খালেদা জিয়ার সিটিস্ক্যান সম্পন্ন, রিপোর্ট স্বাভাবিক
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ১০:২৭:৫১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ ডিসেম্বর ২০২৫ ৪২ বার পড়া হয়েছে
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সিটিস্ক্যান সম্পন্ন হয়েছে। সিটিস্ক্যানের রিপোর্ট স্বাভাবিক এসেছে বলে জানিয়েছে তার চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ড।
রোববার (৭ ডিসেম্বর) রাতে মেডিকেল বোর্ড থেকে এ তথ্য জানানো হয়। এর আগে, পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় দুই দফায় পিছিয়েছে বিদেশে নেয়ার সিদ্ধান্ত। আপাতত রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন। আর তার চিকিৎসার এই কর্মযজ্ঞ তত্ত্বাবধান করছেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্ত্রী ও পুত্রবধূ ডা. জুবাইদা রহমান।
উল্লেখ্য, গত ১৫ দিন ধরে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন খালেদা জিয়া। পাকস্থলির জটিলতার কারণে গতকাল বিএনপি চেয়ারপারসনের এন্ডোস্কোপি করা হয়। শুরুতে কিছুটা রক্তক্ষরণ হলেও পরে তা নিয়ন্ত্রণে আসে।
বর্তমানে দেশি-বিদেশি চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত মেডিকেল বোর্ড তার শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করছেন।
বহু বছর ধরেই খালেদা জিয়া লিভার সিরোসিস, আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিস, কিডনি, ফুসফুস এবং চোখের সমস্যাসহ নানা জটিলতায় ভুগছেন। ঢাকায় নিজের বাসায় থাকা অবস্থাতেই ২০২১ সালের মে মাসে করোনায় আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নেন তিনি। তখনো শ্বাসকষ্টে ভোগার কারণে তাকে করোনারি কেয়ার ইউনিটে থেকে চিকিৎসা নিতে হয়েছিল।
এরপর ২০২৪ সালের জুনে তার হৃদপিণ্ডে পেসমেকার বসানো হয়। তখনো তিনি মূলত হার্ট, কিডনি ও লিভারসহ বিভিন্ন ধরনের রোগে ভুগছিলেন, যা তার শারীরিক অবস্থাকে জটিল করে তুলেছিলো।
এর আগে থেকেই তার হার্টে তিনটি ব্লক ছিল। আগে একটা রিংও পরানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৪ সালের জুনে পোর্টো সিস্টেমেটিক অ্যানেসটোমেসির মাধ্যমে খালেদা জিয়ার লিভারের চিকিৎসাও দেয়া হয়েছে বিদেশ থেকে ডাক্তার এনে।
২০১৮ সালের ৮ই ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছিলো আদালত, তারপর থেকে প্রথমে কারাগারে বিশেষ ব্যবস্থায় ও পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। দুর্নীতির আরেকটি মামলাতেও তাকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
পরে হাসপাতালে থাকা অবস্থাতেই নির্বাহী আদেশে বিশেষ শর্তে মুক্তির পর তিনি গুলশানের বাসায় উঠেন। ২০২৪ সালে অগাস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ছয়ই অগাস্ট রাষ্ট্রপতির নির্বাহী আদেশে তাকে সব দণ্ড থেকে পুরোপুরি মুক্তি দেওয়া হয়। এরপর চলতি বছরের জানুয়ারিতেই তিনি চিকিৎসার জন্য লন্ডনে যান।
পরে ফিরে আসার পরেও ঢাকায় আরও কয়েকবার হাসপাতালে যেতে হয়েছে মিসেস জিয়াকে। সবশেষ ২১শে নভেম্বর সশস্ত্র বাহিনী দিবসের অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার পর তিনি আরও অসুস্থ হয়ে যান ও তার শ্বাসকষ্ট তীব্র হয়ে ওঠে বলে জানা যায়।
এ অবস্থায় গত ২৩শে নভেম্বর তাকে জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালে নেওয়ার পর জানা যায় যে তিনি নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন।






















