ঢাকা ০৯:৪২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬, ৯ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আজ শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস

বাঙালি জাতিকে মেধাশূন্য করতেই বুদ্ধিজীবী হত্যা

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:০২:০৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫ ২৭ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বীর বাঙালির বিজয় যখন দ্বারপ্রান্তে, তখন আত্মসমর্পণের ঠিক আগ মুহূর্তে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের এদেশীয় দোসররা বুদ্ধিজীবীদের গণহত্যা করে। এই দিনটি বাঙালি জাতির ইতিহাসে এক বেদনাঘন ও মর্মন্তুদ স্মৃতিবাহী দিন।

দিবসটি উপলক্ষ্যে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস শহীদ বুদ্ধিজীবীদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে পৃথক বাণী দিয়েছেন।

১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় ডিসেম্বরে পাকিস্তানি হানাদাররা নিজেদের নিশ্চিত পরাজয় আঁচ করতে পারে। তখন বাংলাদেশ ও বাঙালি জাতিকে মেধাশূন্য করার ষড়যন্ত্রে মাতে তারা। যুদ্ধে জয়ী হলেও বাঙালি যেন আর কোনোদিন বিশ্বসভায়, জ্ঞানবিজ্ঞানের ক্ষেত্রে, মেধা-মননে সুস্থ ধারার সংস্কৃতি এবং প্রগতিশীল জাতি হিসেবে মাথা তুলে দাঁড়াতে না পারে। এই ভয়ানক ষড়যন্ত্রের নীল নকশা বাস্তবায়নের জন্য পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বরকে বেছে নেয়।

তারা তাদের এদেশীয় বশংবদ ও সকল দুষ্কর্মের দোসর কুখ্যাত রাজাকার, আল-বদর ও আল-শামস বাহিনীর সহায়তায় বেছে বেছে দেশের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, চিকিৎসক, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, দার্শনিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রের অগ্রগণ্য আলোকিত মানুষদের বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে গিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে।

পাকিস্তানি ঘাতক ও তাদের প্রত্যক্ষ সহযোগিতাকারী এদেশীয় ঘৃণ্য দোসর রাজাকার, আল-বদর ও আল-শামস বাহিনী যে বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ড চালিয়েছিল, তা হিটলারের খুনে বাহিনী গেস্টাপোর বর্বরতাকেও হার মানায়।

১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর বুদ্ধিজীবীদের বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে রাজাকার ও আল-বদরদের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় রাজধানীর রায়ের বাজারের পরিত্যক্ত ইটখোলা, মিরপুরসহ বিভিন্ন বধ্যভূমিতে এনে একে একে হাত-পা-চোখ বেঁধে দেশের খ্যাতিমান এই বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী। পরে এসব জায়গায় পড়ে থাকা আলোকিত এই মানুষগুলোর মৃতদেহ পাওয়ার মধ্য দিয়ে উন্মোচিত হয় পাকিস্তানি ঘাতকদের বুদ্ধিজীবী হত্যার নীলনকশা।

এ ঘটনায় স্তম্ভিত, হতবাক হয় বিশ্ববিবেক। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৪ ডিসেম্বরকে ‘শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষ্যে আগামীকাল সকাল ৭টা ৬ মিনিটে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। এরপর মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক উপদেষ্টার নেতৃত্বে শহীদ বুদ্ধিজীবী পরিবারের সদস্যরা এবং যুদ্ধাহত ও বীর মুক্তিযোদ্ধারা সকালে মিরপুর বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ এবং রায়েরবাজার বধ্যভূমি স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। এরপর সর্বস্তরের মানুষের উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

আজ শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস

বাঙালি জাতিকে মেধাশূন্য করতেই বুদ্ধিজীবী হত্যা

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:০২:০৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫

বীর বাঙালির বিজয় যখন দ্বারপ্রান্তে, তখন আত্মসমর্পণের ঠিক আগ মুহূর্তে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের এদেশীয় দোসররা বুদ্ধিজীবীদের গণহত্যা করে। এই দিনটি বাঙালি জাতির ইতিহাসে এক বেদনাঘন ও মর্মন্তুদ স্মৃতিবাহী দিন।

দিবসটি উপলক্ষ্যে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস শহীদ বুদ্ধিজীবীদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে পৃথক বাণী দিয়েছেন।

১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় ডিসেম্বরে পাকিস্তানি হানাদাররা নিজেদের নিশ্চিত পরাজয় আঁচ করতে পারে। তখন বাংলাদেশ ও বাঙালি জাতিকে মেধাশূন্য করার ষড়যন্ত্রে মাতে তারা। যুদ্ধে জয়ী হলেও বাঙালি যেন আর কোনোদিন বিশ্বসভায়, জ্ঞানবিজ্ঞানের ক্ষেত্রে, মেধা-মননে সুস্থ ধারার সংস্কৃতি এবং প্রগতিশীল জাতি হিসেবে মাথা তুলে দাঁড়াতে না পারে। এই ভয়ানক ষড়যন্ত্রের নীল নকশা বাস্তবায়নের জন্য পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বরকে বেছে নেয়।

তারা তাদের এদেশীয় বশংবদ ও সকল দুষ্কর্মের দোসর কুখ্যাত রাজাকার, আল-বদর ও আল-শামস বাহিনীর সহায়তায় বেছে বেছে দেশের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, চিকিৎসক, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, দার্শনিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রের অগ্রগণ্য আলোকিত মানুষদের বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে গিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে।

পাকিস্তানি ঘাতক ও তাদের প্রত্যক্ষ সহযোগিতাকারী এদেশীয় ঘৃণ্য দোসর রাজাকার, আল-বদর ও আল-শামস বাহিনী যে বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ড চালিয়েছিল, তা হিটলারের খুনে বাহিনী গেস্টাপোর বর্বরতাকেও হার মানায়।

১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর বুদ্ধিজীবীদের বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে রাজাকার ও আল-বদরদের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় রাজধানীর রায়ের বাজারের পরিত্যক্ত ইটখোলা, মিরপুরসহ বিভিন্ন বধ্যভূমিতে এনে একে একে হাত-পা-চোখ বেঁধে দেশের খ্যাতিমান এই বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী। পরে এসব জায়গায় পড়ে থাকা আলোকিত এই মানুষগুলোর মৃতদেহ পাওয়ার মধ্য দিয়ে উন্মোচিত হয় পাকিস্তানি ঘাতকদের বুদ্ধিজীবী হত্যার নীলনকশা।

এ ঘটনায় স্তম্ভিত, হতবাক হয় বিশ্ববিবেক। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৪ ডিসেম্বরকে ‘শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষ্যে আগামীকাল সকাল ৭টা ৬ মিনিটে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। এরপর মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক উপদেষ্টার নেতৃত্বে শহীদ বুদ্ধিজীবী পরিবারের সদস্যরা এবং যুদ্ধাহত ও বীর মুক্তিযোদ্ধারা সকালে মিরপুর বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ এবং রায়েরবাজার বধ্যভূমি স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। এরপর সর্বস্তরের মানুষের উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।