ঢাকা ১০:১৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬, ৯ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

পেঁয়াজের লাগাম টানতে আমদানি, ভারত থেকে আসছে দেড় হাজার টন

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:০৮:৪৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৮ ডিসেম্বর ২০২৫ ৪৩ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দেশের বাজারে পেঁয়াজের দামে লাগাম টানতে আমদানি করা হচ্ছে । প্রতিবেশি দেশ ভারত থেকে ১ হাজার ৫০০ টন পেঁয়াজ আমদানি করা হবে। রোববার (৭ ডিসেম্বর) কৃষি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন প্রতিষ্ঠান কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি দিয়েছে।

৫০ জন আমদানিকারককে এ আইপি দেয়া হয়। তবে কোনো আমদানিকারক ৩০ টনের বেশি পেঁয়াজ আমদানি করতে পারবেন না। কেউ দ্বিতীয়বারের জন্য আমদানির আবেদন করতে পারবেন না। আমদানির অনুমতির মেয়াদ ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত।

দেশে সপ্তাহের ব্যবধানে খুচরা বাজারে পেঁয়াজের দাম প্রতি কেজি ১৫০ টাকা ছাড়িয়ে গেছে। এর ফলে গত শনিবার বিজ্ঞপ্তি দিয়ে কৃষি মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি দেওয়া হবে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছিল, গত ১ আগস্ট থেকে যেসব আমদানিকারক আইপির জন্য আবেদন করেছেন, তারাই পাবেন এই সুযোগ।

জানা গেছে, আইপির জন্য ৩ হাজার ৫০০টি আবেদন জমা আছে। রোববার ৫০টি আবেদন বাছাই করা হয়েছে স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার মাধ্যমে।

গত ৯ নভেম্বর বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন বলেছিলেন, বাজারে দাম না কমলে এক সপ্তাহের মধ্যে পেঁয়াজের আইপি দেয়া হবে। তবে দাম স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এলে তা আর দেয়া হবে না।

বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন (বিটিটিসি) এক বছর আগে পেঁয়াজ আমদানিতে ভারতের ওপর নির্ভর না করে বিকল্প উৎস খোঁজার জন্য সরকারকে পরামর্শ দিয়েছিল। উৎসগুলো হচ্ছে পাকিস্তান, তুরস্ক, মিসর, চীন ও মিয়ানমার। বাংলাদেশ এত বছর ভারতের পাশাপাশি মিয়ানমার থেকেও পেঁয়াজ আমদানি করে আসছিল। এ ছাড়া চীন ও তুরস্ক থেকেও পেঁয়াজ আমদানি হচ্ছিল, তবে তা পরিমাণে কম।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, দেশে পেঁয়াজ উৎপাদন বাড়ছে। ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৩৪ লাখ ১৭ হাজার টন, ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে ৩৭ লাখ ৯০ হাজার টন, ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে ৪২ লাখ ৫০ হাজার টন এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছর শেষ না হতেই ৪২ লাখ ৬৪ হাজার টন পেঁয়াজ উৎপাদিত হয়েছে। দেশে বছরে পেঁয়াজের চাহিদা ২৫ থেকে ৩০ লাখ টন। উৎপাদিত পেঁয়াজের কিছু থাকে বীজের জন্য, কিছু পচে যায়। এর ফলে মৌসুম শেষে সরবরাহে একটু টান পড়ে।

আমদানির ঘোষণায় এক দিনের ব্যবধানে ঢাকার খুচরা বাজারে পেঁয়াজের দাম কমেতে শুরু করেছে। প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হয় ১৪০ টাকায়।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

পেঁয়াজের লাগাম টানতে আমদানি, ভারত থেকে আসছে দেড় হাজার টন

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:০৮:৪৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৮ ডিসেম্বর ২০২৫

দেশের বাজারে পেঁয়াজের দামে লাগাম টানতে আমদানি করা হচ্ছে । প্রতিবেশি দেশ ভারত থেকে ১ হাজার ৫০০ টন পেঁয়াজ আমদানি করা হবে। রোববার (৭ ডিসেম্বর) কৃষি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন প্রতিষ্ঠান কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি দিয়েছে।

৫০ জন আমদানিকারককে এ আইপি দেয়া হয়। তবে কোনো আমদানিকারক ৩০ টনের বেশি পেঁয়াজ আমদানি করতে পারবেন না। কেউ দ্বিতীয়বারের জন্য আমদানির আবেদন করতে পারবেন না। আমদানির অনুমতির মেয়াদ ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত।

দেশে সপ্তাহের ব্যবধানে খুচরা বাজারে পেঁয়াজের দাম প্রতি কেজি ১৫০ টাকা ছাড়িয়ে গেছে। এর ফলে গত শনিবার বিজ্ঞপ্তি দিয়ে কৃষি মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি দেওয়া হবে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছিল, গত ১ আগস্ট থেকে যেসব আমদানিকারক আইপির জন্য আবেদন করেছেন, তারাই পাবেন এই সুযোগ।

জানা গেছে, আইপির জন্য ৩ হাজার ৫০০টি আবেদন জমা আছে। রোববার ৫০টি আবেদন বাছাই করা হয়েছে স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার মাধ্যমে।

গত ৯ নভেম্বর বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন বলেছিলেন, বাজারে দাম না কমলে এক সপ্তাহের মধ্যে পেঁয়াজের আইপি দেয়া হবে। তবে দাম স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এলে তা আর দেয়া হবে না।

বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন (বিটিটিসি) এক বছর আগে পেঁয়াজ আমদানিতে ভারতের ওপর নির্ভর না করে বিকল্প উৎস খোঁজার জন্য সরকারকে পরামর্শ দিয়েছিল। উৎসগুলো হচ্ছে পাকিস্তান, তুরস্ক, মিসর, চীন ও মিয়ানমার। বাংলাদেশ এত বছর ভারতের পাশাপাশি মিয়ানমার থেকেও পেঁয়াজ আমদানি করে আসছিল। এ ছাড়া চীন ও তুরস্ক থেকেও পেঁয়াজ আমদানি হচ্ছিল, তবে তা পরিমাণে কম।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, দেশে পেঁয়াজ উৎপাদন বাড়ছে। ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৩৪ লাখ ১৭ হাজার টন, ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে ৩৭ লাখ ৯০ হাজার টন, ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে ৪২ লাখ ৫০ হাজার টন এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছর শেষ না হতেই ৪২ লাখ ৬৪ হাজার টন পেঁয়াজ উৎপাদিত হয়েছে। দেশে বছরে পেঁয়াজের চাহিদা ২৫ থেকে ৩০ লাখ টন। উৎপাদিত পেঁয়াজের কিছু থাকে বীজের জন্য, কিছু পচে যায়। এর ফলে মৌসুম শেষে সরবরাহে একটু টান পড়ে।

আমদানির ঘোষণায় এক দিনের ব্যবধানে ঢাকার খুচরা বাজারে পেঁয়াজের দাম কমেতে শুরু করেছে। প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হয় ১৪০ টাকায়।