান্তি ও মানবতার সার্বিক মুক্তির লক্ষ্যে রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন।
২. দুর্নীতি, দুঃশাসন, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, দখলবাজি, মাদকমুক্ত কল্যাণরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা।
৩. সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সুশাসন ও ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা।
৪. রাষ্ট্রপরিচালনায় সর্বত্র শরীয়াহ’র প্রাধান্য।
৫. কৃষি ও শিল্পবিপ্লব ঘটিয়ে বেকার ও দারিদ্র্যমুক্ত এবং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধশালী দেশ গঠন।
৬. নৈতিকতায় সমৃদ্ধ কর্মমুখী, বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থা।
৭. সার্বজনীন কর্মসংস্থান।
৮. পর্যায়ক্রমিক রাষ্ট্রসংস্কার।
৯. মহান মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রত্যাশার প্রতি দায়বদ্ধতা।
১০. আর্থিক, সামরিক ও ক‚টনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধি।
১১. নারী, শ্রমিক ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকারসহ সকল জনগোষ্ঠীর মৌলিক মানবাধিকারের সুরক্ষা।
১২. রাষ্ট্র-সমাজ ও অর্থনীতিতে বৈষম্য বিলোপ।
১৩. সকলের জন্য সাশ্রয়ী ও উন্নত স্বাস্থ্যব্যবস্থা।
১৪. পরিবেশ দূষণ রোধ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও জলবায়ু অভিঘাত ব্যবস্থাপনায় গুরুত্ব।
১৫. ধর্মীয় স্বাধীনতা, নিরাপত্তা ও পারস্পরিক সহাবস্থান।
১৬. দুর্নীতি-সন্ত্রাস দমন নয়; নির্মূলকরণ কর্মসূচিও গ্রহণ।
১৭. শুধু আইনের শাসন নয়; ন্যায়ের শাসন প্রতিষ্ঠা।
১৮. চজ পদ্ধতি বাস্তবায়ন।
১৯. মানুষের সার্বিক কল্যাণ প্রতিষ্ঠায় ধর্ম ও রাজনীতির সমন্বয়।
২০. দুর্নীতি, সন্ত্রাস, খুন ও অনৈতিক পেশার সাথে জড়িতদের রাজনীতিতে নিষিদ্ধ করণ।
২১. খুন, গুম, মিথ্যা, গায়েবী মামলা, জুলুম, নির্যাতন ও দুঃশাসনের বিলোপ।
২২. জনগণের বাক-স্বাধীনতা এবং গণমাধ্যমের নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করা।
২৩. নারীদের শুধু সমঅধিকার নয়; অগ্রাধিকার প্রতিষ্ঠা করা।
২৪. শিল্পোদ্যোক্তাদের ঋণ প্রদান, গ্যাস, বিদুূৎ, পানি, স্যুয়ারেজ, আমদানী-রফতানী কার্যক্রমে ওয়ানস্টপ সার্ভিস কর্মসূচি গ্রহণ।
২৫. সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে জাতীয়করণ।
২৬. মৎস ও প্রাণী সম্পদখাতে বিদ্যমান সমস্যা দুর করে এইখাতে বাংলাদেশকে স্বয়ংসম্পূর্ণ ও বৈশ্বিক মানে উন্নিত করা।
২৭. সড়ককে নিরাপদ করার জন্য প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা গ্রহণ।
২৮. বাংলাদেশকে ১৫ বছরের মধ্যে উন্নত ও কল্যাণরাষ্ট্রে পরিণত করা।
২৯. শ্রমের মর্যাদা ও শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা।
৩০. সরকারী চাকরিজীবীদের জাতীয় পে-স্কেল যুগোপযোগী এবং সর্বোচ্চ সন্মানজনক করা হবে।
১২ দফা বিশেষ কর্মসূচি
বিশেষ কর্মসূচি
১. প্রতি মাসে ৫,০০০/- টাকা হতদরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য নগদ সহায়তা।
২. প্রাথমিক স্তরের সকল শিক্ষার্থীর জন্য প্রতিদিন একবেলা করে পুষ্টিকর খাবার।
৩. ১৮ থেকে ২৪ বছরের যুবদের জন্য সুদমুক্ত, জামানতবিহীন এককালীন ঋণের ব্যবস্থা করা।
৪. সার্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা কর্মসূচি বা স্বাস্থ্যকার্ড, ভর্তুকিমূল্যে কৃষি উপকরণ দেয়া ও বিভিন্ন সেবা সহজে পৌছাতে কৃষিকার্ড চালু করা।
৫. ন্যাশনাল জব পোর্টাল। যেখানে সব পেশার চাকরি প্রার্থীদের জন্য দেশে ও বিদেশে চাকরি খোঁজা, পরামর্শ প্রদান ও প্রশিক্ষণ গ্রহণের সুবিধা থাকবে।
৬. কর্মজীবী মায়েদের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক দিবাযতœ কেন্দ্র গড়ে তোলা।
৭. ঢাকাসহ সকল নগরে সরকার নিয়ন্ত্রিত ও ফ্রাঞ্চাইজ ভিত্তিক বাস ব্যবস্থাপনা।
৮. সেবাকেন্দ্রিক কর ব্যবস্থা।
৯. সকলের জন্য নির্বিঘœ নাগরিক সেবা।
১০. নারী পোষাক কর্মীদের জন্য আবাসন ব্যবস্থা।
১১. দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রনে রাখতে অবৈধ সিন্ডিকেট ভেঙ্গে দেয়া হবে।
১২. কওমি সনদের স্বীকৃতির পুর্ণবাস্তবায়ন ও রাষ্ট্রীয় পদে ওলামায়ে কেরামের পদায়ন।
প্রিয় দেশবাসী!
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরে দেশ থেকে স্বৈরতন্ত্রের স্থায়ী বিলোপ নিশ্চিত করতে আমরা সংস্কার কমিশনে জোড় প্রচেষ্টা চালিয়েছি। আমাদের প্রত্যাশা পূর্ণমাত্রায় প্রতিফলিত না হলেও জুলাই সনদ সংস্কারের পথে একটি বড় অগ্রগতি। জুলাই সনদ কোন দলের বিপক্ষে না। তাই আগামী ১২ তারিখে জুলাই সনদের পক্ষে হ্যা ভোট প্রদান করুন। আপনার হ্যা ভোট সংস্কারের কাক্সিক্ষত যাত্রাকে অনেকদুর এগিয়ে নিয়ে যাবে; ইনশাআল্লাহ।
প্রিয় তারুণ্য!
তোমরা এবার প্রথম ভোট দিতে যাচ্ছো। তোমাদের প্রথম ভোট দেশ, জাতি ও মানবতার জন্য পরিবর্তনে পক্ষে হোক। তোমাদের প্রথম ভোট নয়া বন্দোবস্ত ইসলামের পক্ষে হাতপাখা প্রতিকে হোক। আমি তোমাদেরকে কথা দিচ্ছি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ তোমাদের ভোট নিয়ে নিজেদের আখের গোছাবে না। বরং তোমাদের জন্য উন্নত বিজ্ঞানভিত্তিক নৈতিক শিক্ষার ব্যবস্থা করবো। তোমাদের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করবো এবং বেকারত্ব দূর করবো। তোমাদেরকে সাথে নিয়ে শান্তি ও সমৃদ্ধ দেশ গঠন করবে।
প্রশাসনে কর্মরত প্রিয় সদস্যবৃন্দ!
মনে রাখতে হবে আপনারা রাষ্ট্রের সেবায় নিয়োজিত। তাই সবধরনের রাগ-বিরাগ, প্রলোভন এ ভীতির ঊর্ধ্বে উঠে কেবল-ই রাষ্ট্রের ও জনগণের স্বার্থে কাজ করুন। মানুষের বহুদিনের আরাধ্য ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে আপনাদের ভ‚মিকা খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। গোটা জাতি আপনাদের প্রতি প্রত্যাশা নিয়ে তাকিয়ে আছে।
প্রিয় দেশবাসী!
আমি আবারো আপনাদের প্রতি আহবান করছি যে, ১২ ফেব্রæয়ারি, ২০২৬ইং তারিখে দলে দলে ভোট কেন্দ্রে আসুন। মনো রাখবেন একটি ভোটে কেহ ধনীও হয় না, আবার গরিবও হয় না। কিন্তু একটি ভোটে দেশ ও আপনার ভাগ্য নির্মিত হয়। তাই দীর্ঘ দিনের পরিক্ষিত সৎ, যোগ্য ও আলাহভীরু মানুষের প্রতীক হাতপাখা প্রতীকে ভোট দিন। কথা দিচ্ছি, বাংলাদেশের মানুষের বহুদিনের আরাধ্য সমৃদ্ধি, শান্তি ও মুক্তি আসবে, ইনশাআল্লাহ।
আজকের মত এখানে শেষ করছি। আবারো দেখা হবে, কথা হবে।
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ।






















