ঢাকা ০৬:১২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৯ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নিরাপত্তা-রাজনীতি-ক্রিকেটের সন্ধিক্ষণে বাংলাদেশ

ক্রীড়া প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৯:১২:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারী ২০২৬ ৪১ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দশম আসর শুরু হতে আর মাত্র কয়েক সপ্তাহ। কিন্তু মাঠের লড়াই শুরুর আগেই বাংলাদেশ দলের অংশগ্রহণ নিয়ে তৈরি হয়েছে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা। নিরাপত্তাশঙ্কার কারণে ভারতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত জানানোর পর বিসিবি এখন অপেক্ষায় রয়েছে আইসিসির প্রতিক্রিয়ার।

ঘটনার কেন্দ্রবিন্দু ক্রিকেট। কিন্তু খোলস খুললে দেখা যায়, এর ভেতরে রয়েছে নিরাপত্তা-রাজনীতি-অবস্থান ও ভবিষ্যৎ কূটনীতির জটিল সমীকরণ।

এমন এক সময়ে সামনে এল সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবালের মূল্যায়ন। ক্রিকেটার হিসেবে মাঠে শান্ত, পরিমিত ও বাস্তববাদী পরিচয়ের সঙ্গে মিল রেখে তিনিও জানালেন—সিদ্ধান্ত হতে হবে আবেগের বাইরে, হতে হবে ভবিষ্যৎমুখী।

নিরাপত্তার প্রশ্নে বাংলাদেশ দলকে ভারত না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিসিবি—তবে সেটি এসেছে সরকারের কঠোর অবস্থানের পর। কারণ, বিসিবির মতে—যদি একজন ক্রিকেটারকেও নিরাপত্তা দেওয়া না যায়, তবে পুরো দলের নিরাপত্তা কীভাবে দেবে ভারত?

তামিম এখানে পরিষ্কার একটি দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন— সংস্থা হিসেবে বিসিবির স্বাধীনতা। তাঁর ভাষায়, ‘আমরা বিসিবিকে স্বাধীন সংস্থা মনে করি। অবশ্যই সরকার বড় অংশ। কিন্তু বোর্ডের নিজস্ব কিছু সিদ্ধান্তও থাকতে হবে।’

বাংলাদেশ–ভারত রাজনৈতিক সম্পর্ক, আঞ্চলিক কূটনীতি এবং ক্রিকেট কূটনীতি—সব মিলিয়ে মন্তব্যটি হালকা নয়। একজন সাবেক অধিনায়ক হিসেবে তিনি বোর্ডকে স্বাধীন চিন্তার পরিসর দেওয়ার কথাও বললেন।

বাংলাদেশে ক্রিকেট মানেই আবেগ। জাতীয় দলের হার-জিত থেকে দল নির্বাচন—সবকিছু নিয়েই থাকে উত্তেজনা, তর্ক ও দ্বিধা। ভারতের মতো প্রতিপক্ষ হলে সেই আবেগ আরও ঘনীভূত হয়। তামিম সেই আবেগ-বাস্তবতার দ্বন্দ্বটিকে খুব সংক্ষেপে তুলে ধরলেন— ‘দর্শক আবেগে অনেক কিছু বলেন। কিন্তু এত বড় সংস্থা চালাতে গেলে দেখতে হবে—আজকের সিদ্ধান্ত ১০ বছর পর কী প্রভাব ফেলবে।’

এটি প্রকৃত অর্থে একটি নীতিগত বক্তব্য। ক্রিকেট শুধু ম্যাচ নয়—এটি অর্থনীতি, মর্যাদা, ভবিষ্যৎ সুযোগ এবং আন্তর্জাতিক অবস্থানেরও প্রশ্ন।

সংকটের সূচনা—আইপিএলে মোস্তাফিজকে বাদ দেওয়া

এই নাটকের সূচনা মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল দল থেকে বাদ দেওয়াকে ঘিরে। রক্ষণশীল ভারতীয় গোষ্ঠীর নিরাপত্তা হুমকির কারণে বিসিসিআই কলকাতাকে তাঁকে ছাঁটাই করতে নির্দেশ দিলে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে ক্রিকেট মহলে।

তামিমও বিষয়টিকে দুঃখজনক বললেন—‘মোস্তাফিজকে সরানো অবশ্যই দুঃখজনক, এতে কোনো সন্দেহ নেই।’

বিসিবি প্রশ্ন তোলে—যদি একজন খেলোয়াড়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারে, তবে বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলকে কীভাবে নিরাপত্তা দেবে ভারত? তারই ধারাবাহিকতায় বিশ্বকাপের ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় সরানোর দাবি আসে বিসিবির পক্ষ থেকে।

তামিম এখানে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক সামনে আনেন— বিশ্ব ক্রিকেটে বাংলাদেশের অবস্থান। বিশ্ব ক্রিকেটে বাংলাদেশ এখন আর নবীন নয়—কিন্তু প্রভাবশালীও নয়। তাই আন্তর্জাতিক যোগাযোগ, কূটনৈতিক সম্পর্ক এবং ভবিষ্যৎ অবস্থান—এসবই একটি সিদ্ধান্তকে জটিল করে তোলে।

তামিম বলেন—‘ক্রিকেট বিশ্বে আপনার নিজের অবস্থান কোথায়, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ কী হতে পারে—সেটি ভেবে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’

ক্রিকেট শুধু খেলায় নয়—বোর্ডরুমেও শক্তি দরকার। আইসিসি, বিসিসিআই, সম্প্রচার স্বার্থ—সবকিছু এর ভেতরে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

নিরাপত্তা-রাজনীতি-ক্রিকেটের সন্ধিক্ষণে বাংলাদেশ

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৯:১২:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারী ২০২৬

টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দশম আসর শুরু হতে আর মাত্র কয়েক সপ্তাহ। কিন্তু মাঠের লড়াই শুরুর আগেই বাংলাদেশ দলের অংশগ্রহণ নিয়ে তৈরি হয়েছে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা। নিরাপত্তাশঙ্কার কারণে ভারতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত জানানোর পর বিসিবি এখন অপেক্ষায় রয়েছে আইসিসির প্রতিক্রিয়ার।

ঘটনার কেন্দ্রবিন্দু ক্রিকেট। কিন্তু খোলস খুললে দেখা যায়, এর ভেতরে রয়েছে নিরাপত্তা-রাজনীতি-অবস্থান ও ভবিষ্যৎ কূটনীতির জটিল সমীকরণ।

এমন এক সময়ে সামনে এল সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবালের মূল্যায়ন। ক্রিকেটার হিসেবে মাঠে শান্ত, পরিমিত ও বাস্তববাদী পরিচয়ের সঙ্গে মিল রেখে তিনিও জানালেন—সিদ্ধান্ত হতে হবে আবেগের বাইরে, হতে হবে ভবিষ্যৎমুখী।

নিরাপত্তার প্রশ্নে বাংলাদেশ দলকে ভারত না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিসিবি—তবে সেটি এসেছে সরকারের কঠোর অবস্থানের পর। কারণ, বিসিবির মতে—যদি একজন ক্রিকেটারকেও নিরাপত্তা দেওয়া না যায়, তবে পুরো দলের নিরাপত্তা কীভাবে দেবে ভারত?

তামিম এখানে পরিষ্কার একটি দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন— সংস্থা হিসেবে বিসিবির স্বাধীনতা। তাঁর ভাষায়, ‘আমরা বিসিবিকে স্বাধীন সংস্থা মনে করি। অবশ্যই সরকার বড় অংশ। কিন্তু বোর্ডের নিজস্ব কিছু সিদ্ধান্তও থাকতে হবে।’

বাংলাদেশ–ভারত রাজনৈতিক সম্পর্ক, আঞ্চলিক কূটনীতি এবং ক্রিকেট কূটনীতি—সব মিলিয়ে মন্তব্যটি হালকা নয়। একজন সাবেক অধিনায়ক হিসেবে তিনি বোর্ডকে স্বাধীন চিন্তার পরিসর দেওয়ার কথাও বললেন।

বাংলাদেশে ক্রিকেট মানেই আবেগ। জাতীয় দলের হার-জিত থেকে দল নির্বাচন—সবকিছু নিয়েই থাকে উত্তেজনা, তর্ক ও দ্বিধা। ভারতের মতো প্রতিপক্ষ হলে সেই আবেগ আরও ঘনীভূত হয়। তামিম সেই আবেগ-বাস্তবতার দ্বন্দ্বটিকে খুব সংক্ষেপে তুলে ধরলেন— ‘দর্শক আবেগে অনেক কিছু বলেন। কিন্তু এত বড় সংস্থা চালাতে গেলে দেখতে হবে—আজকের সিদ্ধান্ত ১০ বছর পর কী প্রভাব ফেলবে।’

এটি প্রকৃত অর্থে একটি নীতিগত বক্তব্য। ক্রিকেট শুধু ম্যাচ নয়—এটি অর্থনীতি, মর্যাদা, ভবিষ্যৎ সুযোগ এবং আন্তর্জাতিক অবস্থানেরও প্রশ্ন।

সংকটের সূচনা—আইপিএলে মোস্তাফিজকে বাদ দেওয়া

এই নাটকের সূচনা মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল দল থেকে বাদ দেওয়াকে ঘিরে। রক্ষণশীল ভারতীয় গোষ্ঠীর নিরাপত্তা হুমকির কারণে বিসিসিআই কলকাতাকে তাঁকে ছাঁটাই করতে নির্দেশ দিলে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে ক্রিকেট মহলে।

তামিমও বিষয়টিকে দুঃখজনক বললেন—‘মোস্তাফিজকে সরানো অবশ্যই দুঃখজনক, এতে কোনো সন্দেহ নেই।’

বিসিবি প্রশ্ন তোলে—যদি একজন খেলোয়াড়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারে, তবে বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলকে কীভাবে নিরাপত্তা দেবে ভারত? তারই ধারাবাহিকতায় বিশ্বকাপের ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় সরানোর দাবি আসে বিসিবির পক্ষ থেকে।

তামিম এখানে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক সামনে আনেন— বিশ্ব ক্রিকেটে বাংলাদেশের অবস্থান। বিশ্ব ক্রিকেটে বাংলাদেশ এখন আর নবীন নয়—কিন্তু প্রভাবশালীও নয়। তাই আন্তর্জাতিক যোগাযোগ, কূটনৈতিক সম্পর্ক এবং ভবিষ্যৎ অবস্থান—এসবই একটি সিদ্ধান্তকে জটিল করে তোলে।

তামিম বলেন—‘ক্রিকেট বিশ্বে আপনার নিজের অবস্থান কোথায়, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ কী হতে পারে—সেটি ভেবে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’

ক্রিকেট শুধু খেলায় নয়—বোর্ডরুমেও শক্তি দরকার। আইসিসি, বিসিসিআই, সম্প্রচার স্বার্থ—সবকিছু এর ভেতরে।