বৃষ্টি-বাতাসে আগাম ধান-আলুর ব্যাপক ক্ষতি
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৫:২৫:৫১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ নভেম্বর ২০২৫ ৮৭ বার পড়া হয়েছে
চার সপ্তাহের ব্যবধানে টানা ৩ দিন-রাতের টানা বৃষ্টিতে দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে আগাম আমন ধান,আলু ও শীতকালীন সবজি খেতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।(এর আগে অক্টোবরের ১ম সপ্তাহে টানা ক’দিনের বৃষ্টিতে ব্যাপক ফসলের ক্ষতি হয়েছিল।) বাতাসে নুয়ে পড়ে আগাম জাতের পাকা ধান পানিতে ডুবে নষ্ট হচ্ছে। এদিকে যেসব জমিতে আগাম আলু বপন করা হয়েছে, সেসব জমিতে পানি জমে বীজ আলু পচে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। আগাম শীতকালীন সবজির জমিতেও দেখা দিয়েছে শিকড় পচে যাওয়ার আশঙ্কা। এ নিয়ে কৃষকেরা চরম হতাশায় পড়েছেন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের কাজ চলছে।
শনিবার (১ নভেম্বর) সকালে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, মাঠে মাঠে আগাম জাতের পাকা ধান বাতাসে নুয়ে পড়েছে, কোন কোন জমিতে বৃষ্টির পানিতে ফসল নিমজ্জিত হয়ে আছে । ধানের শীষ ভিজে রং নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, কোথাও কোথাও ঝরে পড়ছে শিষ। আলু খেতে পানি জমে আছে , এতে চরম হতাশায় পড়েছে কৃষকেরা।
বর্তমানে ফসলের মাঠে হাইব্রিট, টিয়া, ধানিগোল্ড, জটাপারি জাতের আগাম আমন ধান রয়েছে,যা আগামী দু’সপ্তাহের মধ্যে কাটা হত। এসব ধান বাতাসে নুয়ে পড়েছে। শুধু ধান নয়, ক্ষতির মুখে পড়েছেন শীতকালীন সবজিচাষিরাও। মাঠে ইতোমধ্যে আগাম আলু, ফুলকপি, বাঁধাকপি, শসা, টমেটো, বেগুন ও মুলার আবাদ হয়েছে। টানা বৃষ্টির কারণে শাক-সবজির খেতে পানি জমে গাছ পচে যাওয়ার উপক্রম।
উপজেলার এলুয়াড়ী ইউনিয়নের জলপাইতলি গ্রামের কৃষক আ. কাদের,বাবুল, গাজ্জালী জানান,এই এলাকায় আমাদের আগাম জাতের আমন ধান আর ১০/১২ দিন গেলেই কাটা যেত।প্রত্যেকের ২থেকে ৪/৫ বিঘার ধান গত ৩দিনের বৃষ্টি -বাতাসে মাটিতে শুয়ে গেছে।সর্বনাশা ক্ষতি হয়ে যাবে। মাটিতে শুয়ে যাওয়া ধান পাতান-চিটা পড়ে,ফলন হয় না।কলেজ শিক্ষক জোবায়ের হোসেন বলেন,আমার ৫বিঘা জমির ধান মাটিতে বৃষ্টি-বাতাসে শুয়ে গেছে। এরকম অনেকের ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

উপজেলার শিবনগর ইউনিয়নের জাফরপুর গ্রামের কৃষক ছামছুল হকের প্রায় ৭ বিঘা জমির আগাম জাতের ধান নুয়ে পড়েছে। একই এলাকার ইছব আলীর দেড় বিঘা। তারা বলেন, ‘আর কয়েক দিনের মধ্যে ধান কাটতাম। কিন্তু হঠাৎ বৃষ্টিতে জমিতে পানি জমেছে। শীষ পানিতে ডুবে রং কালচে হয়ে যাচ্ছে। বেশির ভাগ ধান চিতা ধরে নষ্ট হবে। এতে ফলন যেমন কমবে, তেমনি বাজারে ধানের দামও মিলবে না।
কৃষক আলম বলেন, দেড় বিঘা জমিতে এক সপ্তাহ আগে আগাম আলু চাষ করেছেন। এরই মধ্যে বৃষ্টিতে জমিতে পানি জমেছে। এভাবে বৃষ্টি হলে বীজ আলু পানিতে পচে নষ্ট হয়ে যাবে। উপজেলার গঙ্গাপ্রসাদ এলাকার কৃষক মকসেদ আলীর ১বিঘা জমিতে আগাম আলু চাষ করেছেন। বৃষ্টিতে আলুর জমি ডুবে আছে।
রাজারামপুর গোয়ালপাড়া গ্রামের খোকন মহন্ত আন্যের দুই বিঘা জমি করালি নিয়ে আগাম আলু চাষ করেছেন। ১২ বস্তা বীজ আলুসহ তার সবমিলিয়ে খরচ হয়েছে ২৫ হাজার টাকা। হঠাৎ বৃষ্টিতে আলুর জমি ডুবে গেছে, এতে মাথায় হাত পড়েছে। আলু বাচাতে জমি থেকে শ্যালো মেশিন দিয়ে পানি নিস্কাশন করছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ১ হাজার ৭৫০ হেক্টর জমিতে সবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে আগাম জাতের সবজির লক্ষ্যমাত্রা ৬৫০ হেক্টর এবং ১ হাজার ৮১০ হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা রয়েছে। এছাড়া ৪হাজার ২শ’ হেক্টর জমিতে আগাম জাতের আমন ধান চাষের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
দিনাজপুর আবোহাওয়া অদিপ্তরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তোফাজ্জল হোসেন জানান, বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) সকাল থেকে শনিবার (১ নভেম্বর)সকাল ৬ টা পর্যন্ত দিনাজপুরে ৫১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। তিনি বলেন,কাল রোববার (২ নভেম্বর)থেকে আবহাওয়া পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফ আব্দুল্লাহ মোস্তাফিন বলেন, আমাদের লোকজন মাঠে খোঁজ খবর রাখছেন। বৃষ্টিতে কিছু এলাকার আগাম আমন ধান নুয়ে পড়েছে এবং শীতকালীন সবজিতে কিছুটা ক্ষতি হয়েছে। বিশেষ করে যেসব জমিতে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে,সেগুলোতে পাকা ধানের সমস্যা হয়েছে। তবে পানি শুকিয়ে গেলে তেমন সমস্যা হবে না। আমি মাঠে গিয়ে সরেজমিনে বিষয়টা দেখছি।





















