ঢাকা ০৬:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৯ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

হুমকির অডিওতে কাঁপলো এক ক্রিকেটারের রাত

ক্রীড়া প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১১:২২:০০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬ ৫৩ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দেশের ক্রিকেটে চলছিলই অস্থিরতা, আলোচনার ঝড়। ঠিক সেই সময়—হঠাৎ করে নিজের ফোনে অপরিচিত একটি অডিও পেয়ে থমকে গেলেন জাতীয় দলের ক্রিকেটার মোহাম্মদ মিঠুন।

বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) দুপুর, অচেনা নম্বর থেকে হোয়াটসঅ্যাপ অডিও—আর তাতেই মৃত্যু হুমকি।

অডিওর ভাষা ছিল বিষাক্ত, কটূক্তি আর আতঙ্কে ভরা। সেই অচেনা কণ্ঠ বলছিল—“তোরা বাংলাদেশ ক্রিকেটে যা শুরু করেছিস, তোদের কপালে দুঃখ আছে… স্টেডিয়ামে যাবি না? কোথায় নিরাপদ থাকবি?”

হুমকি শুধু মিঠুনের উদ্দেশে ছিল না—অন্য ক্রিকেটার আর তাদের পরিবার সম্পর্কেও অশ্লীল গালি ও উস্কানিমূলক কথা বলা হয়। বলা হয়—“এই ছবিটা সুন্দর করে আমরা রেখে দিচ্ছি… মোস্তাফিজ আর দুই–একজন ছাড়া বাকিদের কপালে দুঃখ আছে… এটা কত দূর যাবে কল্পনাও করতে পারবি না… তামিমের দালাল।” অডিওর প্রতিটি বাক্যই যেন তৈরি করেছে অদৃশ্য এক দুশ্চিন্তার দেয়াল।

এদিকে ঠিক একই সময়ে, বিসিবি পরিচালক এম নাজমুল ইসলামের বিতর্কিত মন্তব্য ঘিরে খেলোয়াড়রা যখন খেলায় না নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন—সেই টানটান পরিস্থিতিতেই এই হুমকি এল।

ক্রিকেট শুধু খেলার নাম নয়—এটা মানুষের কানেকশন, আবেগ, গর্ব। কিন্তু এমন অবস্থায় প্রশ্ন জাগে— এটা কি শুধুই খেলা? নাকি এর বাইরেও কেউ টেনে নিয়ে যাচ্ছে ঘৃণা, ভয় আর অস্থিরতার পথে?

মিঠুনের হাতে এখন শুধু একটি ফোন নয়—সেখানে জমা আছে বিস্ময়, আতংক এবং দেশের ক্রিকেট নিয়ে নতুন এক দুশ্চিন্তা।

এ ঘটনায় ক্রিকেট বোর্ডকে অবহিত করা হয়েছে এবং নিরাপত্তা সংস্থাও বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। বোর্ড সূত্র জানায়, হুমকির বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু করা হয়েছে এবং প্রয়োজন হলে ক্রিকেটারকে নিরাপত্তা সহায়তাও দেওয়া হবে।

এদিকে সতীর্থরা জানিয়েছেন, এমন ঘটনা খেলোয়াড়দের মানসিক প্রস্তুতি ও পারফরম্যান্সে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে তারা।

ঘটনার পর নিরাপত্তা ও তদন্তসংক্রান্ত কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কি না—তা এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে জানা যায়নি। তবে ক্রিকেট অঙ্গনে এই ঘটনার পর স্পষ্ট অস্বস্তি ছড়িয়েছে, কারণ ব্যক্তিগত আক্রমণ ও পরিবারের প্রতি অপমান ক্রিকেটারদের মানসিকভাবে নাড়া দিয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

হুমকির অডিওতে কাঁপলো এক ক্রিকেটারের রাত

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১১:২২:০০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬

দেশের ক্রিকেটে চলছিলই অস্থিরতা, আলোচনার ঝড়। ঠিক সেই সময়—হঠাৎ করে নিজের ফোনে অপরিচিত একটি অডিও পেয়ে থমকে গেলেন জাতীয় দলের ক্রিকেটার মোহাম্মদ মিঠুন।

বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) দুপুর, অচেনা নম্বর থেকে হোয়াটসঅ্যাপ অডিও—আর তাতেই মৃত্যু হুমকি।

অডিওর ভাষা ছিল বিষাক্ত, কটূক্তি আর আতঙ্কে ভরা। সেই অচেনা কণ্ঠ বলছিল—“তোরা বাংলাদেশ ক্রিকেটে যা শুরু করেছিস, তোদের কপালে দুঃখ আছে… স্টেডিয়ামে যাবি না? কোথায় নিরাপদ থাকবি?”

হুমকি শুধু মিঠুনের উদ্দেশে ছিল না—অন্য ক্রিকেটার আর তাদের পরিবার সম্পর্কেও অশ্লীল গালি ও উস্কানিমূলক কথা বলা হয়। বলা হয়—“এই ছবিটা সুন্দর করে আমরা রেখে দিচ্ছি… মোস্তাফিজ আর দুই–একজন ছাড়া বাকিদের কপালে দুঃখ আছে… এটা কত দূর যাবে কল্পনাও করতে পারবি না… তামিমের দালাল।” অডিওর প্রতিটি বাক্যই যেন তৈরি করেছে অদৃশ্য এক দুশ্চিন্তার দেয়াল।

এদিকে ঠিক একই সময়ে, বিসিবি পরিচালক এম নাজমুল ইসলামের বিতর্কিত মন্তব্য ঘিরে খেলোয়াড়রা যখন খেলায় না নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন—সেই টানটান পরিস্থিতিতেই এই হুমকি এল।

ক্রিকেট শুধু খেলার নাম নয়—এটা মানুষের কানেকশন, আবেগ, গর্ব। কিন্তু এমন অবস্থায় প্রশ্ন জাগে— এটা কি শুধুই খেলা? নাকি এর বাইরেও কেউ টেনে নিয়ে যাচ্ছে ঘৃণা, ভয় আর অস্থিরতার পথে?

মিঠুনের হাতে এখন শুধু একটি ফোন নয়—সেখানে জমা আছে বিস্ময়, আতংক এবং দেশের ক্রিকেট নিয়ে নতুন এক দুশ্চিন্তা।

এ ঘটনায় ক্রিকেট বোর্ডকে অবহিত করা হয়েছে এবং নিরাপত্তা সংস্থাও বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। বোর্ড সূত্র জানায়, হুমকির বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু করা হয়েছে এবং প্রয়োজন হলে ক্রিকেটারকে নিরাপত্তা সহায়তাও দেওয়া হবে।

এদিকে সতীর্থরা জানিয়েছেন, এমন ঘটনা খেলোয়াড়দের মানসিক প্রস্তুতি ও পারফরম্যান্সে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে তারা।

ঘটনার পর নিরাপত্তা ও তদন্তসংক্রান্ত কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কি না—তা এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে জানা যায়নি। তবে ক্রিকেট অঙ্গনে এই ঘটনার পর স্পষ্ট অস্বস্তি ছড়িয়েছে, কারণ ব্যক্তিগত আক্রমণ ও পরিবারের প্রতি অপমান ক্রিকেটারদের মানসিকভাবে নাড়া দিয়েছে।