গত তিন নির্বাচনে ভোটার আস্থাহীনতার চিত্র
৮০ ভাগ ভোটার ভোট দেননি, অনেকের ভোট অন্য কেউ দিয়েছে
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৮:৫৫:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬ ৫৮ বার পড়া হয়েছে
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে অনুষ্ঠিত ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটারদের আস্থা বেশিসংখ্যক হ্রাস পেয়েছে। এই তিন নির্বাচনের অনিয়ম ও দুর্নীতি যাচাই করতে গঠিত তদন্ত কমিশন সম্প্রতি প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে প্রতিবেদনের মাধ্যমে ফলাফল তুলে ধরেছে।
২০১৪ সালের নির্বাচন:
ভোট না দেওয়া ভোটার: ৮১.৮২%
ভোট না দেওয়ার প্রধান কারণ: ২৯.৮৭% ভোট অন্য কেউ দিয়েছে, ২৮.৫৭% নির্বাচন ব্যবস্থার ওপর আস্থা হারানো
নির্বাচনের অবাধ ও সুষ্ঠু হওয়া: ৮৮.৫৭% ভোটার মনে করেন একদমই অবাধ ও সুষ্ঠু হয়নি
নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের নিরপেক্ষতা: যথাক্রমে ৮৭.৩২% ও ৮৪.০৫% ভোটার একদমই নিরপেক্ষ ছিল না বলে মন্তব্য করেছেন
২০১৮ সালের নির্বাচন:
ভোট না দেওয়া ভোটার: ৮৪%
ভোট না দেওয়ার প্রধান কারণ: ৪৫% ভোট অন্য কেউ দিয়েছে, ৩২% নির্বাচন ব্যবস্থার ওপর আস্থা হারানো
ভোটের অবাধ ও সুষ্ঠু হওয়া: ৯০–৯৩% ভোটার মনে করেন একদমই অবাধ ও সুষ্ঠু হয়নি
কমিশন ও প্রশাসনের নিরপেক্ষতা: ৯০–৯৩% ভোটার একদমই নিরপেক্ষ ছিল না বলে মন্তব্য করেছেন
অনিয়ম দূর করার প্রস্তাব: ৭১.৯৫% ভোটার বলেছেন নির্বাচন কমিশনকে স্বাধীন ও শক্তিশালী করা প্রয়োজন
২০২৪ সালের নির্বাচন:
ভোট না দেওয়া ভোটার: ৮৮.৭৩%
ভোট না দেওয়ার প্রধান কারণ: ৫৫.৫৬% ভোট অন্য কেউ দিয়েছে, ৩০.১৬% নির্বাচন ব্যবস্থার ওপর আস্থা হারানো
নির্বাচনের অবাধ ও সুষ্ঠু হওয়া: ৯২% ভোটার একদমই অবাধ ও সুষ্ঠু হয়নি মনে করছেন
কমিশন ও প্রশাসনের নিরপেক্ষতা: ৯২% ভোটার একদমই নিরপেক্ষ ছিল না বলে মন্তব্য করেছেন
অনিয়ম দূর করার প্রস্তাব: প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা, নির্বাচন কমিশনকে স্বাধীন ও শক্তিশালী করা, ভোটকেন্দ্রে নিরাপত্তা জোরদার, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আইনের আওতায় আনা, নির্বাচনী আইন সংস্কার, নির্বাচনী অনিয়মের সঠিক তদন্ত ও বিচার, যোগ্য ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহাল—এই বিষয়গুলো ভোটারদের মূল দাবি।
সারসংক্ষেপ:
তিন নির্বাচনে প্রায় ৮০–৮৮% ভোটার ভোট দেননি।
ভোটারদের প্রায় অর্ধেকের ভোট বুথে পৌঁছানোর আগেই অন্য কেউ দিয়েছে।
নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের নিরপেক্ষতা ও নির্বাচনের সুষ্ঠুতায় জনগণের আস্থা মারাত্মকভাবে কমেছে।





















