ঢাকা ১২:৩৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৭ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

বাজার মূল্যের চেয়ে বেশি দামে জমি কিনে ভবন করছে সিটি ব্যাংক, এমডির কারসাজি

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১১:৪৮:৫১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৯ জানুয়ারী ২০২৬ ১৬৫ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ঢাকার গুলশানে সিটি ব্যাংক একটি বিশাল রিয়েল এস্টেট বিনিয়োগ করছে — ৪০ কাঠা জমিতে ২৮ তলা নিজস্ব ভবন নির্মাণ। এতে নতুন ২০ কাঠা জমি কেনা হচ্ছে অনুমোদিত বাজার মূল্যের চেয়ে বেশি দামে। ব্যাংকটি শেয়ারবাজারেও এ সিদ্ধান্ত মূল্য সংবেদনশীল তথ্য (PSI) হিসেবে জানিয়েছে। তবে এই প্রকল্পের ব্যয়, ন্যায্যতা ও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে অর্থনৈতিক বিশ্লেষক, বিনিয়োগকারী ও নিয়ন্ত্রক পর্যবেক্ষকরা।

এরই মধ্যে জমি কেনা ও ভবন নির্মাণের বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক এবং রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) প্রয়োজনীয় অনুমোদন পেয়েছে সিটি ব্যাংক।

বৃহস্পতিবার (৯ জানুয়ারি) বিষয়টি মূল্য–সংবেদনশীল তথ্য হিসেবে শেয়ারবাজারে জানায় ব্যাংকটি। এতে বলা হয়, নতুন ২০ কাঠা জমি কেনায় ব্যয় হবে ৩৪৫ কোটি টাকা; যার মধ্যে জমির দামসহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক ব্যয় অন্তর্ভুক্ত।

আগের ২০ কাঠা ও নতুন কেনা ২০ কাঠা মিলিয়ে ৪০ কাঠা জমির ওপর ভবন নির্মাণের আনুমানিক ব্যয় ধরা হয়েছে ৮৫৫ কোটি টাকা। ফলে জমি কেনা ও ভবন নির্মাণে মোট ব্যয় দাঁড়াচ্ছে প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা।

ব্যাংকটি জানায়, গত ৬ জানুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংক জমি ক্রয় ও ভবন নির্মাণে অনুমোদন দেয়। এরপর গত বুধবার পরিচালনা পর্ষদের সভায় সিদ্ধান্তটি চূড়ান্ত করা হয়।

ব্যাংক সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গুলশানে আগের ২০ কাঠা জমির ওপর থাকা পুরোনো আটতলা ভবন ভেঙে ফেলা হয়েছে এবং নতুন ভবন নির্মাণের জন্য রাজউকের অনুমোদনও পাওয়া গেছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ভবনটি হবে ২৮ তলা; এর মধ্যে ৫ তলা গাড়ি পার্কিং এবং বাকি ২৩ তলাজুড়ে থাকবে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের কার্যক্রম।

জমির পরিমাণ দ্বিগুণ হওয়ায় ভবনের উচ্চতা ও বিন্যাসে পরিবর্তনেরও সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে সূত্র জানায়।

জানা গেছে, সিটি ব্যাংকের এমডি ও সিইও মাসরুর আরেফিন ব্যাংকটির সামগ্রিক কার্যক্রম ও উন্নয়ন কৌশলগতভাবে পরিচালনা করেন। সাধারণত ব্যাংকের বৃহৎ প্রকল্প—যেমন স্থাপনা নির্মাণ, বিশাল ব্যয়-ব্যবস্থাপনা, নীতিনির্ধারণ, অনুমোদনপ্রাপ্ত করপোরেট পলিসি—এসব বিষয়ে পর্ষদ ও পরিচালনা-সম্পর্কিত স্টিয়ারিং কমিট এর পরামর্শ মেনে এমডির নেতৃত্বে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাসরুর আরেফিন বলেন,পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ব্যাংকের ভবনগুলো অত্যন্ত নান্দনিক ও দৃষ্টিনন্দন হয়ে থাকে। আমরাও বাংলাদেশের ব্যাংক খাতে তেমন একটি উদাহরণ তৈরি করতে চাই। এ উদ্যোগে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদনের জন্য কৃতজ্ঞতা জানাই। দ্রুততম সময়ে নিজস্ব ভবন নির্মাণ ও সেখানে কার্যক্রম শুরু করতে চাই।

১৯৮৩ সালে ১২ জন ব্যবসায়ীর উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয় সিটি ব্যাংক। ১৯৮৬ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। ২০০৯ সালে প্রথমবার নিজস্ব ভবনে প্রধান কার্যালয় স্থানান্তর করে ব্যাংকটি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

বাজার মূল্যের চেয়ে বেশি দামে জমি কিনে ভবন করছে সিটি ব্যাংক, এমডির কারসাজি

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১১:৪৮:৫১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৯ জানুয়ারী ২০২৬

ঢাকার গুলশানে সিটি ব্যাংক একটি বিশাল রিয়েল এস্টেট বিনিয়োগ করছে — ৪০ কাঠা জমিতে ২৮ তলা নিজস্ব ভবন নির্মাণ। এতে নতুন ২০ কাঠা জমি কেনা হচ্ছে অনুমোদিত বাজার মূল্যের চেয়ে বেশি দামে। ব্যাংকটি শেয়ারবাজারেও এ সিদ্ধান্ত মূল্য সংবেদনশীল তথ্য (PSI) হিসেবে জানিয়েছে। তবে এই প্রকল্পের ব্যয়, ন্যায্যতা ও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে অর্থনৈতিক বিশ্লেষক, বিনিয়োগকারী ও নিয়ন্ত্রক পর্যবেক্ষকরা।

এরই মধ্যে জমি কেনা ও ভবন নির্মাণের বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক এবং রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) প্রয়োজনীয় অনুমোদন পেয়েছে সিটি ব্যাংক।

বৃহস্পতিবার (৯ জানুয়ারি) বিষয়টি মূল্য–সংবেদনশীল তথ্য হিসেবে শেয়ারবাজারে জানায় ব্যাংকটি। এতে বলা হয়, নতুন ২০ কাঠা জমি কেনায় ব্যয় হবে ৩৪৫ কোটি টাকা; যার মধ্যে জমির দামসহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক ব্যয় অন্তর্ভুক্ত।

আগের ২০ কাঠা ও নতুন কেনা ২০ কাঠা মিলিয়ে ৪০ কাঠা জমির ওপর ভবন নির্মাণের আনুমানিক ব্যয় ধরা হয়েছে ৮৫৫ কোটি টাকা। ফলে জমি কেনা ও ভবন নির্মাণে মোট ব্যয় দাঁড়াচ্ছে প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা।

ব্যাংকটি জানায়, গত ৬ জানুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংক জমি ক্রয় ও ভবন নির্মাণে অনুমোদন দেয়। এরপর গত বুধবার পরিচালনা পর্ষদের সভায় সিদ্ধান্তটি চূড়ান্ত করা হয়।

ব্যাংক সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গুলশানে আগের ২০ কাঠা জমির ওপর থাকা পুরোনো আটতলা ভবন ভেঙে ফেলা হয়েছে এবং নতুন ভবন নির্মাণের জন্য রাজউকের অনুমোদনও পাওয়া গেছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ভবনটি হবে ২৮ তলা; এর মধ্যে ৫ তলা গাড়ি পার্কিং এবং বাকি ২৩ তলাজুড়ে থাকবে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের কার্যক্রম।

জমির পরিমাণ দ্বিগুণ হওয়ায় ভবনের উচ্চতা ও বিন্যাসে পরিবর্তনেরও সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে সূত্র জানায়।

জানা গেছে, সিটি ব্যাংকের এমডি ও সিইও মাসরুর আরেফিন ব্যাংকটির সামগ্রিক কার্যক্রম ও উন্নয়ন কৌশলগতভাবে পরিচালনা করেন। সাধারণত ব্যাংকের বৃহৎ প্রকল্প—যেমন স্থাপনা নির্মাণ, বিশাল ব্যয়-ব্যবস্থাপনা, নীতিনির্ধারণ, অনুমোদনপ্রাপ্ত করপোরেট পলিসি—এসব বিষয়ে পর্ষদ ও পরিচালনা-সম্পর্কিত স্টিয়ারিং কমিট এর পরামর্শ মেনে এমডির নেতৃত্বে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাসরুর আরেফিন বলেন,পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ব্যাংকের ভবনগুলো অত্যন্ত নান্দনিক ও দৃষ্টিনন্দন হয়ে থাকে। আমরাও বাংলাদেশের ব্যাংক খাতে তেমন একটি উদাহরণ তৈরি করতে চাই। এ উদ্যোগে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদনের জন্য কৃতজ্ঞতা জানাই। দ্রুততম সময়ে নিজস্ব ভবন নির্মাণ ও সেখানে কার্যক্রম শুরু করতে চাই।

১৯৮৩ সালে ১২ জন ব্যবসায়ীর উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয় সিটি ব্যাংক। ১৯৮৬ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। ২০০৯ সালে প্রথমবার নিজস্ব ভবনে প্রধান কার্যালয় স্থানান্তর করে ব্যাংকটি।