ঢাকা ০২:৪৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৭ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

স্বৈরাচারের দোসর প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর বেপরোয়া, গণপূর্ত কাঠের কারখানায় স্পেশাল লুটপাট!

আসাদ মাহমুদ ও আলমগীর হোসেন
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:৫৬:৪৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬ ৩৩৫ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

গণপূর্ত কাঠের কারখানা স্পেশাল ইউনিটে বিশেষ কৌশলে চলছে স্পেশাল লুটপাট। শোষিত বঞ্চিত প্রতারিত হচ্ছে লাইসেন্সধারী সাধারণ ঠিকাদারেরা। ফার্নিচার প্রস্তুতকারক বিভিন্ন কোম্পানীকে কাজ পাইয়ে দেয়ার নামে স্পেশাল কৌশলে লুটপাটের সাম্রাজ্য কায়েম করছেন বিতর্কিত গণপূর্ত কর্মকর্তা স্বৈরাচারের দোসর (লীগ সরকারের এক প্রভাবশালী এমপির ভাগিনা) প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলম। তার এই বিশেষ অনৈতিক বাণিজ্যের শ্যেন দৃষ্টিতে ছাড়খার হচ্ছে অসংখ্য সাধারণ ঠিকাদারের রুটিরুজির একমাত্র অবলম্বন বা আয়ের পথ। তথ্য সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্রের।

অনুসন্ধানে জানা যায়, চাকরির শুরুতেই লুটপাটে হাত পাকানো প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর গত ডিসেম্বর/২০২৪ এ ডিভিশনটির দায়িত্ব এসে ঘুষ বাণিজ্যে বিশেষ কৌশল প্রয়োগ করেন সাধারণ ঠিকাদারদের ওপরে। বিভিন্ন প্রকল্পের এষ্টিমেটগুলো তিনি ৪/৫ জন ঠিকাদারের প্রত্যেকের কাছে অগ্রীম ৩%/৪% নিয়ে বিক্রি করেন। আবার সবাইকে গোপণ রেট জানিয়ে দেন। একইসাথে ফার্নিচার প্রস্তুতকারক বিভিন্ন কোম্পানীর লোকজন তিনি ডেকে আনেন। তাদের কাছ থেকেও বড় ধরণের সুবিধা নিয়ে রেটকোড জানিয়ে দেন। এর পরে কোম্পানীসহ সাধারণ ঠিকাদরের ওই ৪/৫ জন টেন্ডারে পার্টিসিপেট করেন। টার্নওভারসহ বিভিন্ন শর্তের বেড়াজলে ফার্নিচার প্রস্তুতকারক কোম্পানীই বেশীরভাগ ক্ষেত্রে কাজ পেয়ে যায়।

এর ফলে যাদের কাছ থেকে অগ্রীম পার্সেন্টেজ নিয়েছেন তারা যোগাযোগ করলে বলেন, আপনাকে বা আপনাদেরকে তো রেট দিয়ে দিয়েছি। কাজ না পেলে কী আর করবো? আমিতো আপনাকেই কাজ দিতে চেয়েছিলাম। যাক, অপেক্ষা করেন পরের লটে কাজ পাইয়ে দিবো। এভাবে সবাইকে আশ্বাস দিয়ে মিথ্যা প্রতিশ্রুতির গ্যাড়াকলে আটকিয়ে মাসের পর মাস ঘুরিয়ে কারো ভাগ্যে ছিটেফোটা কাজ জুটে, আবার কারো ভাগ্যে আরো অপেক্ষা ছাড়া আর কোন উপায় থাকে না। আবার কোন কারণে কোন সাধারণ ঠিকাদার কাজ পেয়ে গেলে তখন প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর অন্য বিশেষ কৌশলের আশ্রয় নেন। তখন বলেন, আপনাকে কাজ দিতে গিয়ে অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। এই কাজকে ভাগ করে অর্ধেক ফার্নিচার কনসেপ্ট নামক প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে দেন বা মালামাল ফার্নিচার কনসেপ্টকে দিয়ে বানিয়ে আনেন।

মূলতঃ ফার্নিচার কনসেপ্টের নামে নির্বাহী প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর নিজেই পরোক্ষভাবে ব্যবসা করছেন। সাধারণ ঠিকাদারকে তিনি (প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর) কোথা/কোন প্রতিষ্ঠান থেকে মালামাল তৈরী করবে তা নির্ধারণ করে দেন। মৌখিকভাবে হুমকী দেন, ওই প্রতিষ্ঠান থেকে মালামাল না নিলে বা মালামাল তৈরী না করলে চুক্তিপত্র বা নোয়া বাতিল করা হবে। এ ধরণের হুমকীতে পড়ে সাধারণ ঠিকাদারগণ প্রকৌশলী জাহাঙ্গীরের নির্দেশিত কারখানা বা প্রতিষ্ঠান থেকে মালামাল তৈরী করান বা মালামাল কিনে থাকেন।

আরও জানা যায়, হাইকোর্ট সুপ্রীমকোর্টে যে সকল সাধারণ ঠিকাদার ইতোপূর্বে বছরের পর বছর গুণগত ফার্নিচার বা আসবাবপত্র সাপ্লাই দিতো তারা প্রকৌশলী জাহাঙ্গীরের স্পেশাল লুটেরা কৌশলের কারণে আর কাজ পাচ্ছে না। নিজের পছন্দের ঠিকাদার ও কোম্পানীকেও সেখানে সুযোগ করে দিয়েছেন শিয়ালের চেয়েও বেশী ধূর্ত এই প্রকৌশলী। ফার্নিচার কনসেপ্ট এন্ড ইনটেরিয়র এলটিডি নামক কোম্পানীটি চলমান অর্থবছরে নির্বাহী প্রকৌশলী জাহাঙ্গীরের সাহায়তায় অসংখ্য কাজ বাগিয়ে নিয়েছে।

এর মধ্যে ৩,৫৩,৪৫,৮০২.৫১৩ টাকা চুক্তিমূল্যে ২০২৫/১৩ নং লটে মডেল মসজিদ প্রকল্পে ৭টি উপজেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক কালচারাল সেন্টারে আসবাবপত্র সরবরাহ ও স্থাপন কাজ, একই অর্থবছরে একই প্রকল্পে ২০২৫/৩ নং লটে ৩,৩৭,৩৭,৯০২.৫১৩ টাকা চুক্তিমূল্যে আরো ৭টি মডেল মসজিদে একই কাজ, একই অর্থবছরে ২০২৫/৪নং লটে ৩,৩৭,৩৭,৯০২.৫১৩ টাকা নির্ধারিত বরাদ্দে অন্য ৭টি মসজিদে একই ধরণের কাজগুলো বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

এছাড়াও ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কোম্পানীটি বিশেষ প্রক্রিয়ায় রায়েবাজার বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে ২৭,৩৬,১০০.০০০ টাকা চুক্তিমূল্যে ফার্নিচার ও ফিটিং ফিক্সারস সরবরাহ ও স্থাপণ, একই অর্থবছরে বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ নায়েব সুবেদার আশরাফ আলী খান বীরবিক্রম লাইব্রেরী ও গবেষণাগার নির্মাণ প্রকল্পে ১,৮২,৩৪,৭০০.০০০ টাকা চুক্তিমূল্যে ফার্নিচার সরবরাহ ও স্থাপণ কাজ, একই অর্থবছরে পাবলিক লাইব্রেরীর বহুমুখী ভবন নির্মাণ প্রকল্পে ১,৯৩,৩০,৭৫৬.৬৯১ টাকা চুক্তিমূল্যে ফানিচার সরবরাহ কাজ, যদিও ভবনের ভৌত অবকাঠামো নির্মাণ কাজ এখনও শেষ হয়নি। দুর্নীতি আর কারসাজির নাটেরগুরু প্রকৌশলী জাহাঙ্গীরের বদৌলতে এরকম আরো বহু কাজ ফার্নিচার কনসেপ্টের পাওয়ার অপেক্ষায় আছে।

এছাড়াও আকতার ফার্নিচারস্ নদীয়া ফার্নিচার ও হাতিল নামক কোম্পানীগুলো কয়েক কোটি টাকার বেশকিছু কাজ বাগিয়ে নিয়েছে প্রকৌশলী জাহাঙ্গীরকে বিভিন্নভাবে ম্যানেজ করে বা বিভিন্ন ধরণের সুযোগ-সুবিধা দিয়ে। কোন কোন কোম্পানী প্রকৌশলী জাহাঙ্গীরের মনোরঞ্জনের জন্য কুয়াকাটা কক্সবাজার পার্বত্য চ্ট্টগ্রামসহ দেশ-বিদেশের বিভিন্ন লোকশনে বান্ধবীসহ প্লেজার ট্রিপের ব্যবস্থা করে বেশ কয়েকবার ঘুরিয়ে এনেছে বলেও নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়। অবৈধ অর্থের জোড়ে ইতোপূর্বে বহুল বিতর্কিত নায়িকা পরিমনিকে নিয়েও ঢাকা বোটক্লাবে বহুবার একান্তে সময় কাটিয়েছেন বলেও পূর্ত প্রকৌশলীদের মধ্যে ব্যাপক জনশ্রুতি আছে।

এছাড়া স্বৈরাচার লীগ সরকারের সময়ে প্রায় ৬ বছর ই/এম ২নং গণপূর্ত বিভাগের দায়িত্বে থাকতে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে অনিয়ম দুর্নীতি ও এপিপির কাজে নিজেই বেনামী ঠিকাদারী ব্যবসা করে প্রায় অর্ধশত কোটি টাকা লোপাট করেন এই প্রকৌশলী। এ রকম বহু অভিযোগে ২০২৪ এর প্রথমদিকে তাকে গণপূর্ত রাজশাহী জোনের পিএন্ডডিতে বদলী করা হয়। কিন্তু অবৈধ অর্থের জোড়ে ৭ মাসের ব্যবধানে তিনি পুনরায় ঢাকার কাঠের কারখানা স্পেশাল ইউনিটে বীরদর্পে ফিরে এসে নিজের লুটপাটের তীর্থভূমি কিছুটা হলেও উদ্ধার করতে সমর্থ হন। এখন বিতর্কিত প্রমোশনকে সামনে রেখে আখেরী লুটপাটে নিজেকে আত্ম নিয়োগ করেছেন প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলম।

বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলার জন্য এই প্রতিবেদক নির্বাহী প্রকৌশলী জাহাঙ্গীরের মোবাইলে অসংখ্যবার ফোন দিলেও কোন রেসপন্স না পাওয়ায় মতামত নেওয়া সম্ভব হয়নি। (চলবে)

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

স্বৈরাচারের দোসর প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর বেপরোয়া, গণপূর্ত কাঠের কারখানায় স্পেশাল লুটপাট!

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:৫৬:৪৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬

গণপূর্ত কাঠের কারখানা স্পেশাল ইউনিটে বিশেষ কৌশলে চলছে স্পেশাল লুটপাট। শোষিত বঞ্চিত প্রতারিত হচ্ছে লাইসেন্সধারী সাধারণ ঠিকাদারেরা। ফার্নিচার প্রস্তুতকারক বিভিন্ন কোম্পানীকে কাজ পাইয়ে দেয়ার নামে স্পেশাল কৌশলে লুটপাটের সাম্রাজ্য কায়েম করছেন বিতর্কিত গণপূর্ত কর্মকর্তা স্বৈরাচারের দোসর (লীগ সরকারের এক প্রভাবশালী এমপির ভাগিনা) প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলম। তার এই বিশেষ অনৈতিক বাণিজ্যের শ্যেন দৃষ্টিতে ছাড়খার হচ্ছে অসংখ্য সাধারণ ঠিকাদারের রুটিরুজির একমাত্র অবলম্বন বা আয়ের পথ। তথ্য সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্রের।

অনুসন্ধানে জানা যায়, চাকরির শুরুতেই লুটপাটে হাত পাকানো প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর গত ডিসেম্বর/২০২৪ এ ডিভিশনটির দায়িত্ব এসে ঘুষ বাণিজ্যে বিশেষ কৌশল প্রয়োগ করেন সাধারণ ঠিকাদারদের ওপরে। বিভিন্ন প্রকল্পের এষ্টিমেটগুলো তিনি ৪/৫ জন ঠিকাদারের প্রত্যেকের কাছে অগ্রীম ৩%/৪% নিয়ে বিক্রি করেন। আবার সবাইকে গোপণ রেট জানিয়ে দেন। একইসাথে ফার্নিচার প্রস্তুতকারক বিভিন্ন কোম্পানীর লোকজন তিনি ডেকে আনেন। তাদের কাছ থেকেও বড় ধরণের সুবিধা নিয়ে রেটকোড জানিয়ে দেন। এর পরে কোম্পানীসহ সাধারণ ঠিকাদরের ওই ৪/৫ জন টেন্ডারে পার্টিসিপেট করেন। টার্নওভারসহ বিভিন্ন শর্তের বেড়াজলে ফার্নিচার প্রস্তুতকারক কোম্পানীই বেশীরভাগ ক্ষেত্রে কাজ পেয়ে যায়।

এর ফলে যাদের কাছ থেকে অগ্রীম পার্সেন্টেজ নিয়েছেন তারা যোগাযোগ করলে বলেন, আপনাকে বা আপনাদেরকে তো রেট দিয়ে দিয়েছি। কাজ না পেলে কী আর করবো? আমিতো আপনাকেই কাজ দিতে চেয়েছিলাম। যাক, অপেক্ষা করেন পরের লটে কাজ পাইয়ে দিবো। এভাবে সবাইকে আশ্বাস দিয়ে মিথ্যা প্রতিশ্রুতির গ্যাড়াকলে আটকিয়ে মাসের পর মাস ঘুরিয়ে কারো ভাগ্যে ছিটেফোটা কাজ জুটে, আবার কারো ভাগ্যে আরো অপেক্ষা ছাড়া আর কোন উপায় থাকে না। আবার কোন কারণে কোন সাধারণ ঠিকাদার কাজ পেয়ে গেলে তখন প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর অন্য বিশেষ কৌশলের আশ্রয় নেন। তখন বলেন, আপনাকে কাজ দিতে গিয়ে অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। এই কাজকে ভাগ করে অর্ধেক ফার্নিচার কনসেপ্ট নামক প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে দেন বা মালামাল ফার্নিচার কনসেপ্টকে দিয়ে বানিয়ে আনেন।

মূলতঃ ফার্নিচার কনসেপ্টের নামে নির্বাহী প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর নিজেই পরোক্ষভাবে ব্যবসা করছেন। সাধারণ ঠিকাদারকে তিনি (প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর) কোথা/কোন প্রতিষ্ঠান থেকে মালামাল তৈরী করবে তা নির্ধারণ করে দেন। মৌখিকভাবে হুমকী দেন, ওই প্রতিষ্ঠান থেকে মালামাল না নিলে বা মালামাল তৈরী না করলে চুক্তিপত্র বা নোয়া বাতিল করা হবে। এ ধরণের হুমকীতে পড়ে সাধারণ ঠিকাদারগণ প্রকৌশলী জাহাঙ্গীরের নির্দেশিত কারখানা বা প্রতিষ্ঠান থেকে মালামাল তৈরী করান বা মালামাল কিনে থাকেন।

আরও জানা যায়, হাইকোর্ট সুপ্রীমকোর্টে যে সকল সাধারণ ঠিকাদার ইতোপূর্বে বছরের পর বছর গুণগত ফার্নিচার বা আসবাবপত্র সাপ্লাই দিতো তারা প্রকৌশলী জাহাঙ্গীরের স্পেশাল লুটেরা কৌশলের কারণে আর কাজ পাচ্ছে না। নিজের পছন্দের ঠিকাদার ও কোম্পানীকেও সেখানে সুযোগ করে দিয়েছেন শিয়ালের চেয়েও বেশী ধূর্ত এই প্রকৌশলী। ফার্নিচার কনসেপ্ট এন্ড ইনটেরিয়র এলটিডি নামক কোম্পানীটি চলমান অর্থবছরে নির্বাহী প্রকৌশলী জাহাঙ্গীরের সাহায়তায় অসংখ্য কাজ বাগিয়ে নিয়েছে।

এর মধ্যে ৩,৫৩,৪৫,৮০২.৫১৩ টাকা চুক্তিমূল্যে ২০২৫/১৩ নং লটে মডেল মসজিদ প্রকল্পে ৭টি উপজেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক কালচারাল সেন্টারে আসবাবপত্র সরবরাহ ও স্থাপন কাজ, একই অর্থবছরে একই প্রকল্পে ২০২৫/৩ নং লটে ৩,৩৭,৩৭,৯০২.৫১৩ টাকা চুক্তিমূল্যে আরো ৭টি মডেল মসজিদে একই কাজ, একই অর্থবছরে ২০২৫/৪নং লটে ৩,৩৭,৩৭,৯০২.৫১৩ টাকা নির্ধারিত বরাদ্দে অন্য ৭টি মসজিদে একই ধরণের কাজগুলো বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

এছাড়াও ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কোম্পানীটি বিশেষ প্রক্রিয়ায় রায়েবাজার বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে ২৭,৩৬,১০০.০০০ টাকা চুক্তিমূল্যে ফার্নিচার ও ফিটিং ফিক্সারস সরবরাহ ও স্থাপণ, একই অর্থবছরে বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ নায়েব সুবেদার আশরাফ আলী খান বীরবিক্রম লাইব্রেরী ও গবেষণাগার নির্মাণ প্রকল্পে ১,৮২,৩৪,৭০০.০০০ টাকা চুক্তিমূল্যে ফার্নিচার সরবরাহ ও স্থাপণ কাজ, একই অর্থবছরে পাবলিক লাইব্রেরীর বহুমুখী ভবন নির্মাণ প্রকল্পে ১,৯৩,৩০,৭৫৬.৬৯১ টাকা চুক্তিমূল্যে ফানিচার সরবরাহ কাজ, যদিও ভবনের ভৌত অবকাঠামো নির্মাণ কাজ এখনও শেষ হয়নি। দুর্নীতি আর কারসাজির নাটেরগুরু প্রকৌশলী জাহাঙ্গীরের বদৌলতে এরকম আরো বহু কাজ ফার্নিচার কনসেপ্টের পাওয়ার অপেক্ষায় আছে।

এছাড়াও আকতার ফার্নিচারস্ নদীয়া ফার্নিচার ও হাতিল নামক কোম্পানীগুলো কয়েক কোটি টাকার বেশকিছু কাজ বাগিয়ে নিয়েছে প্রকৌশলী জাহাঙ্গীরকে বিভিন্নভাবে ম্যানেজ করে বা বিভিন্ন ধরণের সুযোগ-সুবিধা দিয়ে। কোন কোন কোম্পানী প্রকৌশলী জাহাঙ্গীরের মনোরঞ্জনের জন্য কুয়াকাটা কক্সবাজার পার্বত্য চ্ট্টগ্রামসহ দেশ-বিদেশের বিভিন্ন লোকশনে বান্ধবীসহ প্লেজার ট্রিপের ব্যবস্থা করে বেশ কয়েকবার ঘুরিয়ে এনেছে বলেও নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়। অবৈধ অর্থের জোড়ে ইতোপূর্বে বহুল বিতর্কিত নায়িকা পরিমনিকে নিয়েও ঢাকা বোটক্লাবে বহুবার একান্তে সময় কাটিয়েছেন বলেও পূর্ত প্রকৌশলীদের মধ্যে ব্যাপক জনশ্রুতি আছে।

এছাড়া স্বৈরাচার লীগ সরকারের সময়ে প্রায় ৬ বছর ই/এম ২নং গণপূর্ত বিভাগের দায়িত্বে থাকতে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে অনিয়ম দুর্নীতি ও এপিপির কাজে নিজেই বেনামী ঠিকাদারী ব্যবসা করে প্রায় অর্ধশত কোটি টাকা লোপাট করেন এই প্রকৌশলী। এ রকম বহু অভিযোগে ২০২৪ এর প্রথমদিকে তাকে গণপূর্ত রাজশাহী জোনের পিএন্ডডিতে বদলী করা হয়। কিন্তু অবৈধ অর্থের জোড়ে ৭ মাসের ব্যবধানে তিনি পুনরায় ঢাকার কাঠের কারখানা স্পেশাল ইউনিটে বীরদর্পে ফিরে এসে নিজের লুটপাটের তীর্থভূমি কিছুটা হলেও উদ্ধার করতে সমর্থ হন। এখন বিতর্কিত প্রমোশনকে সামনে রেখে আখেরী লুটপাটে নিজেকে আত্ম নিয়োগ করেছেন প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলম।

বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলার জন্য এই প্রতিবেদক নির্বাহী প্রকৌশলী জাহাঙ্গীরের মোবাইলে অসংখ্যবার ফোন দিলেও কোন রেসপন্স না পাওয়ায় মতামত নেওয়া সম্ভব হয়নি। (চলবে)