ঢাকা ০৭:২৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৯ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

গ্রেপ্তার, অভিযোগ-নির্যাতন: কারাগারে মৃত্যু

নোয়াখালী প্রতিনিধি
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০১:০০:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬ ৫৬ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের ছয়ানীর ভবানী জীবনপুর—এখানে বাশারকে সবাই চিনত মাটি-বালুর ব্যবসায়ী আর মাঠের রাজনীতিতে সক্রিয় এক কর্মী হিসেবে। বুধবার (২১ জানুয়ারি) ভোরে সেই মানুষটিই লক্ষীপুর জেলা কারাগার থেকে সরাসরি হাসপাতালে এসে হয়ে গেলেন “মৃতদেহ”—একটি রাজনৈতিক পরিবারে রেখে গেলেন শোক, আর প্রশ্নের ঢেউ।

গ্রেপ্তার, অভিযোগ ও নির্যাতনের গল্প

পরিবার বলছে— গত ১৪ জানুয়ারি গভীর রাতে চন্দ্রগঞ্জ থানা ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল বাশারকে নিজ বাড়ি থেকে তুলে নেয়। এসময় নিয়ে যায় ১ ভরি স্বর্ণ ও নগদ ২০ হাজার টাকা—এমন অভিযোগ করেছেন নিহতের ভাই মনির হোসেন ও মহিন উদ্দিন।

তাদের দাবি— বাশারকে দুই দিন থানায় আটকে রেখে অমানবিক নির্যাতন করা হয়। এরপর একটি ডাকাতি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হয়। তারপর থেকে বাশারের জীবন চলে যায় পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদ থেকে কারাগারের চার দেয়ালের মধ্যে।

শেষ রাত—শ্বাসকষ্ট আর ছটফটানি

লক্ষীপুর জেলা কারাগারে গত মঙ্গলবার বিকেলে বাশারের শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়। হাজতীরা খবর দিলে তাকে প্রথমে কারা হাসপাতালে দেওয়া হয় প্রাথমিক চিকিৎসা।

বুধবার ভোরে আবার অবস্থা খারাপ হয়— নিয়ে যাওয়া হয় লক্ষীপুর সদর হাসপাতালে,আর সকাল ৬টা ৩০ মিনিটে কর্তব্যরত চিকিৎসক ঘোষণা করেন—বাশার আর নেই।

কারাগারের বক্তব্য ও অদ্ভুত নীরবতা

ঘটনার পর চন্দ্রগঞ্জ থানার ওসিকে ফোন করা হলে তিনি বলেন— “আমি আদালতে আছি, পরে কথা বলব।” অন্যদিকে জেলা কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মো. নজরুল ইসলাম স্বীকার করেন—হাজতিরা তাকে জানায়, গ্রেপ্তারের পর ডিবি থানায় নিয়ে মারধর করেছে।

তিনি আরও বলেন— “মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে ময়নাতদন্তের পর মরদেহ দেয়া হবে।”

রাজনীতি বনাম মৃত্যু—কোনটা সত্য?

পরিবার বলছে— বাশার ছিলেন বিএনপির সক্রিয় কর্মী, সরকারবিরোধী সময়কার রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে ছিল চাপে। পুলিশ বলছে— তিনি ডাকাতি মামলার আসামি।

দুই বয়ানের মাঝখানে পড়ে আছে একজন মানুষের মৃত্যু, যার শ্বাস থেমে গেছে ডাক্তারি শয্যায়— আর রেখে গেছে গ্রামের পথে ফিসফাস প্রশ্ন— তিনি কেন মারা গেলেন? থানায় কী হয়েছিল? আর সত্যি কোনটা—রাজনীতি, নাকি অপরাধ?

এখন ময়নাতদন্ত বলবে চিকিৎসাবিদ্যার ভাষায় কী হয়েছে, আর সরকার বলবে তার আইনগত ভাষা, কিন্তু পরিবারের ভাষা একটাই— “ওকে মেরে ফেলা হয়েছে।”

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

গ্রেপ্তার, অভিযোগ-নির্যাতন: কারাগারে মৃত্যু

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০১:০০:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের ছয়ানীর ভবানী জীবনপুর—এখানে বাশারকে সবাই চিনত মাটি-বালুর ব্যবসায়ী আর মাঠের রাজনীতিতে সক্রিয় এক কর্মী হিসেবে। বুধবার (২১ জানুয়ারি) ভোরে সেই মানুষটিই লক্ষীপুর জেলা কারাগার থেকে সরাসরি হাসপাতালে এসে হয়ে গেলেন “মৃতদেহ”—একটি রাজনৈতিক পরিবারে রেখে গেলেন শোক, আর প্রশ্নের ঢেউ।

গ্রেপ্তার, অভিযোগ ও নির্যাতনের গল্প

পরিবার বলছে— গত ১৪ জানুয়ারি গভীর রাতে চন্দ্রগঞ্জ থানা ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল বাশারকে নিজ বাড়ি থেকে তুলে নেয়। এসময় নিয়ে যায় ১ ভরি স্বর্ণ ও নগদ ২০ হাজার টাকা—এমন অভিযোগ করেছেন নিহতের ভাই মনির হোসেন ও মহিন উদ্দিন।

তাদের দাবি— বাশারকে দুই দিন থানায় আটকে রেখে অমানবিক নির্যাতন করা হয়। এরপর একটি ডাকাতি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হয়। তারপর থেকে বাশারের জীবন চলে যায় পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদ থেকে কারাগারের চার দেয়ালের মধ্যে।

শেষ রাত—শ্বাসকষ্ট আর ছটফটানি

লক্ষীপুর জেলা কারাগারে গত মঙ্গলবার বিকেলে বাশারের শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়। হাজতীরা খবর দিলে তাকে প্রথমে কারা হাসপাতালে দেওয়া হয় প্রাথমিক চিকিৎসা।

বুধবার ভোরে আবার অবস্থা খারাপ হয়— নিয়ে যাওয়া হয় লক্ষীপুর সদর হাসপাতালে,আর সকাল ৬টা ৩০ মিনিটে কর্তব্যরত চিকিৎসক ঘোষণা করেন—বাশার আর নেই।

কারাগারের বক্তব্য ও অদ্ভুত নীরবতা

ঘটনার পর চন্দ্রগঞ্জ থানার ওসিকে ফোন করা হলে তিনি বলেন— “আমি আদালতে আছি, পরে কথা বলব।” অন্যদিকে জেলা কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মো. নজরুল ইসলাম স্বীকার করেন—হাজতিরা তাকে জানায়, গ্রেপ্তারের পর ডিবি থানায় নিয়ে মারধর করেছে।

তিনি আরও বলেন— “মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে ময়নাতদন্তের পর মরদেহ দেয়া হবে।”

রাজনীতি বনাম মৃত্যু—কোনটা সত্য?

পরিবার বলছে— বাশার ছিলেন বিএনপির সক্রিয় কর্মী, সরকারবিরোধী সময়কার রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে ছিল চাপে। পুলিশ বলছে— তিনি ডাকাতি মামলার আসামি।

দুই বয়ানের মাঝখানে পড়ে আছে একজন মানুষের মৃত্যু, যার শ্বাস থেমে গেছে ডাক্তারি শয্যায়— আর রেখে গেছে গ্রামের পথে ফিসফাস প্রশ্ন— তিনি কেন মারা গেলেন? থানায় কী হয়েছিল? আর সত্যি কোনটা—রাজনীতি, নাকি অপরাধ?

এখন ময়নাতদন্ত বলবে চিকিৎসাবিদ্যার ভাষায় কী হয়েছে, আর সরকার বলবে তার আইনগত ভাষা, কিন্তু পরিবারের ভাষা একটাই— “ওকে মেরে ফেলা হয়েছে।”