ঢাকা ১২:২৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৭ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

পুলিশ ফাঁড়ির টয়লেটে থেমে গেল কনস্টেবল শফিকুলের জীবন

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১১:০৩:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬ ২৬ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রাত গভীর হওয়ার আগেই তিনি যেন বুঝে গিয়েছিলেন—আর হয়তো ফেরা হবে না। তাই ভোরের আগে বড় মেয়ের মোবাইলে পাঠিয়ে দেন একটি ছোট্ট বার্তা। সেখানে কোনো অভিযোগ নেই, নেই রাগ কিংবা ক্ষোভ। শুধু লেখা—
“আমি তোমার জন্য কিছু করতে পারলাম না। আমাকে ক্ষমা করে দিও। জুনায়েদ ও জিহাদকে দেখে রাখিও।”

এই বার্তাই হয়ে রইল রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানার এক পুলিশ ফাঁড়িতে কর্মরত কনস্টেবল শফিকুল ইসলামের শেষ কথা।

বুধবার (২৮ জানুয়ারি) সকালে ফাঁড়ির টয়লেট থেকে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় উদ্ধার করা হয় ৪২ বছর বয়সী শফিকুল ইসলামের ঝুলন্ত মরদেহ। খবর পেয়ে সহকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। পরে দুপুর দেড়টার দিকে মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

পরিবার ও পুলিশ সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে মানসিক অবসাদ ও হতাশায় ভুগছিলেন শফিকুল। ঘুমের সমস্যাসহ নানা মানসিক চাপ নিয়ে চিকিৎসকের কাছেও গিয়েছিলেন তিনি। তবুও সেই লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত একা হয়ে পড়েন এই পুলিশ সদস্য।

২০০৩ সালে বাংলাদেশ পুলিশে যোগ দেন শফিকুল ইসলাম। প্রায় দুই দশকের চাকরি জীবনে পেরিয়েছেন বহু কঠিন সময়। কিন্তু নিজের ভেতরের যুদ্ধটা হয়তো আর সামলাতে পারেননি তিনি।

নিহত শফিকুল দুই ছেলে ও এক মেয়ের বাবা। গ্রামের বাড়ি চাঁদপুর জেলার মতলব উত্তর থানার মৌটুপী গ্রামে। পরিবারের সদস্যরা জানান, রাত ৩টা ২৫ মিনিটে পাঠানো খুদে বার্তা পাওয়ার পর থেকেই তাঁকে ফোন করা হচ্ছিল। কিন্তু আর কোনো উত্তর মেলেনি।

নিহতের চাচাতো ভাই পারভেজ মল্লিক বলেন, “শফিকুল অনেক দিন ধরেই ডিপ্রেশনে ভুগছিল। প্রায়ই বলত, ঘুমাতে পারে না। আমরা বুঝতে পারিনি, ভেতরে ভেতরে সে এতটা ভেঙে পড়েছিল।”

যাত্রাবাড়ী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) রাসেল জানান, ফাঁড়ির ওয়াশরুমে ঝুলন্ত অবস্থায় কনস্টেবল শফিকুল ইসলামের মরদেহ পাওয়া যায়। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

একজন পুলিশ সদস্য—যিনি প্রতিদিন অন্যের নিরাপত্তায় দাঁড়িয়ে থাকেন—শেষ পর্যন্ত নিজের যন্ত্রণা কারও সঙ্গে ভাগ করতে পারেননি। রেখে গেলেন শুধু একটি বার্তা, তিনটি সন্তান আর অনেক না বলা কষ্ট।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

পুলিশ ফাঁড়ির টয়লেটে থেমে গেল কনস্টেবল শফিকুলের জীবন

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১১:০৩:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬

রাত গভীর হওয়ার আগেই তিনি যেন বুঝে গিয়েছিলেন—আর হয়তো ফেরা হবে না। তাই ভোরের আগে বড় মেয়ের মোবাইলে পাঠিয়ে দেন একটি ছোট্ট বার্তা। সেখানে কোনো অভিযোগ নেই, নেই রাগ কিংবা ক্ষোভ। শুধু লেখা—
“আমি তোমার জন্য কিছু করতে পারলাম না। আমাকে ক্ষমা করে দিও। জুনায়েদ ও জিহাদকে দেখে রাখিও।”

এই বার্তাই হয়ে রইল রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানার এক পুলিশ ফাঁড়িতে কর্মরত কনস্টেবল শফিকুল ইসলামের শেষ কথা।

বুধবার (২৮ জানুয়ারি) সকালে ফাঁড়ির টয়লেট থেকে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় উদ্ধার করা হয় ৪২ বছর বয়সী শফিকুল ইসলামের ঝুলন্ত মরদেহ। খবর পেয়ে সহকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। পরে দুপুর দেড়টার দিকে মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

পরিবার ও পুলিশ সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে মানসিক অবসাদ ও হতাশায় ভুগছিলেন শফিকুল। ঘুমের সমস্যাসহ নানা মানসিক চাপ নিয়ে চিকিৎসকের কাছেও গিয়েছিলেন তিনি। তবুও সেই লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত একা হয়ে পড়েন এই পুলিশ সদস্য।

২০০৩ সালে বাংলাদেশ পুলিশে যোগ দেন শফিকুল ইসলাম। প্রায় দুই দশকের চাকরি জীবনে পেরিয়েছেন বহু কঠিন সময়। কিন্তু নিজের ভেতরের যুদ্ধটা হয়তো আর সামলাতে পারেননি তিনি।

নিহত শফিকুল দুই ছেলে ও এক মেয়ের বাবা। গ্রামের বাড়ি চাঁদপুর জেলার মতলব উত্তর থানার মৌটুপী গ্রামে। পরিবারের সদস্যরা জানান, রাত ৩টা ২৫ মিনিটে পাঠানো খুদে বার্তা পাওয়ার পর থেকেই তাঁকে ফোন করা হচ্ছিল। কিন্তু আর কোনো উত্তর মেলেনি।

নিহতের চাচাতো ভাই পারভেজ মল্লিক বলেন, “শফিকুল অনেক দিন ধরেই ডিপ্রেশনে ভুগছিল। প্রায়ই বলত, ঘুমাতে পারে না। আমরা বুঝতে পারিনি, ভেতরে ভেতরে সে এতটা ভেঙে পড়েছিল।”

যাত্রাবাড়ী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) রাসেল জানান, ফাঁড়ির ওয়াশরুমে ঝুলন্ত অবস্থায় কনস্টেবল শফিকুল ইসলামের মরদেহ পাওয়া যায়। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

একজন পুলিশ সদস্য—যিনি প্রতিদিন অন্যের নিরাপত্তায় দাঁড়িয়ে থাকেন—শেষ পর্যন্ত নিজের যন্ত্রণা কারও সঙ্গে ভাগ করতে পারেননি। রেখে গেলেন শুধু একটি বার্তা, তিনটি সন্তান আর অনেক না বলা কষ্ট।