নতুন জরিপ
নির্বাচনে বিএনপি–জামায়াত হাড্ডাহাড্ডি প্রতিদ্বন্দ্বী
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৮:০৫:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬ ২৪ বার পড়া হয়েছে
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক-নির্বাচনি জনমত জরিপে বিএনপি ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী প্রার্থীদের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ল’ অ্যান্ড ডিপ্লোম্যাসি (আইআইএলডি) সোমবার (১২ জানুয়ারি) জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬’ শীর্ষক জরিপের ফলাফল প্রকাশ করে। জরিপে দেখা গেছে, বিএনপিকে ভোট দিতে চান ৩৪.৭ শতাংশ ভোটার, আর জামায়াতে ইসলামীকে সমর্থন করবেন ৩৩.৬ শতাংশ। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) পেয়েছে ৭.১ শতাংশ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ৩.১ শতাংশ এবং অন্যান্য দল ৪.৫ শতাংশ সমর্থন।
তবে জরিপে উল্লেখযোগ্য ১৭ শতাংশ ভোটার এখনও সিদ্ধান্তহীন। মেশিন লার্নিং প্রজেকশন অনুযায়ী, তাদের সমর্থন অন্তর্ভুক্ত করলে বিএনপির সমর্থন ৪৩.২ শতাংশ এবং জামায়াতের সমর্থন ৪০.৮ শতাংশে পৌঁছাতে পারে।
জরিপে ভোটারদের সমর্থনের কারণও বিশ্লেষণ করা হয়েছে। বিএনপির ৭২.১ শতাংশ সমর্থক দলটির অভিজ্ঞতা ও প্রশাসনিক সক্ষমতাকে সমর্থনের প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। জামায়াত সমর্থকরা মূলত দলটির সততা ও পরিবর্তনের রাজনীতিকে আকর্ষণীয় মনে করছেন।
ডেমোগ্রাফিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ৩০–৫৯ বছর বয়সী কর্মক্ষম ভোটারদের মধ্যে বিএনপির সমর্থন বেশি। কৃষক (৪২.৬%) ও শ্রমিক (৪০.৬%) শ্রেণিতেও দলটি শক্ত অবস্থানে আছে। তরুণ ভোটার (১৮–২৯ বছর) ও উচ্চশিক্ষিতদের মধ্যে জামায়াতের সমর্থন সর্বোচ্চ, যথাক্রমে ৩৩.৬% ও ৩৭.৪%।
এছাড়া জুলাই অভ্যুত্থানের মাধ্যমে তৈরি জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-কে সমর্থন করার প্রধান কারণ হিসেবে ৩৬.৭ শতাংশ ভোটার ‘জুলাই বিপ্লবে ভ‚মিকা’কে উল্লেখ করেছেন।
জরিপে বলা হয়েছে, ভোটাররা প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, দুর্নীতি দমন এবং ন্যায়বিচারের বিষয়গুলোকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন। নির্বাচনের এই পরিসংখ্যান দেখাচ্ছে, ২০২৬ সালের নির্বাচন হবে ‘অভিজ্ঞতা ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা’ এবং ‘সততা ও ন্যায়বিচার’-এর মধ্যে রাজনৈতিক ও দার্শনিক লড়াই।
জরিপটি ২১ নভেম্বর থেকে ২০ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশের ৬৪টি জেলা ও ২৯৫টি সংসদীয় আসনের ২২,১৭৪ জন ভোটারের মধ্যে পরিচালিত হয়েছে। স্ট্র্যাটিফায়েড স্যাম্পলিং ও পোস্ট-স্ট্র্যাটিফিকেশন ওয়েটিং পদ্ধতি অনুসরণ করে ফলাফল বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন আইআইএলডির চেয়ারম্যান ড. মাহফুজুল হক, রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশিষ্ট শিক্ষক ও গবেষকরা।





















