ড. ইফতেখারুজ্জামান
সরকার আমলাতন্ত্রে নতিস্বীকার করছে
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৫:২৬:২০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬ ২৫ বার পড়া হয়েছে
সরকার নীতি ও সিদ্ধান্ত প্রণয়নের ক্ষেত্রে আমলাতন্ত্রের কাছে নতিস্বীকার করছে বলে মন্তব্য করেছেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান। তার দাবি, উপদেষ্টা পরিষদ কোন নথিতে স্বাক্ষর করবে বা কোন সিদ্ধান্ত নেবে, সেটিও আমলাতন্ত্রের অভ্যন্তরের ক্ষমতাবান ব্যক্তিরা নির্ধারণ করেন।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) রাজধানীর ধানমন্ডিতে টিআইবি কার্যালয়ে ‘অন্তর্বর্তী সরকারের অধ্যাদেশ প্রণয়নে সংস্কারবিমুখতা’ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব মন্তব্য করেন। এ সময় টিআইবির প্রস্তুতকৃত একটি পর্যবেক্ষণ উপস্থাপন করা হয়।
ইফতেখারুজ্জামান উপস্থাপনায় বলেন, সামান্য কয়েকটি ব্যতিক্রম ছাড়া অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে অধ্যাদেশ প্রণয়ন হয়েছে একতরফাভাবে, অংশীজনদের সম্পৃক্ততা ছাড়াই। কোনো কোনো ক্ষেত্রে খসড়া অধ্যাদেশ স্বল্প সময়ের জন্য শুধু ওয়েবসাইটে আপলোড করে ‘দায় কাটানোর’ চেষ্টা করা হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, কিছু ক্ষেত্রে প্রতিকূলতা সত্ত্বেও অংশীজনরা আলোচনায় সম্পৃক্ত হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। কিন্তু তাদের উপস্থাপিত সংশোধনী প্রতিশ্রুতি থাকা সত্ত্বেও কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই উপেক্ষিত হয়েছে। এমনকি কিছু অংশীজনের বিরুদ্ধে সরকারের পক্ষ থেকে অপপ্রচার হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
পর্যবেক্ষণে টিআইবি জানায়, দু-একটি ব্যতিক্রম ছাড়া প্রায় সব ক্ষেত্রে সরকার ‘প্রতিরোধক মহলের’, বিশেষ করে আমলাতন্ত্রের প্রভাবশালী অংশের অন্তর্ঘাতমূলক চাপে নতিস্বীকার করেছে। ফলে সংস্কারের লক্ষ্য ব্যাহত হয়েছে।
সরকার কেন নতিস্বীকার করছে—এ প্রশ্নে ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “সুনির্দিষ্ট উত্তর আমার কাছে নেই। তবে দীর্ঘ পর্যবেক্ষণে বুঝেছি, কোন সিদ্ধান্তে কী উপাদান থাকবে তা ঠিক করে দেয় আমলাতন্ত্রের প্রভাবশালী অংশ। এতে শুধু গোষ্ঠীস্বার্থ নয়, রাজনৈতিক স্বার্থও প্রতিফলিত হয়।”
তিনি আরও বলেন, দুর্নীতি দমন কমিশন, পুলিশ কমিশন, সাইবার সুরক্ষা, মানবাধিকার কমিশন, জাতীয় উপাত্ত ব্যবস্থাপনা ও ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষা সংক্রান্ত অধ্যাদেশগুলোতে জাতীয় স্বার্থের তুলনায় ক্ষমতাসীনদের ‘একচ্ছত্র ও জবাবদিহিহীন কর্তৃত্ব’ বজায় রাখার সুযোগ রাখা হয়েছে।
উপসংহারে তিনি মনে করেন, আইন প্রণয়ন ও জনস্বার্থ-সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্ত গ্রহণে সরকার প্রত্যাশিত স্বচ্ছতার উদাহরণ তৈরি করতে পারেনি।























