ভয়ে কাঁপা চার বছরের শিশুটি, গ্রেপ্তার সেই ‘ম্যানেজার
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৮:৫৯:৩৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬ ৪৬ বার পড়া হয়েছে
স্কুলে যাওয়ার বয়স হয়েছিল মাত্র। নতুন জামা, নতুন ব্যাগ, নতুন স্বপ্ন—সবকিছুর শুরু হওয়ার কথা ছিল নিরাপত্তা আর আদরে। কিন্তু ভর্তি হওয়ার মাত্র সাত দিনের মাথায় সেই স্কুলই চার বছরের শিশুটির জীবনে হয়ে ওঠে ভয়াবহ এক স্মৃতি।
রাজধানীর নয়াপল্টনের ‘শারমিন একাডেমি’তে শিশুটিকে যেভাবে নির্যাতন করা হয়েছে, তা সিসিটিভির ফুটেজে ধরা পড়ে এবং মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। ভিডিও দেখে স্তব্ধ হয়ে যায় মানুষ—ক্ষোভ আর প্রশ্নে ভরে ওঠে চারপাশ।
অবশেষে সেই ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি ও স্কুলটির ব্যবস্থাপক পবিত্র কুমার বড়ুয়াকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) রাতে মিরপুর এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।
১৮ জানুয়ারি স্কুলের অফিস কক্ষে ঘটে ওই ভয়ংকর ঘটনা। ফুটেজে দেখা যায়, স্কুল ইউনিফর্ম পরা ৩–৪ বছরের শিশুটিকে টেনে–হেঁচড়ে একটি কক্ষে নিয়ে যান স্কুলের প্রধান শিক্ষক শারমিন জাহান। প্রথমে চড়, এরপর শুরু হয় আরও নির্মম আচরণ। কক্ষে থাকা শারমিন জাহানের স্বামী ও স্কুলের ব্যবস্থাপক পবিত্র কুমার শিশুটির ওপর চড়াও হন।
কখনো শিশুটির গলা চেপে ধরা, কখনো মুখে হাত—হাতে ছিল স্ট্যাপলার। ভয়ে কাঁপতে থাকা শিশুটি কাঁদছিল, ছটফট করছিল। আরেকজন নারী তাকে ধরে রেখেছিলেন। একপর্যায়ে শিশুটি ভয়ে থুতু ফেললে, তার মাথা শাড়িতে চেপে ধরে বারবার ঝাঁকানো হয়।
এই নির্যাতনের ভিডিও প্রকাশের পর থেকেই অভিযুক্ত দুজন আত্মগোপনে চলে যান। শিশুটির পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়ের হলে পুলিশের তৎপরতায় অবশেষে ধরা পড়েন পবিত্র কুমার।
চার বছরের একটি শিশুর স্কুলজীবনের শুরু এমন হওয়ার কথা ছিল না। এই গ্রেপ্তার শুধু একজন অভিযুক্তকে আটক নয়—এটি নির্যাতনের বিরুদ্ধে ন্যায়বিচারের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মনে করছেন অনেকে।























