ঢাকা ০৩:১৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৭ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

৭৫টি দেশের ভিসা বন্ধ করলো আমেরিকা, তালিকায় বাংলাদেশও

বাংলা টাইমস ডেস্ক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:১০:১৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬ ৬২ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মার্কিন প্রশাসন ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য মার্কিন ভিসা স্থগিত বা নিষিদ্ধ করার একটি পরিকল্পনা নিয়েছে—যা কেবল অভিবাসী প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ নয়, আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক উত্তেজনার নতুন সূত্র হিসেবেও দেখা হচ্ছে। বিশ্লেষকরা প্রশ্ন তুলছেন—এতো বড় একটি গোষ্ঠীর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলে কি এটি আন্তর্জাতিক অশান্তির পরিস্থিতি তৈরি করবে?

গতবছর নভেম্বরের শেষ দিকে হোয়াইট হাউসে এক আফগান নাগরিক কর্তৃক হামলার ঘটনায় এক ন্যাশনাল গার্ড সদস্য নিহত হন। এরপরই তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দেন, যে ওয়াশিংটনের নিরাপত্তা পুনরুদ্ধারের জন্য তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোর নাগরিকদের জন্য অভিবাসন ও ভিসা কার্যক্রম স্থায়ীভাবে নিয়ন্ত্রণে আনার দিকে কাজ করবেন।

এবার সেই নীতির ধারাবাহিকতায় মার্কিন প্রশাসন গত নির্দেশনায় জানিয়েছে—২১ জানুয়ারি থেকে ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য মার্কিন ভিসা আনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করার পরিকল্পনা আছে। এ নির্দেশ প্রাথমিকভাবে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর মার্কিন দূতাবাসগুলোকে অবহিত করা হয়েছে বলে কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে। তবে সরকারিভাবে এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনও হয়নি।

পরিকল্পনাটি অনুযায়ী, প্রাথমিক তালিকায় রয়েছে— ইরান, রাশিয়া, সোমালিয়া, আফগানিস্তান, ব্রাজিল, নাইজেরিয়া, ইরাক, মিশর, ইয়েমেন. থাইল্যান্ড, বাংলাদেশ।

এছাড়া তালিকাভুক্ত আরো বহু দেশ রয়েছে। তবে ভারতের অবস্থান এ তালিকায় আছে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

ট্রাম্প নভেম্বরে হুমকি দিয়েছিলেন— “আমি মার্কিন সিস্টেমকে পুনরুদ্ধার করতে তৃতীয় বিশ্বের সকল দেশ থেকে অভিবাসন স্থায়ীভাবে স্থগিত করব এবং লক্ষ কোটি অবৈধ প্রবেশকারীর প্রবেশাধিকার বাতিল করব। যারা আমাদের দেশকে ভালোবাসে না, তাদের অপসারণ করা হবে।” এ মন্তব্য থেকে স্পষ্ট—নিরাপত্তা ও অভিবাসন নীতিতে কঠোর অবস্থানই তার প্রশাসনের ভিত্তিভূমি।

অনেক আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক মনে করছেন, ৭৫টি দেশের নাগরিকদের ওপর সীমাহিত না রেখে এমন ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলে তা কেবল অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ নয়—একটি কূটনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে ইরান ও রাশিয়ার মতো শক্তিশালী বালকধারী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক আরও টানাপোড়নে পড়তে পারে।

সৈনিক, কূটনীতিক ও আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন—ভিসা নিষেধাজ্ঞা হলে এর প্রভাব শুধু নাগরিকদের ভ্রমণ নিয়ন্ত্রণে সীমাবদ্ধ থাকবে না; তা— কূটনৈতিক সম্পর্কের উত্তেজনা বাড়াতে পারে, বাণিজ্যিক ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ে বাধা সৃষ্টি করতে পারে, সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর মধ্যে পালটা নিষেধাজ্ঞা বা প্রতিক্রিয়া উদ্রেক করতে পারে।

তবে এই প্রবণতার ফল ও প্রতিক্রিয়া কতটা মারাত্মক হবে—তার উত্তর সময়ই দেবে।

এপর্যন্ত মার্কিন প্রশাসন কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি জারি না করায় আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মধ্যে নানা ধরনের অনুমান চলছেই। এর ব্যাখ্যা ও নীতি প্রয়োগের পরিধি জানার অপেক্ষায় কূটনৈতিক মহল।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, ৭৫টি দেশের নাগরিকদের ওপর এমন কঠোর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলে তা শুধুই নিরাপত্তা বিষয়ক পদক্ষেপ নয়—বিশ্ব রাজনীতিতে এটি একটি নতুন আলোচিত অধ্যায় হয়ে উঠবে।

অভিযোগ, এই সমস্ত দেশের নাগরিকদের বিরুদ্ধে মার্কিন জনগণের বিবিধ অভিযোগ থাকে। আমেরিকানদের উদারতার অপব্যবহার যাতে না হয়, তা নিশ্চিত করতে চায় বিদেশ দফতর। দাবি, ট্রাম্প প্রশাসন সবসময় আমেরিকাকেই অগ্রাধিকার দিয়ে এসেছে।

বিদেশ দফতরের ঘোষণার আগে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজ় প্রথম এই সংক্রান্ত রিপোর্ট প্রকাশ করে। তাতে বলা হয়, আগামী ২১ জানুয়ারি থেকে ভিসায় স্থগিতাদেশ কার্যকর করা হবে। ৭৫টি দেশের তালিকায় রাশিয়া, আফগানিস্তান, ব্রাজ়িল, নাইজ়িরিয়া, তাইল্যান্ডের মতো দেশও রয়েছে বলে ওই রিপোর্টে দাবি করা হয়েছিল। বলা হয়, এই সমস্ত দেশের দূতাবাসগুলিতে ইতিমধ্যে নির্দেশিকা চলে গিয়েছে।

গত নভেম্বরে ট্রাম্প নিজে ঘোষণা করেছিলেন যে, তিনি আমেরিকার স্বার্থে তৃতীয় বিশ্বের সমস্ত দেশের নাগরিকদের জন্য অভিবাসনের দরজা স্থায়ী ভাবে বন্ধ করে দেবেন। তার পরের দিনই আফগানিস্তানের নাগরিকদের ভিসা দেওয়া বন্ধ করা হয়েছিল। হোয়াইট হাউসের সামনে এক আফগান বন্দুকবাজের হামলায় আমেরিকার দু’জন ন্যাশনাল গার্ডের মৃত্যুর পর ওই পদক্ষেপ করেছিলেন ট্রাম্প। এ বার ৭৫টি দেশকে অভিবাসন ভিসা দেওয়া বন্ধ করার কথা জানানো হল।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

৭৫টি দেশের ভিসা বন্ধ করলো আমেরিকা, তালিকায় বাংলাদেশও

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:১০:১৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬

মার্কিন প্রশাসন ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য মার্কিন ভিসা স্থগিত বা নিষিদ্ধ করার একটি পরিকল্পনা নিয়েছে—যা কেবল অভিবাসী প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ নয়, আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক উত্তেজনার নতুন সূত্র হিসেবেও দেখা হচ্ছে। বিশ্লেষকরা প্রশ্ন তুলছেন—এতো বড় একটি গোষ্ঠীর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলে কি এটি আন্তর্জাতিক অশান্তির পরিস্থিতি তৈরি করবে?

গতবছর নভেম্বরের শেষ দিকে হোয়াইট হাউসে এক আফগান নাগরিক কর্তৃক হামলার ঘটনায় এক ন্যাশনাল গার্ড সদস্য নিহত হন। এরপরই তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দেন, যে ওয়াশিংটনের নিরাপত্তা পুনরুদ্ধারের জন্য তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোর নাগরিকদের জন্য অভিবাসন ও ভিসা কার্যক্রম স্থায়ীভাবে নিয়ন্ত্রণে আনার দিকে কাজ করবেন।

এবার সেই নীতির ধারাবাহিকতায় মার্কিন প্রশাসন গত নির্দেশনায় জানিয়েছে—২১ জানুয়ারি থেকে ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য মার্কিন ভিসা আনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করার পরিকল্পনা আছে। এ নির্দেশ প্রাথমিকভাবে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর মার্কিন দূতাবাসগুলোকে অবহিত করা হয়েছে বলে কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে। তবে সরকারিভাবে এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনও হয়নি।

পরিকল্পনাটি অনুযায়ী, প্রাথমিক তালিকায় রয়েছে— ইরান, রাশিয়া, সোমালিয়া, আফগানিস্তান, ব্রাজিল, নাইজেরিয়া, ইরাক, মিশর, ইয়েমেন. থাইল্যান্ড, বাংলাদেশ।

এছাড়া তালিকাভুক্ত আরো বহু দেশ রয়েছে। তবে ভারতের অবস্থান এ তালিকায় আছে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

ট্রাম্প নভেম্বরে হুমকি দিয়েছিলেন— “আমি মার্কিন সিস্টেমকে পুনরুদ্ধার করতে তৃতীয় বিশ্বের সকল দেশ থেকে অভিবাসন স্থায়ীভাবে স্থগিত করব এবং লক্ষ কোটি অবৈধ প্রবেশকারীর প্রবেশাধিকার বাতিল করব। যারা আমাদের দেশকে ভালোবাসে না, তাদের অপসারণ করা হবে।” এ মন্তব্য থেকে স্পষ্ট—নিরাপত্তা ও অভিবাসন নীতিতে কঠোর অবস্থানই তার প্রশাসনের ভিত্তিভূমি।

অনেক আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক মনে করছেন, ৭৫টি দেশের নাগরিকদের ওপর সীমাহিত না রেখে এমন ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলে তা কেবল অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ নয়—একটি কূটনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে ইরান ও রাশিয়ার মতো শক্তিশালী বালকধারী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক আরও টানাপোড়নে পড়তে পারে।

সৈনিক, কূটনীতিক ও আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন—ভিসা নিষেধাজ্ঞা হলে এর প্রভাব শুধু নাগরিকদের ভ্রমণ নিয়ন্ত্রণে সীমাবদ্ধ থাকবে না; তা— কূটনৈতিক সম্পর্কের উত্তেজনা বাড়াতে পারে, বাণিজ্যিক ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ে বাধা সৃষ্টি করতে পারে, সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর মধ্যে পালটা নিষেধাজ্ঞা বা প্রতিক্রিয়া উদ্রেক করতে পারে।

তবে এই প্রবণতার ফল ও প্রতিক্রিয়া কতটা মারাত্মক হবে—তার উত্তর সময়ই দেবে।

এপর্যন্ত মার্কিন প্রশাসন কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি জারি না করায় আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মধ্যে নানা ধরনের অনুমান চলছেই। এর ব্যাখ্যা ও নীতি প্রয়োগের পরিধি জানার অপেক্ষায় কূটনৈতিক মহল।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, ৭৫টি দেশের নাগরিকদের ওপর এমন কঠোর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলে তা শুধুই নিরাপত্তা বিষয়ক পদক্ষেপ নয়—বিশ্ব রাজনীতিতে এটি একটি নতুন আলোচিত অধ্যায় হয়ে উঠবে।

অভিযোগ, এই সমস্ত দেশের নাগরিকদের বিরুদ্ধে মার্কিন জনগণের বিবিধ অভিযোগ থাকে। আমেরিকানদের উদারতার অপব্যবহার যাতে না হয়, তা নিশ্চিত করতে চায় বিদেশ দফতর। দাবি, ট্রাম্প প্রশাসন সবসময় আমেরিকাকেই অগ্রাধিকার দিয়ে এসেছে।

বিদেশ দফতরের ঘোষণার আগে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজ় প্রথম এই সংক্রান্ত রিপোর্ট প্রকাশ করে। তাতে বলা হয়, আগামী ২১ জানুয়ারি থেকে ভিসায় স্থগিতাদেশ কার্যকর করা হবে। ৭৫টি দেশের তালিকায় রাশিয়া, আফগানিস্তান, ব্রাজ়িল, নাইজ়িরিয়া, তাইল্যান্ডের মতো দেশও রয়েছে বলে ওই রিপোর্টে দাবি করা হয়েছিল। বলা হয়, এই সমস্ত দেশের দূতাবাসগুলিতে ইতিমধ্যে নির্দেশিকা চলে গিয়েছে।

গত নভেম্বরে ট্রাম্প নিজে ঘোষণা করেছিলেন যে, তিনি আমেরিকার স্বার্থে তৃতীয় বিশ্বের সমস্ত দেশের নাগরিকদের জন্য অভিবাসনের দরজা স্থায়ী ভাবে বন্ধ করে দেবেন। তার পরের দিনই আফগানিস্তানের নাগরিকদের ভিসা দেওয়া বন্ধ করা হয়েছিল। হোয়াইট হাউসের সামনে এক আফগান বন্দুকবাজের হামলায় আমেরিকার দু’জন ন্যাশনাল গার্ডের মৃত্যুর পর ওই পদক্ষেপ করেছিলেন ট্রাম্প। এ বার ৭৫টি দেশকে অভিবাসন ভিসা দেওয়া বন্ধ করার কথা জানানো হল।