মোহাম্মদপুরে মা–মেয়ে হত্যায় গৃহকর্মী আয়েশা গ্রেপ্তার
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০১:১১:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ ডিসেম্বর ২০২৫ ৩১ বার পড়া হয়েছে
রাজধানীর মোহাম্মদপুরে মা–মেয়েকে হত্যার ঘটনায় গৃহকর্মী আয়েশাকে ঝালকাঠি থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বুধবার (১০ ডিসেম্বর) দুপুরে পুলিশের একটি সূত্র জানায়, ঝালকাঠি জেলার নলছিটি এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) উপ কমিশনার (ডিসি) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, গৃহকর্মী আয়শাকে বরিশালের নলছিটি এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে বরিশাল থেকে ঢাকায় নিয়ে আসা হচ্ছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত সংবাদ সম্মেলনে জানানো হবে।
এর আগে সোমবার (৮ ডিসেম্বর) কথিত গৃহকর্মী আয়েশা লায়লা ফিরোজ (৪৮) ও তার মেয়ে নাফিসা লাওয়াল বিনতে আজিজকে (১৫) হত্যা করে পালিয়ে যায়।

সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, সকাল ৭টা ৫১ মিনিটে বোরকা পরে আয়েশা লিফটে উঠে সপ্তম তলায় যায়। পরে সকাল ৯টা ৩৫ মিনিটে মুখে মাস্ক, কাঁধে ব্যাগ ও স্কুল ড্রেস পরে ভবন থেকে বের হয়ে যায়। নিহত নাফিসা মোহাম্মদপুর প্রিপারেটরি স্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী
এদিকে, সোমবার (৮ ডিসেম্বর) রাতে মোহাম্মদপুর থানায় হত্যা মামলা করেন নিহত লায়লা আফরোজের স্বামী আ জ ম আজিজুল ইসলাম। স্ত্রী-কন্যাকে হত্যার জন্য তরুণী গৃহকর্মীকেই সন্দেহ করেছেন তিনি।
ওই গৃহকর্মী জানিয়েছিলেন, তার নাম আয়েশা। তিনি মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্পে থাকেন।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আয়েশা গ্রেপ্তার এড়াতে বারবার অবস্থান পাল্টাচ্ছেন। বাসা থেকে নিয়ে যাওয়া মোবাইল ফোন বন্ধ রেখেছেন। এক কর্মকর্তা জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বাসা থেকে মূল্যবান সামগ্রী চুরির উদ্দেশ্যেই তিনি গৃহকর্মী সেজে ঢুকেছিলেন।
ঢাকা মহানগর পুলিশের মোহাম্মদপুর অঞ্চলের অতিরিক্ত উপকমিশনার জুয়েল রানা বলেন, সন্দেহে থাকা গৃহকর্মীকে মোটামুটিভাবে শনাক্ত করা গেছে। তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে এত নৃশংস সুরতহাল তারা দেখেননি। হত্যার ধরন দেখে মনে হচ্ছে, ঘাতক স্বাভাবিক কেউ নন। একজন অদক্ষ ব্যক্তি এভাবে ধারাবাহিকভাবে আঘাত করতে পারে না।
সুরতহাল প্রতিবেদনে দেখা যায়, লায়লা আফরোজের শরীরজুড়ে রয়েছে প্রায় ৩০টি জখমের চিহ্ন। বাম গাল, থুতনি, গলার নিচ থেকে শুরু করে দুই হাত, বুক ও পেটে ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে। মেয়ের শরীরেও রয়েছে অন্তত চারটি গভীর ক্ষত। ধারালো ছুরিকাঘাতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে দুজনের মৃত্যু হয়েছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ ধরনের আঘাত সাধারণত প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কেউই দিতে পারে। তারা মনে করছেন, হত্যার পর ঘাতক বাথরুমে গিয়ে নিজেকে পরিষ্কার করে ফেলে এবং এরপর স্কুলড্রেস পরে বেরিয়ে যান। এতে হত্যাকাণ্ড গোপন করার একটি পরিকল্পিত প্রয়াস স্পষ্ট।
ময়নাতদন্ত শেষে সোমবার রাতে পরিবারের কাছে মা–মেয়ের মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় গৃহকর্মী আয়েশাকে আসামি করে মোহাম্মদপুর থানায় হত্যা মামলা করেছে পরিবার।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার ইবনে মিজান গণমাধ্যমকে বলেন, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। হত্যার আগে-পরে আয়েশার উপস্থিতি ও আচরণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।






















