ঢাকা ১২:৩৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
শিশু মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতাল এমডি জেলে ‘নাগরিক সমন্বয়’ প্রকল্প বদলে দিল চা-শ্রমিক যুবতীর জীবন ডিসেম্বরে ফিরছেন না শেখ হাসিনা, বাড়ছে অনিশ্চয়তা ৮২৯ স্লিপার বাসই অনুমোদনহীন, বড় ধরনের প্রাণহানির ঝুঁকি সন্তানকে দানের পরও সম্পত্তিতে বাবা-মার অধিকার, আইন পাস খাদ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি আব্দুস সালাম পিন্টু স্কুল ফিডিংয়ের রুটি-ডিম খেয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জে ১২ শিশু অসুস্থ ভিমরুলীর ভাসমান পেয়ারা বাগানে রেস্ট হাউজ, পরিবেশ সুরক্ষায় ডাস্টবিন বিতরণ আগের সরকারের ১,৩০০ প্রকল্পে চলছে যাচাই-বাছাই: অর্থমন্ত্রী প্রয়োজনে জীবন দেব, তবু দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বে আপস নয়: মির্জা ফখরুল

খোকন দাসের মৃত্যু: আতঙ্ক ও শূন্যতার গল্প

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০২:১৬:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ জানুয়ারী ২০২৬ ১৭৮ বার পড়া হয়েছে

স্ত্রী ও সন্তানের সঙ্গে নিহত খোকন চন্দ্র দাস: ছবি-সংগৃহীত

বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বাড়তি আয়ের জন্য কেউরভাঙা বাজারে ওষুধের দোকানের ভেতরেই খোকন চন্দ্র দাস শুরু করেছিলেন মোবাইল ব্যাংকিং। তার আয়েই চলছিল বৃদ্ধ বাবা, স্ত্রী সীমা দাস ও সন্তানদের সংসার—স্বাচ্ছন্দ্যে, নিরাপদে। কিন্তু এক রাতের মধ্যেই সব শেষ।

শরীয়তপুর জেলার ডামুড্যা উপজেলার তিলই গ্রামে গত বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে সন্ত্রাসীরা খোকনকে কুপিয়ে ও পেট্রল দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার সকালেই ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনার পর পরিবার একদিকে নিরাপত্তাহীনতার, অন্যদিকে আর্থিক অনিশ্চয়তার মধ্যে দিশাহারা হয়ে পড়েছে। খোকনের স্ত্রী সীমা দাস বললেন, একমাত্র জায়গা ছিল তার ব্যবসা, এখন সেটিও বন্ধ। বড় ছেলে রাশিয়ায়, ছোট ছেলে স্কুলে। জানি না কীভাবে সংসার চালাব।

আতঙ্ক ছড়ানো সন্ত্রাস

পরেশ চন্দ্র দাস- খোকনের বৃদ্ধ বাবা বলেন,আমি বৃদ্ধ মানুষ, একা চলতে পারি না। একমাত্র ছেলে শেষ অবলম্বন ছিল। এখন কী নিয়ে, কিসের আশায় বাঁচব?

খোকন হামলার আগেই হাসপাতালে বসে সন্ত্রাসীদের নাম বলেছিল। তার বাবা সেই অনুযায়ী ডামুড্যা থানায় মামলা করেন। ঘটনায় সোহাগ খান, রাব্বি মোল্যা ও পলাশ সরদার নামে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

স্বাভাবিক জীবন ভেঙে যাওয়া

খোকনের বাড়ি গ্রামের প্রান্তে, সড়ক থেকে ৫০০ মিটার ভেতরে। বৃদ্ধ বাবা, স্ত্রী ও তিন সন্তান নিয়ে জীবন যাপন করতেন নির্জন ও শান্ত পরিবেশে। প্রতিবেশী নিখিল দাস বলেন,সন্ত্রাসীরা জানত, খোকন রাতের ব্যস্ত সময়ে একা বাড়ি ফিরত। তাই সুযোগটা কাজে লাগাল। টাকা ছিনিয়ে নিল, কুপিয়ে ও আগুন ধরিয়ে হত্যা করল।

পরিবারের একাকীত্ব ও শূন্যতা

খোকনের ছেলে বিশ্বজিৎ (২১) গত বছর কাজের সন্ধানে রাশিয়ায় গিয়েছে। মেজ ছেলে শান্ত (১৬) বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র। ছোট ছেলে আদর (৪)।

সীমা দাস বলেন,শ্বশুর বৃদ্ধ, আমি নিঃশ্বাস নিতে পারি না। সংসার চালানোর মতো কেউ নেই। আতঙ্কে প্রতিদিন কেঁপে যাচ্ছি।

পুলিশ প্রতিশ্রুতি

ডামুড্যা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রবিউল হক বলেন, গ্রেপ্তার তিন আসামিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হবে। খোকনের পরিবারকে নিরাপত্তা দেওয়া হবে। দ্রুততম সময়ে মামলা পরিচালনা করা হবে।

খোকন চন্দ্র দাসের মৃত্যু শুধুই একটি হত্যাকাণ্ড নয়; এটি এক পরিবারের জীবন ও নিরাপত্তার উপরে এক বিশাল ছায়া ফেলেছে। কেউরভাঙা বাজারের ছোট দোকান থেকে শুরু হওয়া স্বাভাবিক জীবন এখন রহস্যময়ী আতঙ্কে ভরা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

খোকন দাসের মৃত্যু: আতঙ্ক ও শূন্যতার গল্প

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০২:১৬:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ জানুয়ারী ২০২৬

বাড়তি আয়ের জন্য কেউরভাঙা বাজারে ওষুধের দোকানের ভেতরেই খোকন চন্দ্র দাস শুরু করেছিলেন মোবাইল ব্যাংকিং। তার আয়েই চলছিল বৃদ্ধ বাবা, স্ত্রী সীমা দাস ও সন্তানদের সংসার—স্বাচ্ছন্দ্যে, নিরাপদে। কিন্তু এক রাতের মধ্যেই সব শেষ।

শরীয়তপুর জেলার ডামুড্যা উপজেলার তিলই গ্রামে গত বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে সন্ত্রাসীরা খোকনকে কুপিয়ে ও পেট্রল দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার সকালেই ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনার পর পরিবার একদিকে নিরাপত্তাহীনতার, অন্যদিকে আর্থিক অনিশ্চয়তার মধ্যে দিশাহারা হয়ে পড়েছে। খোকনের স্ত্রী সীমা দাস বললেন, একমাত্র জায়গা ছিল তার ব্যবসা, এখন সেটিও বন্ধ। বড় ছেলে রাশিয়ায়, ছোট ছেলে স্কুলে। জানি না কীভাবে সংসার চালাব।

আতঙ্ক ছড়ানো সন্ত্রাস

পরেশ চন্দ্র দাস- খোকনের বৃদ্ধ বাবা বলেন,আমি বৃদ্ধ মানুষ, একা চলতে পারি না। একমাত্র ছেলে শেষ অবলম্বন ছিল। এখন কী নিয়ে, কিসের আশায় বাঁচব?

খোকন হামলার আগেই হাসপাতালে বসে সন্ত্রাসীদের নাম বলেছিল। তার বাবা সেই অনুযায়ী ডামুড্যা থানায় মামলা করেন। ঘটনায় সোহাগ খান, রাব্বি মোল্যা ও পলাশ সরদার নামে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

স্বাভাবিক জীবন ভেঙে যাওয়া

খোকনের বাড়ি গ্রামের প্রান্তে, সড়ক থেকে ৫০০ মিটার ভেতরে। বৃদ্ধ বাবা, স্ত্রী ও তিন সন্তান নিয়ে জীবন যাপন করতেন নির্জন ও শান্ত পরিবেশে। প্রতিবেশী নিখিল দাস বলেন,সন্ত্রাসীরা জানত, খোকন রাতের ব্যস্ত সময়ে একা বাড়ি ফিরত। তাই সুযোগটা কাজে লাগাল। টাকা ছিনিয়ে নিল, কুপিয়ে ও আগুন ধরিয়ে হত্যা করল।

পরিবারের একাকীত্ব ও শূন্যতা

খোকনের ছেলে বিশ্বজিৎ (২১) গত বছর কাজের সন্ধানে রাশিয়ায় গিয়েছে। মেজ ছেলে শান্ত (১৬) বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র। ছোট ছেলে আদর (৪)।

সীমা দাস বলেন,শ্বশুর বৃদ্ধ, আমি নিঃশ্বাস নিতে পারি না। সংসার চালানোর মতো কেউ নেই। আতঙ্কে প্রতিদিন কেঁপে যাচ্ছি।

পুলিশ প্রতিশ্রুতি

ডামুড্যা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রবিউল হক বলেন, গ্রেপ্তার তিন আসামিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হবে। খোকনের পরিবারকে নিরাপত্তা দেওয়া হবে। দ্রুততম সময়ে মামলা পরিচালনা করা হবে।

খোকন চন্দ্র দাসের মৃত্যু শুধুই একটি হত্যাকাণ্ড নয়; এটি এক পরিবারের জীবন ও নিরাপত্তার উপরে এক বিশাল ছায়া ফেলেছে। কেউরভাঙা বাজারের ছোট দোকান থেকে শুরু হওয়া স্বাভাবিক জীবন এখন রহস্যময়ী আতঙ্কে ভরা।