চাঁদপুরে পাঁচ দশকের রেওয়াজ ভাঙতে প্রস্তুত ৯ গ্রামের নারীরা
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:০৪:০৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬ ৩৮ বার পড়া হয়েছে
চাঁদপুরে পীরের নির্দেশে প্রায় পাঁচ দশক ধরে ভোট প্রদান থেকে বিরত থাকা নয়টি গ্রামের নারীরা এবার সেই পুরোনো রেওয়াজ ভাঙতে চান। প্রথমবারের মতো ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তারা।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) দুপুরে রূপসা দক্ষিণ ইউনিয়নের চরপক্ষিয়া গ্রামে নারীদের ভোটাধিকার নিয়ে সচেতনতামূলক এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ইসলাম ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে নারীদের ভোটের গুরুত্ব তুলে ধরেন বক্তারা।
সভায় বক্তারা বলেন, ইসলাম নারীকে ভোট দেয়ায় কোনো নিষেধাজ্ঞা দেয়নি। তাই নির্বাচন ও গণভোটে অংশগ্রহণ করা ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকেও গ্রহণযোগ্য। এসময় নারীরা শুধু নিজেরাই নয়, এলাকার অন্যান্য নারীদেরও ভোটকেন্দ্রে আনার প্রতিশ্রুতি দেন।
দীর্ঘদিন ভোট না দেয়ার পেছনে পীরের নির্দেশ
স্থানীয়দের দাবি, ১৯৬৯ সালে ভারতের জৈনপুর থেকে আগত এক পীর—মওদুদ হাসান—নারীদের পর্দা ও ভোটকেন্দ্রে না যাওয়ার নির্দেশ দেন। এরপর থেকে বিগত কয়েকটি জাতীয় নির্বাচনেও নারীরা ভোট দেওয়া থেকে বিরত থাকেন। হাটবাজারসহ দৈনন্দিন কাজে অংশ নিলেও ভোটের ক্ষেত্রে তারা ছিলেন অনুপস্থিত।
সম্প্রতি প্রতিবেদন প্রচারের পর বিষয়টি আবার আলোচনায় আসে। এরপর জেলা প্রশাসন সচেতনতা কার্যক্রম জোরদার করে।
চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার মো. নাজমুল ইসলাম সরকার বলেন, ভোটকেন্দ্রে নারীদের সঙ্গে পুরুষের কোনো সম্পর্ক থাকবে না। এখানে এসে নারীরা আমাকে ভোট দিতে যাওয়ার কথা দিয়েছে। আমি বলবো, বিগত সময়ের যে ইতিহাস— এটা আমরা পরিবর্তন করতে পারবো। আজকে সেই পরিবর্তনের শুরু।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। সেই ভোটে অংশগ্রহণের মাধ্যমে চাঁদপুরের এই ৯ গ্রামের নারীরা দীর্ঘবছরের নিষেধাজ্ঞার ইতি টানবেন বলে আশা করা হচ্ছে।





















