চট্টগ্রামে নিজের টাকায় নির্বাচন করবেন মাত্র ৭ প্রার্থী
কোটিপতি হয়েও দানের টাকায় নির্বাচন
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৬:১২:০৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬ ৬২ বার পড়া হয়েছে
চট্টগ্রামের ১৬টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী ৩৩ জন প্রার্থীর মধ্যে ২৬ জনই নিজেদের নির্বাচনি ব্যয় চালাতে ধার কিংবা দানের অর্থের ওপর নির্ভর করছেন—এমন তথ্য উঠে এসেছে নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া তাদের হলফনামা থেকে।
এদের অনেকেই কোটিপতি। তারপরও স্ত্রী–সন্তান–আত্মীয় বা শুভাকাঙ্ক্ষীর সহায়তায় ভোটে নামছেন, যা নির্বাচনি ব্যয় ও দায়বদ্ধতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে।
আলোচিত উদাহরণ
চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) আসনে বিএনপির প্রার্থী আসলাম চৌধুরী। ঘোষিত সম্পদ ৪৫৭ কোটি টাকা হলেও নির্বাচনে ব্যয় মেটাতে তিনি স্ত্রী জামিলা নাজনীল মাওলার কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা ধার এবং মেয়ে মেহরীন আনহার উজমার কাছ থেকে ২ লাখ টাকা দান নেবেন।
এদিকে চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালি–বাকলিয়া) আসনে জামায়াতের ধনী প্রার্থী একেএম ফজলুল হকও প্রায় ৮ কোটি টাকার সম্পদ থাকার পরও স্ত্রী আমেনা শাহীনের কাছ থেকে ২০ লাখ টাকা ধার নেবেন।
বিএনপির প্রার্থীদেরও পরিবার নির্ভরতা
বিএনপির একাধিক প্রার্থীও অনুরূপভাবে স্বজনদের উপর নির্ভরশীল।
উদাহরণস্বরূপ—
চট্টগ্রাম-১ আসনের নুরুল আমিন (সম্পদ ১.৪৯ কোটি টাকা) জামাতার কাছ থেকে ২০ লাখ টাকা ধার নেবেন।
চট্টগ্রাম-৬ আসনে গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী (২৬ কোটি টাকা সম্পদ) নেবেন ২৫ লাখ টাকা দান।
চট্টগ্রাম-৭ আসনে হুম্মাম কাদের চৌধুরী (৮১.৯ লাখ টাকা সম্পদ) মা–ভাই–স্ত্রীর কাছ থেকে মোট ৩০ লাখ টাকা দান নেবেন।
চট্টগ্রাম-৮ এ এরশাদ উল্লাহ (২৪ কোটি টাকা সম্পদ) স্ত্রীর কাছ থেকে পাবেন ৫ লাখ টাকা দান।
চট্টগ্রাম-১১ এ আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী (১৫ কোটি টাকা সম্পদ) স্ত্রীর কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা ধার নেবেন।
চট্টগ্রাম-১৩ এ সরওয়ার জামাল নিজাম (৬.৪ কোটি টাকা সম্পদ) স্ত্রী ও দুই ছেলের কাছ থেকে ৯ লাখ টাকা দান নেবেন।
চট্টগ্রাম-১৫ এ নাজমুল মোস্তফা আমীন (৩ কোটি টাকা সম্পদ) স্ত্রী–ছেলের কাছ থেকে ৩৫ লাখ টাকা নেবেন।
চট্টগ্রাম-১৬ এ মিশকাতুল ইসলাম (সম্পদ সাড়ে ১৩ কোটি টাকা) স্ত্রীর কাছ থেকে ১৫ লাখ টাকা দান নেবেন।
জামায়াত ও শরিক দলগুলোর ধার-দান নির্ভরতা বেশি
জামায়াত এবং মিত্র দলগুলোর বহু প্রার্থীই সম্পূর্ণভাবে পরিবার ও শুভাকাঙ্ক্ষীর সহায়তায় নির্বাচনি ব্যয় চালাবেন।
যেমন—
চট্টগ্রাম-১ এ মোহাম্মদ ছাইফুর রহমান (৫১.৭ লাখ টাকা সম্পদ) ভাই–ভগ্নিপতি–শুভাকাঙ্ক্ষীর কাছ থেকে মোট ১৪ লাখ টাকা নেবেন।
চট্টগ্রাম-২ এ মোহাম্মদ নুরুল আমিন (২৭.৫ লাখ সম্পদ) স্ত্রী–মেয়ে–তিন শুভাকাঙ্ক্ষীর কাছ থেকে ২২ লাখ টাকা দান নেবেন।
চট্টগ্রাম-৩ এ মুহাম্মদ আলাউদ্দীন সিকদার (১.৬৬ কোটি টাকা সম্পদ) নিজে ৫ লাখ খরচ করবেন, বাকি ১৯ লাখ আসবে ভাই–আত্মীয়দের কাছ থেকে।
চট্টগ্রাম-৪ এ আনোয়ার ছিদ্দিক (৪৩ লাখ সম্পদ) ভাই–শ্বশুর–শুভাকাঙ্ক্ষীর কাছ থেকে ২০ লাখ টাকা নেবেন।
চট্টগ্রাম-৫ এ খেলাফত মজলিসের নাসির উদ্দিন (৮৫.৯৫ লাখ সম্পদ) ভাই ও আত্মীয়ের সহায়তা নেবেন।
চট্টগ্রাম-৬ এ শাহজাহান মঞ্জু ভায়রা ও শুভাকাঙ্ক্ষীর কাছ থেকে ২৫ লাখ টাকা পাবেন।
চট্টগ্রাম-৭ এ এটিএম রেজাউল করিম (৪.৭ কোটি সম্পদ) পাবেন ২০ লাখ টাকা দান।
চট্টগ্রাম-৮ এ আবু নাছের (২.৫৯ কোটি সম্পদ) ভাই–সম্বন্ধীর কাছ থেকে ৭ লাখ টাকা দান নেবেন।
চট্টগ্রাম-১০ এ শামসুজ্জামান হেলালী স্ত্রী–ভাই–ভগ্নিপতি–শুভাকাঙ্ক্ষী মিলে ৩৩ লাখ টাকা জোগাড় করবেন।
চট্টগ্রাম-১১ এ শফিউল আলম ভাই–শাশুড়ি–শুভাকাঙ্ক্ষীর কাছ থেকে ৩৯ লাখ টাকা নেবেন।
চট্টগ্রাম-১৩ এ মাহমুদুল হাসান আত্মীয়দের কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা দান নেবেন।
চট্টগ্রাম-১৪ এ এলডিপির ওমর ফারুক (৩.৩৮ কোটি সম্পদ) স্ত্রীর কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা নেবেন।
চট্টগ্রাম-১৫ এ জামায়াতের শাহজাহান চৌধুরী পাবেন ৪০ লাখ টাকা দান।
চট্টগ্রাম-১৬ এ মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম নেবেন ২৫ লাখ টাকা দান।
নিজস্ব অর্থে নির্বাচন করছেন মাত্র ৭ জন
হলফনামা বিশ্লেষণে দেখা যায়, মাত্র ৭ জন প্রার্থী কোনো ধার বা দান ছাড়াই নিজস্ব খরচে নির্বাচন করবেন। তারা হলেন—
চট্টগ্রাম-১০: সাঈদ আল নোমান
চট্টগ্রাম-২: সরোয়ার আলমগীর
চট্টগ্রাম-৩: মোস্তফা কামাল পাশা
চট্টগ্রাম-৫: ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন
চট্টগ্রাম-৬: গোলাম আকবর খোন্দকার
চট্টগ্রাম-৯: আবু সুফিয়ান
চট্টগ্রাম-১৪: জসীম উদ্দীন আহমেদ
প্রার্থীতা ফিরে পেলেন ৪১ জন
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের দেওয়া সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করা ৭১টি আবেদনের মধ্যে তৃতীয় দিনের শুনানিতে ৪১ জনের আপিল মঞ্জুর হয়েছে।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) নির্বাচন ভবনের অডিটোরিয়ামে আপিল আবেদনের শুনানি করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বে পুরো নির্বাচন কমিশন।
শুনানি শেষে নির্বাচন কমিশন সচিব আখতার আহমেদ জানান, ৪১টি আপিল মঞ্জুর হয়েছে, ২৫টি আবেদন নামঞ্জুর হয়েছে এবং একজন আবেদনকারী অনুপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া ৪টি আপিল এখনও অপেক্ষমান আছে।
এর আগে শনিবার ও রবিবার মোট ১০৯ জন প্রার্থীর আপিল মঞ্জুর হয়েছে। মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে ৭২৩ জন প্রার্থীকে অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছিল, যার মধ্যে ৬৪৫ জন আপিল করেছিলেন।





















