ঢাকা ১১:২০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৮ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
টাঙ্গাইল-৫ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী টুকুর নির্বাচনী উঠান বৈঠক শিশু গৃহকর্মী নির্যাতন: আদালতে বর্ণনা শুনে আবেগাপ্লুত সবাই নির্বাসন থেকে ক্ষমতার দ্বারপ্রান্তে তারেক রহমান নির্বাচনে চ্যালেঞ্জিং প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আবির্ভূত জামায়াত আমির সঞ্চয় ও শেয়ার বৃদ্ধিতে বেড়েছে প্রধান উপদেষ্টার সম্পদ যে কেন্দ্রে ভোট দেবেন তারেক রহমান ও শফিকুর রহমান ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের শীর্ষ নেতারা যেসব কেন্দ্রে ভোট দেবেন গুজব ছড়ানোর অপচেষ্টা ব্যর্থ: প্রধান উপদেষ্টা সুন্দরবনে ট্রলারসহ ২৫ জেলে আটক, ৪০০ কেজি মাছের পোনা জব্দ ‘ নির্বাচনের দায়িত্বে পুলিশ শুধু রাবারবুলেট ব্যবহার করবে ‘

তিন বছরের আব্দুল্লাহর শেষ দুপুর

চট্টগ্রাম ব্যুরো
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১১:২২:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬ ৫০ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের দক্ষিণ সোনাপাহাড় এলাকায় বুধবার দুপুরটা অন্য দিনের মতোই ছিল। তিন বছরের আব্দুল্লাহ খেলতে খেলতে মায়ের পেছনেই ঘুরছিল। কিন্তু কয়েক মিনিটের ঝগড়া পাল্টে দিল একটি পরিবারের জীবন—এক শিশুর গল্প থেমে গেল মাত্র তিন বছরেই।

আব্দুল্লাহর বাবা নুরুল আলম রাসেলের পরিবার বলছে, প্রতিবেশী দ্বীন ইসলামের সঙ্গে তাদের দীর্ঘদিনের জমি বিরোধ। প্রায় ১৫ বছর ধরে একই গ্রামের দুই পরিবারের মধ্যে টানাপোড়েন, অভিযোগ আর প্রতিশোধের ক্ষত দাগ জমাট বাঁধছিল।

সেই পুরনো বিরোধই হঠাৎ ফেটে পড়ে বুধবার (২১ জানুয়ারি) দুপুরে। কথাকাটাকাটির পর ঝগড়া বেধে যায়। আব্দুল্লাহর দাদি জানান, ঝগড়ার মাঝেই দ্বীন ইসলাম তার মা রূপা আক্তারকে মারধর করে। প্রাণ বাঁচাতে রূপা ঘরের দিকে দৌড় দেয়, আর ঠিক সেই সময় ঘরের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা ছোট্ট আব্দুল্লাহকে দেখে দ্বীন ইসলাম নাকি তাকে তুলে আছাড় মারে।

একটুকরো মানুষের দেহ মাটিতে পড়তেই থেমে যায় চারপাশের শব্দ। পরিবারের লোকজন ছুটে যায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে—কিন্তু সেখানে পৌঁছানোর আগেই সব শেষ। চিকিৎসক শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন।

গ্রামের মানুষ বলছে, বিরোধ বহু দিনের, শত্রুতাও পুরনো; কিন্তু তিন বছরের একটি জীবন কি এভাবে শেষ হতে পারত?

মায়ের কোলে চুপচাপ ঘুমিয়ে থাকা ছেলেটি এখন মর্গে। লাশ চট্টগ্রাম মেডিকেলে পাঠিয়েছে পুলিশ। ঘটনার পর তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হলেও অভিযুক্ত দ্বীন ইসলাম পলাতক।

জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কাজী নাজমুল হক জানিয়েছেন, অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত চলছে। আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাড়ির উঠোনে এখনও পড়ে আছে আব্দুল্লাহর ছোট্ট খেলনা। তার হাসি-খেলা নেই, তবে তার মৃত্যুর শোক এখন পুরো গ্রামকে থমকে দিয়েছে। একটা পুরনো জমি—একটি মূল্যহীন ঝগড়া—আর তাতে হারিয়ে যাওয়া তিন বছরের একটি জীবন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

তিন বছরের আব্দুল্লাহর শেষ দুপুর

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১১:২২:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের দক্ষিণ সোনাপাহাড় এলাকায় বুধবার দুপুরটা অন্য দিনের মতোই ছিল। তিন বছরের আব্দুল্লাহ খেলতে খেলতে মায়ের পেছনেই ঘুরছিল। কিন্তু কয়েক মিনিটের ঝগড়া পাল্টে দিল একটি পরিবারের জীবন—এক শিশুর গল্প থেমে গেল মাত্র তিন বছরেই।

আব্দুল্লাহর বাবা নুরুল আলম রাসেলের পরিবার বলছে, প্রতিবেশী দ্বীন ইসলামের সঙ্গে তাদের দীর্ঘদিনের জমি বিরোধ। প্রায় ১৫ বছর ধরে একই গ্রামের দুই পরিবারের মধ্যে টানাপোড়েন, অভিযোগ আর প্রতিশোধের ক্ষত দাগ জমাট বাঁধছিল।

সেই পুরনো বিরোধই হঠাৎ ফেটে পড়ে বুধবার (২১ জানুয়ারি) দুপুরে। কথাকাটাকাটির পর ঝগড়া বেধে যায়। আব্দুল্লাহর দাদি জানান, ঝগড়ার মাঝেই দ্বীন ইসলাম তার মা রূপা আক্তারকে মারধর করে। প্রাণ বাঁচাতে রূপা ঘরের দিকে দৌড় দেয়, আর ঠিক সেই সময় ঘরের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা ছোট্ট আব্দুল্লাহকে দেখে দ্বীন ইসলাম নাকি তাকে তুলে আছাড় মারে।

একটুকরো মানুষের দেহ মাটিতে পড়তেই থেমে যায় চারপাশের শব্দ। পরিবারের লোকজন ছুটে যায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে—কিন্তু সেখানে পৌঁছানোর আগেই সব শেষ। চিকিৎসক শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন।

গ্রামের মানুষ বলছে, বিরোধ বহু দিনের, শত্রুতাও পুরনো; কিন্তু তিন বছরের একটি জীবন কি এভাবে শেষ হতে পারত?

মায়ের কোলে চুপচাপ ঘুমিয়ে থাকা ছেলেটি এখন মর্গে। লাশ চট্টগ্রাম মেডিকেলে পাঠিয়েছে পুলিশ। ঘটনার পর তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হলেও অভিযুক্ত দ্বীন ইসলাম পলাতক।

জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কাজী নাজমুল হক জানিয়েছেন, অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত চলছে। আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাড়ির উঠোনে এখনও পড়ে আছে আব্দুল্লাহর ছোট্ট খেলনা। তার হাসি-খেলা নেই, তবে তার মৃত্যুর শোক এখন পুরো গ্রামকে থমকে দিয়েছে। একটা পুরনো জমি—একটি মূল্যহীন ঝগড়া—আর তাতে হারিয়ে যাওয়া তিন বছরের একটি জীবন।