ঢাকা ০১:৫০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৭ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

ডা. শফিকুর রহমান

১২ ফেব্রুয়ারি ইতিহাস গড়ার দিন

নিজস্ব প্রতিবেদক, টাঙ্গাইল
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১০:২৪:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ১৯ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচন একটি ঐতিহাসিক নির্বাচন। সাড়ে ১৪শ’ শহীদের রক্ত, ৩৪ হাজার আহত ও পঙ্গুত্ববরণকারীদের ত্যাগ এবং শহীদ পরিবারের হাহাকারের ওপর দাঁড়িয়ে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এ কারণে এই নির্বাচনে ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালনের সুযোগ এসেছে।

বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে টাঙ্গাইল শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে জেলা জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

গণভোট প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এবারের নির্বাচনে দুটি ভোট রয়েছে। প্রথম ভোট ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে। ‘হ্যাঁ’ ভোট বিজয়ী হলে বাংলাদেশ জিতবে, আর ‘না’ ভোট বিজয়ী হলে বাংলাদেশ পরাজিত হবে। ‘হ্যাঁ’ মানে আজাদি, আর ‘না’ মানে গোলামি। যারা ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে অবস্থান নেবেন, তারা প্রমাণ করবেন যে তারা চাঁদাবাজি, দুর্নীতি, মামলাবাজি ও মা-বোনদের অপমানের রাজনীতির সঙ্গে নেই। তারা নতুন বাংলাদেশ এবং ২০২৪ সালের আকাঙ্ক্ষার পক্ষে রয়েছে। আমরা সেই আকাঙ্ক্ষাকে সম্মান জানিয়ে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেব—ইনশাল্লাহ।

তিনি বলেন, দ্বিতীয় ভোটটি দেশ গড়ার ভোট। যারা আগামী দিনে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নেবেন, তাদের অতীত চরিত্র ও সততা বিবেচনায় নিতে হবে। যারা বারবার সুযোগ পেয়েও দুর্নীতিতে লিপ্ত হয়েছে, কিংবা এখনো দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত, তাদের নতুন করে সুযোগ দেওয়ার কোনো কারণ নেই।

ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, নতুন বাংলাদেশ গড়তে ১১টি দল একত্রিত হয়েছে। প্রত্যেকটি দল নিজ নিজ সম্মান ও মর্যাদা অক্ষুণ্ন রেখে নির্বাচনে কাজ করছে। অতীত ৫৪ বছরে বহু নির্বাচন ও সরকার হয়েছে। ভোটের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি ভোটের পর বাস্তবায়ন না হওয়ায় সমাজে বৈষম্য, অপরাধ ও দুর্নীতি চরম আকার ধারণ করেছে। এর প্রতিবাদেই যুব সমাজ ‘উই মাস্ট জাস্টিস’ স্লোগান নিয়ে রাজপথে নেমেছিল।

তিনি বলেন, যুবসমাজ ন্যায়বিচার, শিক্ষা, কর্মসংস্থান, নারী নিরাপত্তা, ব্যবসায়ীদের স্বাধীনতা, শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি এবং কৃষকের জন্য নিরাপদ ও আধুনিক কৃষি ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছে। এসব দাবি কোনো অপরাধ নয়, বরং একটি সুস্থ ও মানবিক রাষ্ট্রের মৌলিক চাহিদা।

সভায় জামায়াতে ইসলামীর আমীর টাঙ্গাইল জেলার আটটি আসনের দলীয় ও শরিক দলের প্রার্থীদের হাতে প্রতীক তুলে দেন। এ সময় টাঙ্গাইল-১ (মধুপুর-ধনবাড়ি) আসনে মুহাম্মদ আব্দুল্লাহেল কাফী, টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর) আসনে মো. হুমায়ুন কবীর, টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসনে খন্দকার আব্দুর রাজ্জাক, টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনে আহসান হাবিব মাসুদ, টাঙ্গাইল-৬ (নাগরপুর-দেলদুয়ার) আসনে একেএম আব্দুল হামিদ, টাঙ্গাইল-৭ (মির্জাপুর) আসনে মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ এবনে আবুল হোসেন তালুকদার, টাঙ্গাইল-৮ (বাসাইল-সখীপুর) আসনে মো. শফিকুল ইসলাম খানকে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক এবং টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনে এনসিপির প্রার্থী সাইফুল্লা হায়দারকে শাপলাকলি প্রতীক প্রদান করা হয়।

টাঙ্গাইল জেলা জামায়াতের আমীর আহসান হাবিব মাসুদের সভাপতিত্বে আয়োজিত জনসভায় জামায়াতে ইসলামী ও শরিক দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা এবং প্রার্থীরা বক্তব্য রাখেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

ডা. শফিকুর রহমান

১২ ফেব্রুয়ারি ইতিহাস গড়ার দিন

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১০:২৪:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচন একটি ঐতিহাসিক নির্বাচন। সাড়ে ১৪শ’ শহীদের রক্ত, ৩৪ হাজার আহত ও পঙ্গুত্ববরণকারীদের ত্যাগ এবং শহীদ পরিবারের হাহাকারের ওপর দাঁড়িয়ে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এ কারণে এই নির্বাচনে ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালনের সুযোগ এসেছে।

বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে টাঙ্গাইল শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে জেলা জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

গণভোট প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এবারের নির্বাচনে দুটি ভোট রয়েছে। প্রথম ভোট ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে। ‘হ্যাঁ’ ভোট বিজয়ী হলে বাংলাদেশ জিতবে, আর ‘না’ ভোট বিজয়ী হলে বাংলাদেশ পরাজিত হবে। ‘হ্যাঁ’ মানে আজাদি, আর ‘না’ মানে গোলামি। যারা ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে অবস্থান নেবেন, তারা প্রমাণ করবেন যে তারা চাঁদাবাজি, দুর্নীতি, মামলাবাজি ও মা-বোনদের অপমানের রাজনীতির সঙ্গে নেই। তারা নতুন বাংলাদেশ এবং ২০২৪ সালের আকাঙ্ক্ষার পক্ষে রয়েছে। আমরা সেই আকাঙ্ক্ষাকে সম্মান জানিয়ে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেব—ইনশাল্লাহ।

তিনি বলেন, দ্বিতীয় ভোটটি দেশ গড়ার ভোট। যারা আগামী দিনে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নেবেন, তাদের অতীত চরিত্র ও সততা বিবেচনায় নিতে হবে। যারা বারবার সুযোগ পেয়েও দুর্নীতিতে লিপ্ত হয়েছে, কিংবা এখনো দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত, তাদের নতুন করে সুযোগ দেওয়ার কোনো কারণ নেই।

ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, নতুন বাংলাদেশ গড়তে ১১টি দল একত্রিত হয়েছে। প্রত্যেকটি দল নিজ নিজ সম্মান ও মর্যাদা অক্ষুণ্ন রেখে নির্বাচনে কাজ করছে। অতীত ৫৪ বছরে বহু নির্বাচন ও সরকার হয়েছে। ভোটের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি ভোটের পর বাস্তবায়ন না হওয়ায় সমাজে বৈষম্য, অপরাধ ও দুর্নীতি চরম আকার ধারণ করেছে। এর প্রতিবাদেই যুব সমাজ ‘উই মাস্ট জাস্টিস’ স্লোগান নিয়ে রাজপথে নেমেছিল।

তিনি বলেন, যুবসমাজ ন্যায়বিচার, শিক্ষা, কর্মসংস্থান, নারী নিরাপত্তা, ব্যবসায়ীদের স্বাধীনতা, শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি এবং কৃষকের জন্য নিরাপদ ও আধুনিক কৃষি ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছে। এসব দাবি কোনো অপরাধ নয়, বরং একটি সুস্থ ও মানবিক রাষ্ট্রের মৌলিক চাহিদা।

সভায় জামায়াতে ইসলামীর আমীর টাঙ্গাইল জেলার আটটি আসনের দলীয় ও শরিক দলের প্রার্থীদের হাতে প্রতীক তুলে দেন। এ সময় টাঙ্গাইল-১ (মধুপুর-ধনবাড়ি) আসনে মুহাম্মদ আব্দুল্লাহেল কাফী, টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর) আসনে মো. হুমায়ুন কবীর, টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসনে খন্দকার আব্দুর রাজ্জাক, টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনে আহসান হাবিব মাসুদ, টাঙ্গাইল-৬ (নাগরপুর-দেলদুয়ার) আসনে একেএম আব্দুল হামিদ, টাঙ্গাইল-৭ (মির্জাপুর) আসনে মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ এবনে আবুল হোসেন তালুকদার, টাঙ্গাইল-৮ (বাসাইল-সখীপুর) আসনে মো. শফিকুল ইসলাম খানকে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক এবং টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনে এনসিপির প্রার্থী সাইফুল্লা হায়দারকে শাপলাকলি প্রতীক প্রদান করা হয়।

টাঙ্গাইল জেলা জামায়াতের আমীর আহসান হাবিব মাসুদের সভাপতিত্বে আয়োজিত জনসভায় জামায়াতে ইসলামী ও শরিক দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা এবং প্রার্থীরা বক্তব্য রাখেন।