ঢাকা ০২:৪৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৭ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

শরীকদের আসনে বিদ্রোহীদের ধাক্কা, সংকটে বিএনপি জোট

জয়নাল আবেদিন
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৮:৪৮:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারী ২০২৬ ১২৭ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দেশের রাজনীতিতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে বিএনপির শরিক–চিন্তা যেন উল্টে গিয়ে নিজ দলই হয়ে উঠছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। শরীকদের জন্য ছাড় দেওয়া ১৪টি আসন এখন জোটের জন্য যেমন দর-কষাকষির সাফল্য, তেমনি বিদ্রোহী প্রার্থীদের কারণে পরিণত হয়েছে অনিশ্চয়তার কেন্দ্রবিন্দুতে।

এ সকল আসনের অনেকগুলোতেই বিএনপির হেভিওয়েট নেতারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন, যা শরীকদের মাঝে তৈরি করেছে উদ্বেগ আর প্রশ্ন—শেষ পর্যন্ত কার প্রতীকেই বা কাঙ্ক্ষিত সমর্থন যাবে?

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২—জোটে জুনায়েদ, মাঠে রুমিন

এই জটিলতার সবচেয়ে আলোচিত উদাহরণ ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসন। এখানে জোটের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছেন জুনায়েদ আল হাবীব। কিন্তু বিএনপির আলোচিত নেত্রী রুমিন ফারহানা স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে লড়তে নামায় হিসাবটাই পাল্টে গেছে।

রুমিন স্পষ্ট বক্তব্যই দেন— এতদিন দলের নির্দেশে এখানে কাজ করেছি। এখন সরে যাওয়ার প্রশ্নই আসে না। আর দল তো আমাকে বহিষ্কার করেছে—সুতরাং সমঝোতার জায়গাই নেই।

রুমিনকে বহিষ্কার করে বিএনপি দলীয় শৃঙ্খলার বার্তা দিলেও, শরীকদের জন্য এটি হয়ে উঠেছে ‘অস্বস্তিকর রাজনৈতিক আবহ’।

ঝিনাইদহ-৪—রাশেদের প্রতীক ‘ধানের শীষ’, পাশে বিদ্রোহী

একই চিত্র ঝিনাইদহ-৪ আসনেও। গণঅধিকার পরিষদ ছেড়ে বিএনপিতে যোগ দিয়ে ধানের শীষ প্রতীকে লড়ছেন রাশেদ খান। কিন্তু সেখানে দলেরই এক নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় অস্বস্তি বলয় তৈরি হয়েছে।

রাশেদ সরলভাবে স্বীকার করেন— তিনি মনোনয়ন পাননি বলে কিছুটা সংক্ষুব্ধ হওয়াই স্বাভাবিক। আমি আশাবাদী, তারেক রহমানের সাথে আলাপ হলে সমাধান হবে।

এই বক্তব্যই জানান দেয় শরীক নয়, আসনেই আসল প্রতিদ্বন্দ্বী!

ঢাকা-১২—কোদাল বনাম কাঁটা

ঢাকা-১২ আসনে জোট প্রার্থী ও বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক নিজ দলের প্রতীক ‘কোদাল’ নিয়েই লড়ছেন। কিন্তু বিদ্রোহীদের কারণে তার জোট-সুবিধাটিও যেন ক্ষয়ে যাচ্ছে।

তার ভাষায়— যেখানে শরীকদের সমঝোতা হয়েছে সেখানেও সমস্যা, আবার বিএনপি যেখানে প্রতীক নিয়ে লড়ছে সেখানেও বিদ্রোহী আছে। বিএনপির জন্য এটি এখনো গলার কাঁটার মতো।

নূরুল হক নূরের ভিন্ন পরামর্শ—বহিষ্কার নয়, আলোচনায় সমাধান

পটুয়াখালী-৩ আসনের জোট প্রার্থী ও গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নূরুল হক নূর এই সংকটকে দেখছেন অন্য দৃষ্টিতে। তার পরামর্শ— বহিষ্কার না করে আলোচনার মাধ্যমে যদি তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করানো যায়, সেটা উত্তম। যারা দাঁড়িয়েছেন, দলে তাদের ত্যাগ আছে, মনোনয়নপ্রত্যাশা ছিল, তাদের একটা আবেগও আছে।

নূরের বার্তাটি শরীকদের মধ্যে সমঝোতার পথ খুলতে পারে, তবে বাস্তবায়নের প্রশ্নটাই এখন মুখ্য।

শরীকদের আশা—হাইকমান্ডেই সমাধান

জোটের শরীকরা এখনো আশাবাদী— বিএনপির হাইকমান্ডের হস্তক্ষেপে বিদ্রোহী প্রার্থীরা মনোনয়ন প্রত্যাহার করবেন এবং জোটের বিজয়ের সম্ভাবনা বাড়বে। কিন্তু সময় দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে। প্রশ্ন এখন—‘জোট রাজনীতি ধরে রাখতে বিএনপি কি বিদ্রোহ ঠেকাতে পারবে?’

শরিকদের প্রত্যাশা—বিএনপির হাইকমান্ড দ্রুত হস্তক্ষেপ করে বিদ্রোহীদের মনোনয়ন প্রত্যাহারে রাজি করাবে এবং বিরোধী জোটের বিজয়ের পথ সুগম হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

শরীকদের আসনে বিদ্রোহীদের ধাক্কা, সংকটে বিএনপি জোট

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৮:৪৮:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারী ২০২৬

দেশের রাজনীতিতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে বিএনপির শরিক–চিন্তা যেন উল্টে গিয়ে নিজ দলই হয়ে উঠছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। শরীকদের জন্য ছাড় দেওয়া ১৪টি আসন এখন জোটের জন্য যেমন দর-কষাকষির সাফল্য, তেমনি বিদ্রোহী প্রার্থীদের কারণে পরিণত হয়েছে অনিশ্চয়তার কেন্দ্রবিন্দুতে।

এ সকল আসনের অনেকগুলোতেই বিএনপির হেভিওয়েট নেতারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন, যা শরীকদের মাঝে তৈরি করেছে উদ্বেগ আর প্রশ্ন—শেষ পর্যন্ত কার প্রতীকেই বা কাঙ্ক্ষিত সমর্থন যাবে?

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২—জোটে জুনায়েদ, মাঠে রুমিন

এই জটিলতার সবচেয়ে আলোচিত উদাহরণ ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসন। এখানে জোটের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছেন জুনায়েদ আল হাবীব। কিন্তু বিএনপির আলোচিত নেত্রী রুমিন ফারহানা স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে লড়তে নামায় হিসাবটাই পাল্টে গেছে।

রুমিন স্পষ্ট বক্তব্যই দেন— এতদিন দলের নির্দেশে এখানে কাজ করেছি। এখন সরে যাওয়ার প্রশ্নই আসে না। আর দল তো আমাকে বহিষ্কার করেছে—সুতরাং সমঝোতার জায়গাই নেই।

রুমিনকে বহিষ্কার করে বিএনপি দলীয় শৃঙ্খলার বার্তা দিলেও, শরীকদের জন্য এটি হয়ে উঠেছে ‘অস্বস্তিকর রাজনৈতিক আবহ’।

ঝিনাইদহ-৪—রাশেদের প্রতীক ‘ধানের শীষ’, পাশে বিদ্রোহী

একই চিত্র ঝিনাইদহ-৪ আসনেও। গণঅধিকার পরিষদ ছেড়ে বিএনপিতে যোগ দিয়ে ধানের শীষ প্রতীকে লড়ছেন রাশেদ খান। কিন্তু সেখানে দলেরই এক নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় অস্বস্তি বলয় তৈরি হয়েছে।

রাশেদ সরলভাবে স্বীকার করেন— তিনি মনোনয়ন পাননি বলে কিছুটা সংক্ষুব্ধ হওয়াই স্বাভাবিক। আমি আশাবাদী, তারেক রহমানের সাথে আলাপ হলে সমাধান হবে।

এই বক্তব্যই জানান দেয় শরীক নয়, আসনেই আসল প্রতিদ্বন্দ্বী!

ঢাকা-১২—কোদাল বনাম কাঁটা

ঢাকা-১২ আসনে জোট প্রার্থী ও বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক নিজ দলের প্রতীক ‘কোদাল’ নিয়েই লড়ছেন। কিন্তু বিদ্রোহীদের কারণে তার জোট-সুবিধাটিও যেন ক্ষয়ে যাচ্ছে।

তার ভাষায়— যেখানে শরীকদের সমঝোতা হয়েছে সেখানেও সমস্যা, আবার বিএনপি যেখানে প্রতীক নিয়ে লড়ছে সেখানেও বিদ্রোহী আছে। বিএনপির জন্য এটি এখনো গলার কাঁটার মতো।

নূরুল হক নূরের ভিন্ন পরামর্শ—বহিষ্কার নয়, আলোচনায় সমাধান

পটুয়াখালী-৩ আসনের জোট প্রার্থী ও গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নূরুল হক নূর এই সংকটকে দেখছেন অন্য দৃষ্টিতে। তার পরামর্শ— বহিষ্কার না করে আলোচনার মাধ্যমে যদি তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করানো যায়, সেটা উত্তম। যারা দাঁড়িয়েছেন, দলে তাদের ত্যাগ আছে, মনোনয়নপ্রত্যাশা ছিল, তাদের একটা আবেগও আছে।

নূরের বার্তাটি শরীকদের মধ্যে সমঝোতার পথ খুলতে পারে, তবে বাস্তবায়নের প্রশ্নটাই এখন মুখ্য।

শরীকদের আশা—হাইকমান্ডেই সমাধান

জোটের শরীকরা এখনো আশাবাদী— বিএনপির হাইকমান্ডের হস্তক্ষেপে বিদ্রোহী প্রার্থীরা মনোনয়ন প্রত্যাহার করবেন এবং জোটের বিজয়ের সম্ভাবনা বাড়বে। কিন্তু সময় দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে। প্রশ্ন এখন—‘জোট রাজনীতি ধরে রাখতে বিএনপি কি বিদ্রোহ ঠেকাতে পারবে?’

শরিকদের প্রত্যাশা—বিএনপির হাইকমান্ড দ্রুত হস্তক্ষেপ করে বিদ্রোহীদের মনোনয়ন প্রত্যাহারে রাজি করাবে এবং বিরোধী জোটের বিজয়ের পথ সুগম হবে।