ঢাকা ১২:৪৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৭ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

আমেরিকাকে কড়া হুঁশিয়ারি খামেনির

বাংলা টাইমস ডেস্ক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৯:১৯:৫৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ১৭ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ইরানকে ঘিরে ফের ঘনাচ্ছে যুদ্ধের আশঙ্কা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামরিক হুঁশিয়ারি ও পশ্চিম এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপক সেনা সমাবেশের মধ্যে রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) আমেরিকাকে চরম সতর্কবার্তা দিলেন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনি।

তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ইরানের ওপর হামলা হলে তা শুধু দুই দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না—গোটা মধ্যপ্রাচ্য আঞ্চলিক যুদ্ধে জড়িয়ে পড়বে।

রবিবার ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক বক্তব্যে খামেনি বলেন, “আমেরিকা যদি যুদ্ধ শুরু করে, তাহলে তার ভয়াবহ পরিণতির দায়ও তাদেরই নিতে হবে। ইরানের বিরুদ্ধে হামলা চালানো হলে সেই সংঘাত শেষ পর্যন্ত পুরো অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়বে।”

তিনি আরও বলেন, “ইরান কাউকে উসকানি দেয় না এবং কোনো দেশের বিরুদ্ধে আগ্রাসনের ইচ্ছাও আমাদের নেই। কিন্তু আমাদের ভূখণ্ডে হামলা হলে উপযুক্ত জবাব দিতে আমরা সম্পূর্ণ প্রস্তুত।”

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালালে তা মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি থেকেই পরিচালিত হতে পারে। সে ক্ষেত্রে যে দেশ বা দেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করে হামলা হবে, তাকেও লক্ষ্যবস্তু করা হবে বলে আগেই হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। এতে ধাপে ধাপে পুরো মধ্যপ্রাচ্যই অস্থির সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। কূটনৈতিক মহলের মতে, এমন পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের লাভের চেয়ে ক্ষতির আশঙ্কাই বেশি।

উল্লেখ্য, কিছুদিন আগেও ধারণা করা হচ্ছিল যে ইরান ইস্যুতে উত্তেজনা কমছে। সরকারবিরোধী আন্দোলনে জড়িত আট শতাধিক ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ডের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসায় তেহরানকে স্বাগত জানিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তখন মনে করা হচ্ছিল, সামরিক সংঘাতের পথ থেকে সরে আসতে পারে ওয়াশিংটন।

তবে সেই ধারণায় জল ঢেলে পশ্চিম এশিয়ায় বড় ধরনের নৌ ও সামরিক শক্তি মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। একাধিক রণতরী, বিপুল সেনা ও যুদ্ধবিমান পাঠানো হয়েছে ওই অঞ্চলে। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরান জানিয়েছে, তারা শিগগিরই হরমুজ প্রণালীতে পাঁচ দিনব্যাপী একটি বড় সামরিক মহড়া চালানোর পরিকল্পনা করছে।

এর জবাবে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড সতর্ক করে জানায়, ওই অঞ্চলে মার্কিন বাহিনী, মিত্র দেশ কিংবা বাণিজ্যিক জাহাজে কোনো ধরনের হামলা হলে কঠোর জবাব দেওয়া হবে। তাদের ভাষায়, “যে কোনো অসতর্ক পদক্ষেপ বড় বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।”

সব মিলিয়ে ইরান-আমেরিকা উত্তেজনায় নতুন করে সিঁদুরে মেঘ দেখছে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহল।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

আমেরিকাকে কড়া হুঁশিয়ারি খামেনির

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৯:১৯:৫৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ইরানকে ঘিরে ফের ঘনাচ্ছে যুদ্ধের আশঙ্কা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামরিক হুঁশিয়ারি ও পশ্চিম এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপক সেনা সমাবেশের মধ্যে রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) আমেরিকাকে চরম সতর্কবার্তা দিলেন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনি।

তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ইরানের ওপর হামলা হলে তা শুধু দুই দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না—গোটা মধ্যপ্রাচ্য আঞ্চলিক যুদ্ধে জড়িয়ে পড়বে।

রবিবার ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক বক্তব্যে খামেনি বলেন, “আমেরিকা যদি যুদ্ধ শুরু করে, তাহলে তার ভয়াবহ পরিণতির দায়ও তাদেরই নিতে হবে। ইরানের বিরুদ্ধে হামলা চালানো হলে সেই সংঘাত শেষ পর্যন্ত পুরো অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়বে।”

তিনি আরও বলেন, “ইরান কাউকে উসকানি দেয় না এবং কোনো দেশের বিরুদ্ধে আগ্রাসনের ইচ্ছাও আমাদের নেই। কিন্তু আমাদের ভূখণ্ডে হামলা হলে উপযুক্ত জবাব দিতে আমরা সম্পূর্ণ প্রস্তুত।”

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালালে তা মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি থেকেই পরিচালিত হতে পারে। সে ক্ষেত্রে যে দেশ বা দেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করে হামলা হবে, তাকেও লক্ষ্যবস্তু করা হবে বলে আগেই হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। এতে ধাপে ধাপে পুরো মধ্যপ্রাচ্যই অস্থির সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। কূটনৈতিক মহলের মতে, এমন পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের লাভের চেয়ে ক্ষতির আশঙ্কাই বেশি।

উল্লেখ্য, কিছুদিন আগেও ধারণা করা হচ্ছিল যে ইরান ইস্যুতে উত্তেজনা কমছে। সরকারবিরোধী আন্দোলনে জড়িত আট শতাধিক ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ডের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসায় তেহরানকে স্বাগত জানিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তখন মনে করা হচ্ছিল, সামরিক সংঘাতের পথ থেকে সরে আসতে পারে ওয়াশিংটন।

তবে সেই ধারণায় জল ঢেলে পশ্চিম এশিয়ায় বড় ধরনের নৌ ও সামরিক শক্তি মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। একাধিক রণতরী, বিপুল সেনা ও যুদ্ধবিমান পাঠানো হয়েছে ওই অঞ্চলে। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরান জানিয়েছে, তারা শিগগিরই হরমুজ প্রণালীতে পাঁচ দিনব্যাপী একটি বড় সামরিক মহড়া চালানোর পরিকল্পনা করছে।

এর জবাবে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড সতর্ক করে জানায়, ওই অঞ্চলে মার্কিন বাহিনী, মিত্র দেশ কিংবা বাণিজ্যিক জাহাজে কোনো ধরনের হামলা হলে কঠোর জবাব দেওয়া হবে। তাদের ভাষায়, “যে কোনো অসতর্ক পদক্ষেপ বড় বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।”

সব মিলিয়ে ইরান-আমেরিকা উত্তেজনায় নতুন করে সিঁদুরে মেঘ দেখছে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহল।