ঢাকা ০৬:৩৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫, ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

তারেক রহমানের দেশে ফেরা নিয়ে কৌতূহল বাড়ছে

বিশেষ প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:৩২:৪১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩ ডিসেম্বর ২০২৫ ৩০ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আওয়ামী লীগ সরকারের অত্যাচার, নির্যাতনে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।বিভিন্ন মামলায় তাকে জেলেও পাঠানো হয়। ২০০৮ সালের ওয়ান-ইলেভেনের পর কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে যুক্তরাজ্যে যান। এরপর আর দেশে ফেরেননি।

২০১২ সালে তিনি যুক্তরাজ্যে রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করেন। দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির নেতারা অভিযোগ করেছেন, আওয়ামী লীগ সরকারের মিথ্যা মামলা ও বাধার কারণে তারেক রহমান দেশে ফিরতে পারছেন না। তবে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে দেশে রাজনৈতিক পট পরিবর্তন হয়। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর তারেক রহমানের বিরুদ্ধে করা মামলাগুলো নিষ্পত্তি হয় এবং তিনি খালাস পান। কিন্তু তারপরও তারেক রহমান দেশে ফেরেননি। এখন তার মায়ের গুরুতর অসুস্থতার পরও কেন তিনি লন্ডনে অবস্থান করছেন এ নিয়ে জনমনে কৌতূহল বাড়ছে।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ হয়ে ২৩ নভেম্বর রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হন। প্রথমে ফুসফুসের সংক্রমণের কারণে তার শ্বাসপ্রশ্বাসে সমস্যা দেখা দেয়। এরপর রোগ ছড়িয়ে পড়ে হৃৎপিণ্ড ও ফুসফুসে। গত ২৭ নভেম্বর থেকে তাকে হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) চিকিৎসাধীন। সোমবার (১ ডিসেম্বর) রাতে তার শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি ঘটে এবং ভেন্টিলেটর সহায়তায় রয়েছেন।

খালেদা জিয়ার এ অবস্থায় তার জ্যেষ্ঠ সন্তান তারেক রহমান দেশে ফিরছেন, এমন গুঞ্জন রাজনৈতিক মহলে ছড়িয়ে পড়েছে। যদিও এখন পর্যন্ত আসার স্পষ্ট কিছু জানা যায়নি। তবে শীর্ষ নেতাদের অনেকেই তার ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছেন।

এদিকে, মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) বিকেলে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দ্রুত দেশে ফিরবেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে বিদেশে নেয়ার মতো শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণের পর তারেক রহমান দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেবেন। পরিস্থিতি অপরিবর্তিত থাকলে শিগগিরই দেশে ফিরবেন তিনি।

এর আগে দুপুরে নিজ মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন জানান, তারেক রহমানের দেশে ফেরার বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে এখনো নির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই। তিনি ট্রাভেল পাসও চাননি। চাওয়া মাত্রই তা ইস্যু করা হবে এবং তাকে দেশে ফিরতে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।

তারেক রহমানের দেশে ফেরায় কোনো বাধা নেই বলে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের অনেক সদস্যই জানিয়েছেন।

মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) সকালে ফেসবুক পোস্টে তারেক রহমান লিখেছেন, ‘দেশবাসীর সম্মিলিত সমর্থনই জিয়া পরিবারের শক্তি ও প্রেরণার উৎস। বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতার জন্য যেভাবে সহযোগিতা ও শুভকামনা জানানো হচ্ছে তার জন্য জিয়া পরিবার ও বিএনপির পক্ষ থেকে সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ।’

এর আগে গত শনিবার বাংলাদেশ সময় সকাল পৌনে ৯টার দিকে তারেক রহমান নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে লিখেছিলেন, ‘সংকটকালে মায়ের স্নেহ-স্পর্শ পাওয়ার তীব্র আকাঙ্ক্ষা যেকোনো সন্তানের মতো আমারও রয়েছে।’

তিনি জানান, দেশে ফেরার বিষয়ে সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ তার নিয়ন্ত্রণে নেই এবং বিষয়টি স্পর্শকাতর হওয়ায় বিস্তারিত বলা সম্ভব নয়। তবে রাজনৈতিক বাস্তবতা অনুমোদিত পর্যায়ে পৌঁছালে তিনি দেশে ফিরবেন; এমন আশার কথাও উল্লেখ করেন।

তারেক রহমানের এমন বক্তব্যের পর প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রেস সচিব শফিকুল আলম তার ফেরার বিষয়ে জানিয়েছেন, এ ক্ষেত্রে অন্তর্বর্তী সরকারের কোনো বাধা নেই। আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলও বলেন, দেশে ফেরার ক্ষেত্রে তারেক রহমানের কোনো আইনি বাধা নেই, তার নিজের সিদ্ধান্তই যথেষ্ট।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

তারেক রহমানের দেশে ফেরা নিয়ে কৌতূহল বাড়ছে

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:৩২:৪১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩ ডিসেম্বর ২০২৫

আওয়ামী লীগ সরকারের অত্যাচার, নির্যাতনে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।বিভিন্ন মামলায় তাকে জেলেও পাঠানো হয়। ২০০৮ সালের ওয়ান-ইলেভেনের পর কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে যুক্তরাজ্যে যান। এরপর আর দেশে ফেরেননি।

২০১২ সালে তিনি যুক্তরাজ্যে রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করেন। দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির নেতারা অভিযোগ করেছেন, আওয়ামী লীগ সরকারের মিথ্যা মামলা ও বাধার কারণে তারেক রহমান দেশে ফিরতে পারছেন না। তবে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে দেশে রাজনৈতিক পট পরিবর্তন হয়। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর তারেক রহমানের বিরুদ্ধে করা মামলাগুলো নিষ্পত্তি হয় এবং তিনি খালাস পান। কিন্তু তারপরও তারেক রহমান দেশে ফেরেননি। এখন তার মায়ের গুরুতর অসুস্থতার পরও কেন তিনি লন্ডনে অবস্থান করছেন এ নিয়ে জনমনে কৌতূহল বাড়ছে।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ হয়ে ২৩ নভেম্বর রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হন। প্রথমে ফুসফুসের সংক্রমণের কারণে তার শ্বাসপ্রশ্বাসে সমস্যা দেখা দেয়। এরপর রোগ ছড়িয়ে পড়ে হৃৎপিণ্ড ও ফুসফুসে। গত ২৭ নভেম্বর থেকে তাকে হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) চিকিৎসাধীন। সোমবার (১ ডিসেম্বর) রাতে তার শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি ঘটে এবং ভেন্টিলেটর সহায়তায় রয়েছেন।

খালেদা জিয়ার এ অবস্থায় তার জ্যেষ্ঠ সন্তান তারেক রহমান দেশে ফিরছেন, এমন গুঞ্জন রাজনৈতিক মহলে ছড়িয়ে পড়েছে। যদিও এখন পর্যন্ত আসার স্পষ্ট কিছু জানা যায়নি। তবে শীর্ষ নেতাদের অনেকেই তার ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছেন।

এদিকে, মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) বিকেলে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দ্রুত দেশে ফিরবেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে বিদেশে নেয়ার মতো শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণের পর তারেক রহমান দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেবেন। পরিস্থিতি অপরিবর্তিত থাকলে শিগগিরই দেশে ফিরবেন তিনি।

এর আগে দুপুরে নিজ মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন জানান, তারেক রহমানের দেশে ফেরার বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে এখনো নির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই। তিনি ট্রাভেল পাসও চাননি। চাওয়া মাত্রই তা ইস্যু করা হবে এবং তাকে দেশে ফিরতে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।

তারেক রহমানের দেশে ফেরায় কোনো বাধা নেই বলে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের অনেক সদস্যই জানিয়েছেন।

মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) সকালে ফেসবুক পোস্টে তারেক রহমান লিখেছেন, ‘দেশবাসীর সম্মিলিত সমর্থনই জিয়া পরিবারের শক্তি ও প্রেরণার উৎস। বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতার জন্য যেভাবে সহযোগিতা ও শুভকামনা জানানো হচ্ছে তার জন্য জিয়া পরিবার ও বিএনপির পক্ষ থেকে সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ।’

এর আগে গত শনিবার বাংলাদেশ সময় সকাল পৌনে ৯টার দিকে তারেক রহমান নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে লিখেছিলেন, ‘সংকটকালে মায়ের স্নেহ-স্পর্শ পাওয়ার তীব্র আকাঙ্ক্ষা যেকোনো সন্তানের মতো আমারও রয়েছে।’

তিনি জানান, দেশে ফেরার বিষয়ে সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ তার নিয়ন্ত্রণে নেই এবং বিষয়টি স্পর্শকাতর হওয়ায় বিস্তারিত বলা সম্ভব নয়। তবে রাজনৈতিক বাস্তবতা অনুমোদিত পর্যায়ে পৌঁছালে তিনি দেশে ফিরবেন; এমন আশার কথাও উল্লেখ করেন।

তারেক রহমানের এমন বক্তব্যের পর প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রেস সচিব শফিকুল আলম তার ফেরার বিষয়ে জানিয়েছেন, এ ক্ষেত্রে অন্তর্বর্তী সরকারের কোনো বাধা নেই। আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলও বলেন, দেশে ফেরার ক্ষেত্রে তারেক রহমানের কোনো আইনি বাধা নেই, তার নিজের সিদ্ধান্তই যথেষ্ট।