ঢাকা ০২:৩৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৭ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

ট্রাম্প–নেতানিয়াহুকে ‘প্রধান খুনি’ বলল ইরান

বাংলা টাইমস ডেস্ক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১০:০৬:৩৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬ ২১ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ইরানে বিক্ষোভ ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও তেল আবিবকে আবারও তীব্র ভাষায় আক্রমণ করল তেহরান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যের পর ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা প্রধান আলি লারিজানি ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে একই শিবিরে ফেলে ইরানিদের ‘প্রধান খুনি’ বলে মন্তব্য করেন।

ইরানে মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে শুরু হওয়া বিক্ষোভ এখন নতুন মোড় নিয়েছে। বিক্ষুব্ধ জনতা এখন মুখোমুখি হয়েছে দেশের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেনেইয়ের। রাজধানীসহ বিভিন্ন শহরে চলছে শ্লোগান, মিছিল ও বিক্ষোভ। সরকারি দমন-পীড়নের অভিযোগও বাড়ছে।

এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্প একাধিকবার বিক্ষোভকারীদের প্রতি সমর্থন জানিয়ে তেহরান প্রশাসনের কঠোর সমালোচনা করছেন। তিনি জানিয়েছেন— ইরান সরকারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র আপাতত কোনো আলোচনায় যাবে না, বিক্ষোভকারীদের আন্দোলন চালিয়ে যেতে হবে, যুক্তরাষ্ট্র “সব ধরনের সাহায্য” করবে।

ট্রাম্পের এই অবস্থানকে ‘হস্তক্ষেপ’ বলছে তেহরান। ক্ষোভ উগরে দিয়ে লারিজানি এক্স-এ লিখেছেন: “আমরা ইরানের জনগণের প্রধান হত্যাকারীর নাম ঘোষণা করছি।” তাঁর তালিকার প্রথমে ট্রাম্প ও দ্বিতীয় স্থানে নেতানিয়াহু।

জাতিসংঘেও মার্কিন প্রশাসনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলে ইরান। জাতিসংঘে ইরানের রাষ্ট্রদূত আমির সৈয়দ ইরাভানি নিরাপত্তা পরিষদে চিঠি দিয়ে দাবি করেন— “ইরানিদের, বিশেষ করে তরুণদের মৃত্যুর জন্য দায়ী একমাত্র আমেরিকা ও ইসরায়েল।” তিনি ট্রাম্পকে বিক্ষোভ উসকে দেওয়ার অভিযোগও করেন।

গত ২৭ ডিসেম্বর তেহরানে দোকানিদের বিক্ষোভ দিয়ে মূল্যবৃদ্ধি ও মুদ্রাস্ফীতিবিরোধী আন্দোলনের সূচনা হয়। পরে তা পুরো দেশে ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগ চালানোয় যুক্তরাষ্ট্র প্রকাশ্যে অসন্তুষ্টি জানিয়েছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইরানের পরিস্থিতিতে মার্কিন হস্তক্ষেপের সম্ভাব্য বিকল্প ও কঠোর পদক্ষেপ নিয়ে হোয়াইট হাউসে আলোচনা হয়েছে।

এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প আরও সতর্ক করে বলেন— “ইরান সরকার যদি বিক্ষোভকারীদের ফাঁসি দেওয়া শুরু করে, তবে আমেরিকা খুব কঠোর পদক্ষেপ নেবে।”

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

ট্রাম্প–নেতানিয়াহুকে ‘প্রধান খুনি’ বলল ইরান

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১০:০৬:৩৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬

ইরানে বিক্ষোভ ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও তেল আবিবকে আবারও তীব্র ভাষায় আক্রমণ করল তেহরান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যের পর ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা প্রধান আলি লারিজানি ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে একই শিবিরে ফেলে ইরানিদের ‘প্রধান খুনি’ বলে মন্তব্য করেন।

ইরানে মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে শুরু হওয়া বিক্ষোভ এখন নতুন মোড় নিয়েছে। বিক্ষুব্ধ জনতা এখন মুখোমুখি হয়েছে দেশের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেনেইয়ের। রাজধানীসহ বিভিন্ন শহরে চলছে শ্লোগান, মিছিল ও বিক্ষোভ। সরকারি দমন-পীড়নের অভিযোগও বাড়ছে।

এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্প একাধিকবার বিক্ষোভকারীদের প্রতি সমর্থন জানিয়ে তেহরান প্রশাসনের কঠোর সমালোচনা করছেন। তিনি জানিয়েছেন— ইরান সরকারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র আপাতত কোনো আলোচনায় যাবে না, বিক্ষোভকারীদের আন্দোলন চালিয়ে যেতে হবে, যুক্তরাষ্ট্র “সব ধরনের সাহায্য” করবে।

ট্রাম্পের এই অবস্থানকে ‘হস্তক্ষেপ’ বলছে তেহরান। ক্ষোভ উগরে দিয়ে লারিজানি এক্স-এ লিখেছেন: “আমরা ইরানের জনগণের প্রধান হত্যাকারীর নাম ঘোষণা করছি।” তাঁর তালিকার প্রথমে ট্রাম্প ও দ্বিতীয় স্থানে নেতানিয়াহু।

জাতিসংঘেও মার্কিন প্রশাসনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলে ইরান। জাতিসংঘে ইরানের রাষ্ট্রদূত আমির সৈয়দ ইরাভানি নিরাপত্তা পরিষদে চিঠি দিয়ে দাবি করেন— “ইরানিদের, বিশেষ করে তরুণদের মৃত্যুর জন্য দায়ী একমাত্র আমেরিকা ও ইসরায়েল।” তিনি ট্রাম্পকে বিক্ষোভ উসকে দেওয়ার অভিযোগও করেন।

গত ২৭ ডিসেম্বর তেহরানে দোকানিদের বিক্ষোভ দিয়ে মূল্যবৃদ্ধি ও মুদ্রাস্ফীতিবিরোধী আন্দোলনের সূচনা হয়। পরে তা পুরো দেশে ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগ চালানোয় যুক্তরাষ্ট্র প্রকাশ্যে অসন্তুষ্টি জানিয়েছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইরানের পরিস্থিতিতে মার্কিন হস্তক্ষেপের সম্ভাব্য বিকল্প ও কঠোর পদক্ষেপ নিয়ে হোয়াইট হাউসে আলোচনা হয়েছে।

এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প আরও সতর্ক করে বলেন— “ইরান সরকার যদি বিক্ষোভকারীদের ফাঁসি দেওয়া শুরু করে, তবে আমেরিকা খুব কঠোর পদক্ষেপ নেবে।”