ঢাকা ০৬:৩২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫, ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বস্তাবন্দি করে কুকুরছানা হত্যা, কোয়ার্টার থেকে বের করে দেয়া হলো ঘাতককে

মাসুদ রানা, পাবনা
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১১:২৬:২০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৪ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলা পরিষদ চত্বরে মা কুকুরের অগোচরে ৮টি ছানাকে বস্তাবন্দি করে পুকুরে ডুবিয়ে হত্যাকারীকে উপজেলা পরিষদের সরকারি কোয়ার্টার থেকে বের করে দেয়া হয়েছে। এ ঘটনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শহরজুড়ে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ফেসবুক জুড়ে বইছে তীব্র সমালোচনার ঝড়।

রোববার (৩০ নভেম্বর) সন্ধ্যার পর পরিষদ চত্বরের আবাসিক এলাকায় গেজেটেড ভবনে বসবাসরত ক্ষুদ্র কৃষক ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তার স্ত্রী নিশি বেগমের মাধ্যমে অমানবিকভাবে আটটি কুকুর ছানা ডুবিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে।

সোমবার রাতেই উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি চিঠি আকারে অভিযুক্ত ক্ষুদ্র কৃষক ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তার স্ত্রী নিশি বেগমকে তার কোয়ার্টার থেকে বের হয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে, বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মনিরুজ্জামান।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় অভিযুক্ত কুকুরছানা হত্যাকারী নিশি বেগম তার কোয়ার্টার থেকে মালামাল সরিয়ে নিচ্ছেন।

ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মনিরুজ্জামান বলেন, ‘বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক, এভাবে আটটি কুকুরছানাকে হত্যা করা মোটেও ঠিক হয়নি, আমরা তদন্ত করে উপজেলা প্রশাসন এবং প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার সঙ্গে সমন্বয় করে কুকুরছানা হত্যাকারীর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’

এ ঘটনার ছবিসহ দ্রুত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ফেসবুক পোস্টেই কুকুর হত্যাকারীর বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করতে থাকেন অনেকেই। এরইমধ্যে মঙ্গলবার ঢাকা থেকে এনিমেল এন্টিভেস্ট কমিটি ঈশ্বরদীতে বিকেলে এসে পৌঁছাবেন বলে জানান প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা।

কুকুরছানা হত্যায় অভিযুক্ত নিশি বলেন, বাচ্চাগুলো এবং বাচ্চার মা আমার বাসায় সিঁড়ির পাশে থাকতো , বাচ্চাগুলো আমাদের খুবই ডিস্টার্ব করত তাই আমি বাজারের ব্যাগে আটটি কুকুর ছানাকে ভরে পুকুরের পাশে একটি গাছের গোড়ায় রেখে আসি। এরপরে হয়তো যে কোনোভাবেই পুকুরের মধ্যে পড়ে যায়, আমি নিজে বাচ্চাগুলোকে পুকুরে ফেলে দেই নাই।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আকলিমা খাতুন বলেন, এটা খুবই অমানবিক। মা কুকুর ইতোমধ্যেই অসুস্থ হয়ে পড়েছে। তাকে আমাদের লোকজন চিকিৎসা দিয়েছে।

তিনি আরো বলেন, প্রাণিসম্পদ অধিদফতর ঈশ্বরদী ও উপজেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে যেহেতু প্রাণী কল্যাণ আইন ২০১৯ এর অধীনে কুকুর ছানা হত্যাকারী অপরাধের কারণে মামলার একটি বিধান রয়েছে, সেহেতু এই অমানবিক কুকুরছানা হত্যাকারী নিশি বেগমের বিরুদ্ধে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব, এমনকি মামলা করারও সিদ্ধান্ত নিতে পারি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

বস্তাবন্দি করে কুকুরছানা হত্যা, কোয়ার্টার থেকে বের করে দেয়া হলো ঘাতককে

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১১:২৬:২০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ ডিসেম্বর ২০২৫

পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলা পরিষদ চত্বরে মা কুকুরের অগোচরে ৮টি ছানাকে বস্তাবন্দি করে পুকুরে ডুবিয়ে হত্যাকারীকে উপজেলা পরিষদের সরকারি কোয়ার্টার থেকে বের করে দেয়া হয়েছে। এ ঘটনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শহরজুড়ে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ফেসবুক জুড়ে বইছে তীব্র সমালোচনার ঝড়।

রোববার (৩০ নভেম্বর) সন্ধ্যার পর পরিষদ চত্বরের আবাসিক এলাকায় গেজেটেড ভবনে বসবাসরত ক্ষুদ্র কৃষক ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তার স্ত্রী নিশি বেগমের মাধ্যমে অমানবিকভাবে আটটি কুকুর ছানা ডুবিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে।

সোমবার রাতেই উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি চিঠি আকারে অভিযুক্ত ক্ষুদ্র কৃষক ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তার স্ত্রী নিশি বেগমকে তার কোয়ার্টার থেকে বের হয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে, বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মনিরুজ্জামান।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় অভিযুক্ত কুকুরছানা হত্যাকারী নিশি বেগম তার কোয়ার্টার থেকে মালামাল সরিয়ে নিচ্ছেন।

ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মনিরুজ্জামান বলেন, ‘বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক, এভাবে আটটি কুকুরছানাকে হত্যা করা মোটেও ঠিক হয়নি, আমরা তদন্ত করে উপজেলা প্রশাসন এবং প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার সঙ্গে সমন্বয় করে কুকুরছানা হত্যাকারীর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’

এ ঘটনার ছবিসহ দ্রুত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ফেসবুক পোস্টেই কুকুর হত্যাকারীর বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করতে থাকেন অনেকেই। এরইমধ্যে মঙ্গলবার ঢাকা থেকে এনিমেল এন্টিভেস্ট কমিটি ঈশ্বরদীতে বিকেলে এসে পৌঁছাবেন বলে জানান প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা।

কুকুরছানা হত্যায় অভিযুক্ত নিশি বলেন, বাচ্চাগুলো এবং বাচ্চার মা আমার বাসায় সিঁড়ির পাশে থাকতো , বাচ্চাগুলো আমাদের খুবই ডিস্টার্ব করত তাই আমি বাজারের ব্যাগে আটটি কুকুর ছানাকে ভরে পুকুরের পাশে একটি গাছের গোড়ায় রেখে আসি। এরপরে হয়তো যে কোনোভাবেই পুকুরের মধ্যে পড়ে যায়, আমি নিজে বাচ্চাগুলোকে পুকুরে ফেলে দেই নাই।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আকলিমা খাতুন বলেন, এটা খুবই অমানবিক। মা কুকুর ইতোমধ্যেই অসুস্থ হয়ে পড়েছে। তাকে আমাদের লোকজন চিকিৎসা দিয়েছে।

তিনি আরো বলেন, প্রাণিসম্পদ অধিদফতর ঈশ্বরদী ও উপজেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে যেহেতু প্রাণী কল্যাণ আইন ২০১৯ এর অধীনে কুকুর ছানা হত্যাকারী অপরাধের কারণে মামলার একটি বিধান রয়েছে, সেহেতু এই অমানবিক কুকুরছানা হত্যাকারী নিশি বেগমের বিরুদ্ধে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব, এমনকি মামলা করারও সিদ্ধান্ত নিতে পারি।