ঢাকা ১২:৫৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৭ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

ভারত–রাশিয়া তেল বাণিজ্য কমাতে চাপ আমেরিকার

ভেনেজুয়েলা থেকে তেল কিনলে শুল্ক প্রত্যাহারের ইঙ্গিত

বাংলা টাইমস ডেস্ক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৯:২৭:৪৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ১৭ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রাশিয়া থেকে তেল আমদানিকে কেন্দ্র করে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক সম্পর্কে নতুন করে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। তবে এবার সেই উত্তেজনা প্রশমনে শর্তসাপেক্ষ প্রস্তাব দিয়েছে ওয়াশিংটন। ভেনেজুয়েলা থেকে তেল কিনলে ভারতের ওপর আরোপিত উচ্চ শুল্ক প্রত্যাহারের পাশাপাশি দুই দেশের ঝুলে থাকা বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করার ইঙ্গিত দিয়েছে মার্কিন প্রশাসন।

রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ভারতের কাছে প্রস্তাব রেখেছে—রাশিয়ার পরিবর্তে ভেনেজুয়েলা থেকে তেল আমদানি বাড়াতে হবে। এই প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে ভারতের ওপর আরোপিত শুল্ক প্রত্যাহার করা হবে।

প্রসঙ্গত, রাশিয়া থেকে তেল কেনার অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্র প্রথমে ভারতের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে। পরবর্তীতে আরও ২৫ শতাংশ শুল্ক যুক্ত হওয়ায় মোট শুল্কের হার দাঁড়ায় ৫০ শতাংশে। এর ফলে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

রয়টার্স জানায়, এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতেই ভারতকে রুশ তেলের বিকল্প উৎস হিসেবে ভেনেজুয়েলার প্রস্তাব দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ২০২৫ সালেই ভেনেজুয়েলা থেকে তেল কেনার ক্ষেত্রে ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিল আমেরিকা। তবে এখন সেই অবস্থান থেকে সরে এসে দেশটিকে ভারতের সম্ভাব্য জ্বালানি সরবরাহকারী হিসেবে সামনে আনছে ওয়াশিংটন।

মার্কিন প্রশাসনের দাবি, ভারতের কাছ থেকে তেল বিক্রির মাধ্যমে রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধের অর্থ জোগাচ্ছে। তাই রুশ তেলের ওপর নির্ভরতা কমানো জরুরি। অন্যদিকে ভারত বরাবরই বলে এসেছে, জ্বালানি নিরাপত্তার স্বার্থে যেখানে সাশ্রয়ী মূল্যে তেল পাওয়া যায়, সেখান থেকেই আমদানি করা হবে।

কূটনৈতিক মহলের মতে, ভারত যদি রাশিয়া থেকে তেল আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দেয়, তবে এর প্রভাব শুধু জ্বালানি খাতেই নয়—দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্কেও পড়তে পারে। কেউ কেউ এটিকে যুক্তরাষ্ট্রের চাপের কাছে ভারতের নীতিগত আপস হিসেবেও দেখছেন।

তবে রয়টার্সের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইতোমধ্যে রাশিয়া থেকে তেল আমদানি কমানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে ভারত। জানুয়ারি মাসে যেখানে প্রতিদিন প্রায় ১২ লাখ ব্যারেল রুশ তেল আমদানি করা হয়েছিল, সেখানে ফেব্রুয়ারিতে তা কমে ১০ লাখ ব্যারেলে নেমে আসতে পারে। মার্চে এই পরিমাণ আরও কমে ৮ লাখ এবং ভবিষ্যতে ৫–৬ লাখ ব্যারেলে নামার সম্ভাবনাও রয়েছে।

এ বিষয়ে এখনো ভারত সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

ভারত–রাশিয়া তেল বাণিজ্য কমাতে চাপ আমেরিকার

ভেনেজুয়েলা থেকে তেল কিনলে শুল্ক প্রত্যাহারের ইঙ্গিত

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৯:২৭:৪৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

রাশিয়া থেকে তেল আমদানিকে কেন্দ্র করে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক সম্পর্কে নতুন করে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। তবে এবার সেই উত্তেজনা প্রশমনে শর্তসাপেক্ষ প্রস্তাব দিয়েছে ওয়াশিংটন। ভেনেজুয়েলা থেকে তেল কিনলে ভারতের ওপর আরোপিত উচ্চ শুল্ক প্রত্যাহারের পাশাপাশি দুই দেশের ঝুলে থাকা বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করার ইঙ্গিত দিয়েছে মার্কিন প্রশাসন।

রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ভারতের কাছে প্রস্তাব রেখেছে—রাশিয়ার পরিবর্তে ভেনেজুয়েলা থেকে তেল আমদানি বাড়াতে হবে। এই প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে ভারতের ওপর আরোপিত শুল্ক প্রত্যাহার করা হবে।

প্রসঙ্গত, রাশিয়া থেকে তেল কেনার অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্র প্রথমে ভারতের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে। পরবর্তীতে আরও ২৫ শতাংশ শুল্ক যুক্ত হওয়ায় মোট শুল্কের হার দাঁড়ায় ৫০ শতাংশে। এর ফলে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

রয়টার্স জানায়, এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতেই ভারতকে রুশ তেলের বিকল্প উৎস হিসেবে ভেনেজুয়েলার প্রস্তাব দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ২০২৫ সালেই ভেনেজুয়েলা থেকে তেল কেনার ক্ষেত্রে ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিল আমেরিকা। তবে এখন সেই অবস্থান থেকে সরে এসে দেশটিকে ভারতের সম্ভাব্য জ্বালানি সরবরাহকারী হিসেবে সামনে আনছে ওয়াশিংটন।

মার্কিন প্রশাসনের দাবি, ভারতের কাছ থেকে তেল বিক্রির মাধ্যমে রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধের অর্থ জোগাচ্ছে। তাই রুশ তেলের ওপর নির্ভরতা কমানো জরুরি। অন্যদিকে ভারত বরাবরই বলে এসেছে, জ্বালানি নিরাপত্তার স্বার্থে যেখানে সাশ্রয়ী মূল্যে তেল পাওয়া যায়, সেখান থেকেই আমদানি করা হবে।

কূটনৈতিক মহলের মতে, ভারত যদি রাশিয়া থেকে তেল আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দেয়, তবে এর প্রভাব শুধু জ্বালানি খাতেই নয়—দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্কেও পড়তে পারে। কেউ কেউ এটিকে যুক্তরাষ্ট্রের চাপের কাছে ভারতের নীতিগত আপস হিসেবেও দেখছেন।

তবে রয়টার্সের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইতোমধ্যে রাশিয়া থেকে তেল আমদানি কমানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে ভারত। জানুয়ারি মাসে যেখানে প্রতিদিন প্রায় ১২ লাখ ব্যারেল রুশ তেল আমদানি করা হয়েছিল, সেখানে ফেব্রুয়ারিতে তা কমে ১০ লাখ ব্যারেলে নেমে আসতে পারে। মার্চে এই পরিমাণ আরও কমে ৮ লাখ এবং ভবিষ্যতে ৫–৬ লাখ ব্যারেলে নামার সম্ভাবনাও রয়েছে।

এ বিষয়ে এখনো ভারত সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।