ঢাকা ১১:১৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫, ১ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

৯ মাসে প্রতিদিন ১১টি হত্যা মামলা, পুলিশের ভাষ্য ‘অপরাধ বাড়েনি’

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১০:১৩:৫৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ নভেম্বর ২০২৫ ২৭ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসে প্রতিদিন গড়ে হত্যা মামলা হয়েছে ১১টি। মোট হত্যা মামলার সংখ্যা প্রায় ৩ হাজার। যদিও পুলিশ সদর দপ্তরের দাবি, মামলার সংখ্যা বাড়লেও হত্যাকাণ্ড বাড়েনি, অনেক মামলা আগের বছরের ঘটনায় চলতি বছর হয়েছে।

২৫ মে রাতে বাড্ডায় প্রকাশ্যে হত্যা করা হয় এক বিএনপি নেতাকে। সেপ্টেম্বর মাসে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে দুই যুবককে ছিনতাইকারী বলে পেটানো হলে নিহত হয় একজন। পরে জানা যায়, তা ছিল পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।

পুলিশ সদর দপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে সারা দেশে ২ হাজার ৯১১টি হত্যা মামলা হয়েছে- গড়ে প্রতিদিন ১১টি। গণঅভ্যুত্থানের বছর ২০২৪-এও সারা দেশে ৩ হাজার ৪৩২টি খুনের মামলা নথিভুক্ত হয়- গড়ে যা ৯টির কিছুটা বেশি।

২০২৩ সালে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয় ৩ হাজার ২৩টি। গড়ে খুন আটটি। ২০২২ সালে সারা দেশে খুন ৩ হাজার ১২৬টি। ২০২১ সালে ৩ হাজার ২১৪টি আর ২০২০ সালে ৩ হাজার ৫৩৯টি এবং ২০১৯ সালে ৩ হাজার ৬৫৩টি।

অবশ্য মামলা বাড়লেও হত্যা বাড়েনি বলে মনে করেন পুলিশ সদর দপ্তর। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি গত ১০ বছরের মতোই আছে বলেও মন্তব্য পুলিশের।

বাংলাদেশ পুলিশের এআইজি (মিডিয়া) এইচ এম শাহাদাত হোসাইন বলেন, আমরা বিশ্লেষণ করে দেখেছি খুনের মামলা বাড়েনি। বিগত সময় মামলাগুলো যারা করতে পারেনি, তাদের মামলা এখন হচ্ছে। এ কারণে মামলার সংখ্যা বেশি দেখাচ্ছে। সবমিলিয়ে গত ১০ বছরের অপরাধ একইরকম।

গণ-অভ্যুত্থানের পর অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় প্রয়োজনীয় উদ্যোগ এবং চলমান আইনি কাঠামো যথাযথভাবে বাস্তবায়নে ঘাটতি থাকাতেই কমানো যাচ্ছে না হত্যার মতো অপরাধ- বলছেন বিশ্লেষকরা।

সমাজ ও অপরাধ বিশ্লেষক ড. তৌহিদুল হক, যারা অভিযুক্ত তাদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে আইনের আওতায় নিয়ে আসা এবং নিরপেক্ষ ও বস্তুনিষ্ঠ তদন্ত করা, সময়ক্ষেপণ না করা– এ কাজগুলো করার ক্ষেত্রে; এই প্রসঙ্গগুলোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যথাযথ ভূমিকা পালন করতে পারছে না।

সামনে নির্বাচন- তাই এখন থেকে হত্যাসহ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আরও কঠোর হওয়ার তাগিদ বিশ্লেষকদের।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

৯ মাসে প্রতিদিন ১১টি হত্যা মামলা, পুলিশের ভাষ্য ‘অপরাধ বাড়েনি’

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১০:১৩:৫৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ নভেম্বর ২০২৫

চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসে প্রতিদিন গড়ে হত্যা মামলা হয়েছে ১১টি। মোট হত্যা মামলার সংখ্যা প্রায় ৩ হাজার। যদিও পুলিশ সদর দপ্তরের দাবি, মামলার সংখ্যা বাড়লেও হত্যাকাণ্ড বাড়েনি, অনেক মামলা আগের বছরের ঘটনায় চলতি বছর হয়েছে।

২৫ মে রাতে বাড্ডায় প্রকাশ্যে হত্যা করা হয় এক বিএনপি নেতাকে। সেপ্টেম্বর মাসে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে দুই যুবককে ছিনতাইকারী বলে পেটানো হলে নিহত হয় একজন। পরে জানা যায়, তা ছিল পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।

পুলিশ সদর দপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে সারা দেশে ২ হাজার ৯১১টি হত্যা মামলা হয়েছে- গড়ে প্রতিদিন ১১টি। গণঅভ্যুত্থানের বছর ২০২৪-এও সারা দেশে ৩ হাজার ৪৩২টি খুনের মামলা নথিভুক্ত হয়- গড়ে যা ৯টির কিছুটা বেশি।

২০২৩ সালে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয় ৩ হাজার ২৩টি। গড়ে খুন আটটি। ২০২২ সালে সারা দেশে খুন ৩ হাজার ১২৬টি। ২০২১ সালে ৩ হাজার ২১৪টি আর ২০২০ সালে ৩ হাজার ৫৩৯টি এবং ২০১৯ সালে ৩ হাজার ৬৫৩টি।

অবশ্য মামলা বাড়লেও হত্যা বাড়েনি বলে মনে করেন পুলিশ সদর দপ্তর। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি গত ১০ বছরের মতোই আছে বলেও মন্তব্য পুলিশের।

বাংলাদেশ পুলিশের এআইজি (মিডিয়া) এইচ এম শাহাদাত হোসাইন বলেন, আমরা বিশ্লেষণ করে দেখেছি খুনের মামলা বাড়েনি। বিগত সময় মামলাগুলো যারা করতে পারেনি, তাদের মামলা এখন হচ্ছে। এ কারণে মামলার সংখ্যা বেশি দেখাচ্ছে। সবমিলিয়ে গত ১০ বছরের অপরাধ একইরকম।

গণ-অভ্যুত্থানের পর অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় প্রয়োজনীয় উদ্যোগ এবং চলমান আইনি কাঠামো যথাযথভাবে বাস্তবায়নে ঘাটতি থাকাতেই কমানো যাচ্ছে না হত্যার মতো অপরাধ- বলছেন বিশ্লেষকরা।

সমাজ ও অপরাধ বিশ্লেষক ড. তৌহিদুল হক, যারা অভিযুক্ত তাদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে আইনের আওতায় নিয়ে আসা এবং নিরপেক্ষ ও বস্তুনিষ্ঠ তদন্ত করা, সময়ক্ষেপণ না করা– এ কাজগুলো করার ক্ষেত্রে; এই প্রসঙ্গগুলোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যথাযথ ভূমিকা পালন করতে পারছে না।

সামনে নির্বাচন- তাই এখন থেকে হত্যাসহ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আরও কঠোর হওয়ার তাগিদ বিশ্লেষকদের।