নির্বাচন ঘিরে উদ্বেগ, বাড়তি নিারাপত্তা চয়া ইসি
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:০৩:০৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫ ৩০ বার পড়া হয়েছে
নির্বাচনের আগে নিরাপত্তা জোরদার করা না হলে শঙ্কা আরও বাড়বে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তপশিল ঘোষণার পরদিন শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) বিজয়নগরের বক্স কালভার্ট এলাকায় ওসমান হাদিকে গুলি করে মোটরসাইকেলে আসা দুর্বৃত্তরা। তার মাথায় গুলি লেগেছে। বর্তমানে তিনি রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
যদিও প্রধান নির্বাচন কমিশনার সব ভয়ভীতির ঊর্ধ্বে উঠে নিঃসংকোচে ভোটাধিকার প্রয়োগের জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন। একই সঙ্গে তিনি নিরাপদ ও উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরির ওপরও জোর দিয়েছেন।
বিশ্লেষকের মতে, সরকার দেড় বছরে আইনশৃঙ্খলার উন্নতি দেখলেও মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। কেবল রাজনৈতিক হানাহানি বাড়ছে না, বাড়ছে সামাজিক অপরাধও। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যেদিকে যাচ্ছে, তাতে ইতিহাসের সেরা ও স্মরণীয় নির্বাচন করা দূরে থাক, মোটামুটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করাও কঠিন হবে। প্রশাসনে এখন নানামুখী ধারা চলছে। তফসিল ঘোষণার পর প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নির্বাচন কমিশনের আওতায় চলে গেলেও এর ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ নেই।
২৩ নভেম্বর সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আইনশৃঙ্খলা–সংক্রান্ত কোর কমিটির সভা শেষে মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছিলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ধীরে ধীরে উন্নতির দিকে যাচ্ছে। আমরা যখন দায়িত্ব নিয়েছি, তখন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির মধ্যেই ছিল। গত দেড় বছরের প্রচেষ্টায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে।
এদিকে, সিইসি, নির্বাচন কমিশনার, ইসি সচিব ও রিটার্নিং অফিসারসহ দেশে সব নির্বাচন অফিসে নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) পুলিশের মহাপরিদর্শকসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে এ সংক্রান্ত আলাদা আলাদা চিঠি পাঠানো হয়েছে।
ইসির নির্বাচন পরিচালনা শাখার উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেন এ সংক্রান্ত চিঠি পাঠিয়েছেন।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোট হবে। গত বৃহস্পতিবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিন তফসিল ঘোষণা করেছেন। পরদিনই ঢাকায় একজন সম্ভাব্য প্রার্থী গুলবিদ্ধ হয়েছেন এবং লক্ষ্মীপুর নির্বাচন অফিসে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এরইমধ্যে নিরাপত্তা জোরদারের উদ্যোগ নিল নির্বাচন আয়োজনকারী সাংবিধানিক সংস্থাটি।
ইসির উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেন জানান, সিইসি, চার নির্বাচন কমিশনার ও ইসি সচিবের পুলিশ এসকর্ট নিরাপত্তা বাড়ানো এবং ঢাকা, চট্টগ্রাম ও খুলনা রিটার্নিং অফিসারদের জন্য গানম্যান নিয়োগ ও অন্য রিটার্নিং অফিসারদের নিরাপত্তা বাড়াতে ও সারা দেশের নির্বাচন অফিসের নিরাপত্তা সুনিশ্চিতের জন্য চিঠি দেওয়া হয়েছে।
ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির ওপর হামলা আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বড় কোনও প্রভাব ফেলবে না। নির্দিষ্ট সময়েই নির্বাচন হবে বলে মন্তব্য করেছেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) আব্দুর রহমানেল মাছউদ।
শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) একটি বেসরকারি টেলিভিশনকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন। আব্দুর রহমানেল মাছউদের মতে, বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনায় যদি নির্বাচন অনুষ্ঠান নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়, তাহলে অভিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছানো কঠিন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও জোরদার করতে হবে।
ইসি ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ তারিখ ২৯ ডিসেম্বর, মনোনয়নপত্র বাছাই ৩০ ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত, আপিল দায়েরের শেষ সময় ১১ জানুয়ারি, আপিল নিষ্পত্তি ১২ থেকে ১৮ জানুয়ারি। প্রার্থিতা প্রত্যাহারে শেষ সময় ২০ জানুয়ারি, প্রতীক বরাদ্দ ২১ জানুয়ারি। প্রচার কার্যক্রম চলবে ২২ জানুয়ারি থেকে ভোট শুরুর ৪৮ ঘণ্টা আগ অর্থাৎ ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত। ভোটগ্রহণ হবে ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত।
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে গুলির ঘটনা নির্বাচনি পরিবেশ বানচাল করার নীলনকশা বলে দাবি করেছে বিএনপি।
শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) বিকেলে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ দাবি করা হয়। সেই সঙ্গে এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়।
আক্রমণটিকে সুদূরপ্রসারী অশুভ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়, নিঃসন্দেহে এটি নির্বাচনি পরিবেশ বানচাল করার জন্য সন্ত্রাসী কার্যক্রম বিস্তারের নীলনকশা। দেশের একটি চক্র এ ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। পরিকল্পিতভাবে সমাজে ভয় আর আতঙ্ক ছড়িয়ে ফায়দা হাসিলের চেষ্টা চালানো হচ্ছে। হীন রাজনৈতিক উদ্দেশ্য সাধনে হিংস্র সন্ত্রাসীরা পরিব্যাপ্ত রয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে গণতন্ত্রের বিজয়ের যাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করতেই একটি কুচক্রী মহল দেশকে নৈরাজ্যের অন্ধকারের মধ্যে ঠেলে দিতে চাচ্ছে। শরিফ ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হওয়ার মর্মান্তিক ঘটনা সেই অপতৎপরতারই নির্মম বহিঃপ্রকাশ।
























