মিয়ানমারে সংঘাত
হুমকিতে সীমান্তবাসীর জীবন-জীবিকা
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:০১:৫৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬ ৩৮ বার পড়া হয়েছে
মিয়ানমারের অভ্যন্তরে চলমান সংঘাতের প্রভাব বাংলাদেশ সীমান্তে তীব্র আকার ধারণ করেছে। গোলাগুলি ও মর্টারের আওয়াজে টেকনাফের সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোতে ছড়িয়ে পড়েছে আতঙ্ক। বন্ধ হয়ে যাচ্ছে কৃষিকাজ, চাষাবাদ, ঘেরে শ্রম ও নদীতে মাছ ধরা—হুমকিতে পড়েছে সীমান্তবাসীর জীবন-জীবিকা, শিক্ষা ও স্বাভাবিক চলাচল।
স্থানীয়রা বলছেন, মিয়ানমারে সেনাবাহিনী, আরাকান আর্মি ও বিভিন্ন সশস্ত্র গ্রুপের সংঘর্ষ নতুন বিষয় নয়। তবে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে গোলাগুলির তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় অনেক সময় গুলি ও মর্টার শেল এসে পড়ছে বাংলাদেশ ভূখণ্ডে। এতে কাজ বন্ধ হয়ে গেছে, ভর করছে অনিশ্চয়তা।
টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নের লম্বারবিল এলাকা একসময় ভোরেই কৃষক, জেলে ও দিনমজুরদের কর্মচাঞ্চল্যে মুখর থাকত। কিন্তু এখন গোটা জনপদই নীরব।
লম্বারবিল এলাকার কৃষক মোহাম্মদ আলী বলেন—“মিয়ানমারের গোলাগুলির ভয়েই মাঠে যেতে পারি না, নদীতেও নামতে পারি না। এমন চলতে থাকলে পরিবার চালানোই কঠিন হয়ে যাবে।”
আরেক বাসিন্দা শাহীন আলম বলেন—“কাজকর্ম বন্ধ। ঘর থেকে বের হতেও ভয় পাই। কবে গুলি এসে লাগবে বুঝা যায় না।”
রমিজ উদ্দিন জানান—“গোলাগুলির শব্দে সন্তানদের স্কুলে পাঠানো বন্ধ করেছি। বাচ্চারা রাস্তায় থাকাকালীন যদি গুলি লাগে—এই আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছি।”
স্থানীয়দের দাবি, প্রায় দুই বছর ধরে সংঘাত চললেও সাম্প্রতিক সময়ে তা আরও ভয়াবহ হয়েছে। এতে টেকনাফ সীমান্তের হোয়াইক্যং, সাবরাং ও সেন্টমার্টিন ইউনিয়নের মানুষ সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে।
টেকনাফ আমতলী সমাজ কমিটির সভাপতি মো. আলমগীর চৌধুরী বলেন—“সীমান্তমুখী এলাকায় চিংড়ি ঘের, চাষের জমি ও লবণের মাঠ রয়েছে। কিন্তু গোলাগুলির ভয়ে কেউ যেতে পারছে না। রোহিঙ্গা, জান্তা বাহিনী ও আরাকান আর্মির কারণে সীমান্তের মানুষের জীবন এখন ভীষণ ঝুঁকিতে।”
সংঘাতের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ সীমান্তে সতর্কতা জোরদার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। টহল বৃদ্ধি করা হয়েছে, ড্রোন নজরদারি চলছে এবং বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বিজিবির রামু সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন—“বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক। বিজিবি সতর্ক অবস্থায় আছে এবং জনগণকেও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। সীমান্ত সড়ক ও বেড়িবাঁধ এলাকায় সর্বোচ্চ অ্যালার্ট রয়েছে। পরিস্থিতি খারাপ হওয়ার আশঙ্কা নেই, বরং উন্নতি হতে পারে।”
এলাকার সাধারণ মানুষের একটাই প্রশ্ন— “এই পরিস্থিতি থেকে কবে মুক্তি মিলবে?” এ প্রশ্নের উত্তর এখনো অনিশ্চিত। তবে নিশ্চিত বিষয় হলো—মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সংঘাত বাংলাদেশের সীমান্তবাসীর নিরাপত্তা, জীবিকা ও স্বাভাবিক জীবনকে দীর্ঘমেয়াদে অচল করে দিচ্ছে।





















