জাতীয় সংসদ নির্বাচন
রাজশাহীতে নতুন-পুরোনোর মিশ্রণে উচ্ছ্বাস তৃণমূলে
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৫:০০:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ নভেম্বর ২০২৫ ৩৩ বার পড়া হয়েছে
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজশাহীর ছয়টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে বিএনপি। সোমবার (৩ নভেম্বর) গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে দলের স্থায়ী কমিটির জরুরি বৈঠক শেষে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
ঘোষণা অনুযায়ী, রাজশাহীর ছয়টি আসনের মধ্যে দুইটিতে এসেছে নতুন মুখ, আর চারটিতে পুরোনো প্রার্থীরাই পুনরায় টিকিট পেয়েছেন। এর মধ্যে নতুন মুখ হিসেবে প্রথমবার মনোনয়ন পেয়েছেন রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী-তানোর) আসনে মেজর জেনারেল (অব.) শরীফ উদ্দীন এবং রাজশাহী-৪ (বাগমারা) আসনে ডিএম জিয়াউর রহমান জিয়া।
অন্যদিকে, রাজশাহী-২ (সদর) আসনে আগের মতোই মনোনয়ন পেয়েছেন মিজানুর রহমান মিনু, রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনে অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন, রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া-দুর্গাপুর) আসনে অধ্যাপক নজরুল ইসলাম এবং রাজশাহী-৬ (বাঘা-চারঘাট) আসনে আবু সাঈদ চাঁদ পুনরায় মনোনয়ন পেয়েছেন।
রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী-তানোর)
বরেন্দ্রভূমির অন্তর্গত গোদাগাড়ী ও তানোর উপজেলা নিয়ে গঠিত রাজশাহী-১ আসনে এবার প্রথমবার প্রার্থী হয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা শরীফ উদ্দীন। তিনি প্রয়াত সাবেক মন্ত্রী ব্যারিস্টার আমিনুল হকের ছোট ভাই এবং বর্তমানে বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য। বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে তিনি সামরিক সচিবের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ২০১৮ সালের নির্বাচনের আগে থেকেই তিনি রাজনীতির মাঠে সক্রিয় হন। তার বাড়ি গোদাগাড়ী উপজেলায়।
রাজশাহী-২ (সদর)
সিটি করপোরেশন এলাকা নিয়ে গঠিত রাজশাহী-২ আসনে এবারও মনোনয়ন পেয়েছেন মিজানুর রহমান মিনু। তিনি বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও রাজশাহী সিটি করপোরেশনের তিন বারের সাবেক মেয়র। ২০০১ সালের নির্বাচনে তিনি এই আসন থেকে এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন। তার বাড়ি নগরীর ভদ্রা আবাসিক এলাকায়।
রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর)
সিটি করপোরেশনের উপকণ্ঠে পবা ও মোহনপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত রাজশাহী-৩ আসনে এবারও প্রার্থী হয়েছেন অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন। তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক সহ-সম্পাদক এবং রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক। এর আগে ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে তিনি একই আসনে দলের মনোনয়ন পেয়েছিলেন। তার বাড়ি নগরীর সপুরা এলাকায়।
রাজশাহী-৪ (বাগমারা)
বাগমারা উপজেলা নিয়ে গঠিত রাজশাহী-৪ আসনে এবার প্রথমবারের মতো মনোনয়ন পেয়েছেন ডিএম জিয়াউর রহমান জিয়া। তিনি উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক। এর আগে তিনি বাগমারা উপজেলা পরিষদ ও আউচপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন। ইউনিয়ন পরিষদ থেকে উঠে আসা এই নেতা ২০১৮ সালেও বিএনপির মনোনয়ন চেয়েছিলেন। তার বাড়ি পশ্চিম বাগমারা উপজেলায়।
রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া-দুর্গাপুর)
জেলার পূর্বাঞ্চলের পুঠিয়া ও দুর্গাপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত রাজশাহী-৫ আসনে এবারও মনোনয়ন পেয়েছেন অধ্যাপক নজরুল ইসলাম। তিনি বর্তমানে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য। এর আগে ২০০৮, ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে দলের মনোনয়ন পেয়েছিলেন। তিনবার মনোনয়ন পেলেও দুবার নির্বাচন করেছেন। তিনি পুঠিয়া উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান। তার বাড়ি পুঠিয়া উপজেলায়।
রাজশাহী-৬ (বাঘা-চারঘাট)
পদ্মাপাড়ের দুই উপজেলা বাঘা ও চারঘাট নিয়ে গঠিত রাজশাহী-৬ আসনে এবারও দলের মনোনয়ন পেয়েছেন আবু সাঈদ চাঁদ। তিনি দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক। ২০১৮ সালেও তিনি একই আসনে দলের প্রার্থী ছিলেন। তিনি চারঘাট উপজেলা পরিষদ ও শলুয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান। তার বাড়ি চারঘাট উপজেলায়।
দলীয় সূত্র জানায়, মাঠপর্যায়ের সংগঠনের মতামত, স্থানীয় জনপ্রিয়তা এবং তৃণমূলের মূল্যায়ন বিবেচনা করেই এবার প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে। মনোনয়ন ঘোষণার পর রাজশাহীর বিভিন্ন স্থানে নেতাকর্মীদের মধ্যে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে। কেউ কেউ মিষ্টি বিতরণ করে আনন্দ প্রকাশ করেন।
রাজশাহীর ছয়টি আসনে এবার বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন ৪৮ জন নেতা। তাদের মধ্যে মনোনীত হয়েছেন এই ছয়জন। তৃণমূলের নেতাকর্মীরা বলছেন, দলের ঐক্য বজায় রেখে মাঠে নামলেই বিজয় নিশ্চিত হবে।





















