ঘাসের আঁটিতে জীবিকা
নেপিয়ার বাজারে প্রতিদিন অর্ধলাখ টাকার লেনদেন
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ১১:১৫:৩৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬ ৫৬ বার পড়া হয়েছে
গৃহিণী শাহনাজ বেগম। বাজার শেষে ভ্যানে বাড়ি ফিরছিলেন। হঠাৎ রাস্তার পাশে সবুজ নেপিয়ার হাইব্রিড ঘাসের আঁটি দেখে নামতেই হলো—বাড়িতে গরু আছে, তাই দুই আঁটি ঘাস না কিনলে চলে না। শুধু শাহনাজ নন, প্রতিদিনই উপজেলার বহু গৃহস্থ আক্কেলপুর কলেজ বাজার এলাকায় প্রধান সড়কের পাশ থেকে এভাবে নেপিয়ার ঘাস কিনে নিচ্ছেন গবাদিপশুর খাবার হিসেবে।
এ ঘাসের আঁটিকে ঘিরেই গড়ে উঠেছে এক ব্যস্ত বাজার। প্রতিদিন এখানে ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার আঁটি নেপিয়ার হাইব্রিড ঘাস বিক্রি হয়। দিন শেষে লেনদেনের পরিমাণ অর্ধলাখ টাকার বেশি বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।
নেপিয়ার ঘাস এখন শুধু পশুখাদ্য নয়—এটি কৃষক, বিক্রেতা ও গৃহস্থ—তিন পক্ষের জীবিকার বাহন হয়ে উঠেছে।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) সকালে কলেজ বাজার এলাকায় দেখা যায়, হাসপাতালের সীমানাপ্রাচীর সংলগ্ন প্রধান সড়কের পাশে সারি সারি ঘাস সাজিয়ে বসেছেন ১০–১২ জন বিক্রেতা। গৃহবধূ ও পুরুষ ক্রেতাদের ভিড়ে ব্যস্ত সময় কাটছিল সবার।
ঘাসের দাম—
✔ খুচরা: আঁটি ৩৫ টাকা
✔ পাইকারি: আঁটি ২৮ টাকা
বিক্রেতাদের দাবি, প্রায় ৭-৮ বছর আগে এখানে এই ঘাসের বাজার শুরু হয়। তখন চাহিদা কম থাকলেও এখন প্রতিদিন সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত চলে ব্যস্ততম বেচাকেনা। তবে নির্দিষ্ট জায়গা না থাকা নিয়ে আছে ভোগান্তি।
ঘাস বিক্রেতা কামাল হোসেন বলেন,“আমরা এখানে ১০ জন ব্যবসায়ী। প্রতিদিন গড়ে দুই হাজার আঁটি ঘাস বিক্রি হয়। কিন্তু নির্দিষ্ট জায়গা না থাকায় সমস্যা হয়। ঘাসের আবর্জনাও আমরাই পরিষ্কার করি, অথচ নিয়মিত হাটের হাসিল দিচ্ছি।”
গৃহস্থ বাবলু হোসেন বলেন,“এক দিন পরপর ঘাস কিনতে হয়। বাজারে সহজে ঘাস পাওয়া যায় বলে গরুর খাবার নিয়ে দুশ্চিন্তা কমেছে।”
গৃহবধূ শাহনাজ বেগম বলেন,“বাড়ি বদলগাছি উপজেলার কেশাইল গ্রামে। বাজার করতে এসে ৭০ টাকায় দুই আঁটি ঘাস কিনে নিয়ে যাচ্ছি।”
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত বছর উপজেলায় ৩০ হেক্টর জমিতে নেপিয়ার হাইব্রিড ঘাস চাষ হয়েছে। চলতি বছর সেই পরিমাণ আরও বেড়েছে।
ঘাস চাষে লাভও কম নয়—
✔ এক বিঘা জমিতে খরচ: প্রায় ৩৫ হাজার টাকা
✔ বছরে নিট আয়: প্রায় ১ লাখ টাকা
শ্রীকৃষ্টপুর মহল্লার কৃষক রফিকুল ইসলাম বলেন, “নেপিয়ার ঘাসে ঝুঁকি কম, লাভ নিশ্চিত। তাই প্রায় চার বছর ধরে চাষ করছি।”
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইমরান হোসেন জানান, “নেপিয়ার ঘাস পুষ্টিকর, ঝুঁকি কম এবং লাভ বেশি—তাই কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে। আমরা নিয়মিত পরামর্শ দিচ্ছি।”
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আমিরুল ইসলাম বলেন, “নেপিয়ার হাইব্রিড ঘাসে প্রচুর ভিটামিন থাকে, যা পশুর রোগ প্রতিরোধক্ষমতা ও মাংস বৃদ্ধিতে সহায়ক। সুস্থ-সবল গবাদিপশু পালনে সবুজ ঘাসের বিকল্প নেই।”
তিনি আরও জানান—এলাকার খামারি ও কৃষকদের অনেকেই এখন নেপিয়ার ঘাস চাষে উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন, ফলে চাহিদা দিন দিন বাড়ছে।
নেপিয়ার হাইব্রিড ঘাস আক্কেলপুরে শুধু গবাদিপশুর খাবার নয়—এটি খাদ্য নিরাপত্তা, গ্রামীণ অর্থনীতি ও পরিবারিক জীবিকার সাথে সরাসরি সম্পর্ক তৈরি করেছে। রাস্তার ধারের এই ক্ষুদ্র বাজার তাই ধীরে ধীরে হয়ে উঠেছে একটি স্থানীয় অর্থনৈতিক কেন্দ্র।





















