তেলমাছড়া বনাঞ্চলের ভালুকের বাচ্চা পাচার
বন কর্মকর্তা মেহেদী হাসানের দুর্নীতির তথ্য ফাঁস
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৫:১০:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ৯৯ বার পড়া হয়েছে
হবিগঞ্জের মাধবপুরে তেলমাছড়া সংরক্ষিত বনাঞ্চলের এক বন কর্মকর্তার গাছ পাচার,অনিয়ম ও দুর্নীতির চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস করলেন একই অফিসের এক বন কর্মচারী।
বিশ্বস্ত সূত্রে এই সম্পর্কিত ওই বন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এক কর্মচারীর ১ মিনিট ৫২ সেকেন্ডের একটি চাঞ্চল্যকর রেকর্ড এসেছে বাংলা টাইমস-এর কাছে।
অভিযুক্ত ওই বন কর্মকর্তা নাম মেহেদী হাসান। সে উপজেলার শাহজাহানপুর ইউনিয়নের তেলমাছড়া সংরক্ষিত বনাঞ্চলের বিট কর্মকর্তা।
কর্মচারীর নাম সাদিকুর রহমান।একই কার্যালয়ের ফরেস্টগার্ড হিসেবে কর্মরত ছিল।সদ্য রহস্যময় কারণে তাকে পার্বত্য এলাকায় বদলি করা হয়েছে।
ওই রেকর্ডিংয়ে,ফরেস্টগার্ড সাদিকুর রহমান,বিট কর্মকর্তা মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধে পূর্বের কর্মস্থল কক্সবাজারে রাজস্বের ৮৫ লক্ষ টাকা আত্মসাতের কথা উল্লেখ করেন। সে জন্যে সে ২ বছর ওএসডি ছিল। রেকর্ডিংয়ে আরো শোনা যায়,সে তেলমাছড়া বনের অসংখ্য গাছ পাচার করছে। ওই স্থানের আইয়ুব খানের ফ্লোরের কাছে সেগুন বাগান যেতে প্রায় ১০-২০ টি বড়গাছ এক ট্রাক গাড়ি ভর্তি করে নিয়ে গেছে।প্রায় সময়ই সে লুকিয়ে গাছ বিক্রি করে।এমনই আরো অনেক অভিযোগের কথা শোনা যায়।
যোগাযোগ করা হলে ফরেস্টগার্ড সাদেকুর রহমান বলেন, এসব অন্যায়ের প্রতিবাদ করায় আমাকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে পার্বত্য এলাকায় পোস্টিং দেয়া হয়েছে।মেহেদি হাসান প্রতিনিয়ত বনের গাছ পাচার করছে। এসব বিক্রি করে সে লাখ লাখ টাকা আয় করছে।
সাদেক রহমান আরো অভিযোগ করেন,মেহেদী হাসান তার বাসাকে গাঁজা সেবনের হটস্পট বানিয়েছেন।সে নিয়মিত গাঁজা সেবন করে।তাকে ডোপ টেস্ট করলেই বেরিয়ে আসবে।তার চোখ ও মুখ সবসময় লাল থাকে। তাই নিয়মিত বনে টহল করতে পারেন না।
মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধে আরো অভিযোগ,সে বন্যপ্রাণী পাচারের সাথে জড়িত। তেলমাছড়ায় ভালুকের বাচ্চা পাচার করে দিয়েছে। বনে সেগুলোকে আর দেখা যাচ্ছে না। সে সাংবাদিকদেরও ওইখানে প্রবেশ করতে বাধা দেয়। সরকারি বাসভবনে গাজা সেবনে বাধা হওয়ায় তার পরিবারকে হবিগঞ্জে রাখেন।সেখানে প্রতিনিয়ত আসা-যাওয়ায় তার বনে টহল কার্যক্রম ব্যাহত হয়।শুধু তাই নয় গাছ পাচারকারীরা তার হবিগঞ্জের বাসায় প্রায় ১ লক্ষ টাকা দামের একটি খাট দিয়েছে ঘুষ হিসেবে।স্থানীয় মোনায়েম নামে কাঠ ব্যবসায়ী তাকে ঘুষ হিসেবে এটি প্রদান করেন।বিনিময়ে বনের গাছ তাকে কাটতে দেন।
সম্প্রতি সাতছড়িতে সাংবাদিকদের উপর হামলাকারী হিসেবে উঠে এসেছে মেহেদী হাসানেরও নাম।সে সাতছড়ি উদ্যানের সেগুন গাছ পাচারের সিন্ডিকেট সদস্য। সাংবাদিকরা সাতছড়ি উদ্যানে সেগুন গাছ পাচারের সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে হামলার শিকার হয়।পরবর্তীতে বন বিভাগ তাদের নামে যে মিথ্যা চাঁদাবাজি মামলা দায়ের করে মেহেদী হাসান ওই মামলার ২ নং সাক্ষী।
এদিকে ফরেস্টগার্ড সাদিকুর রহমান অত্যন্ত অসৎ ও দায়িত্বশীল কর্মচারী। সম্প্রতি এসব অন্যায়ের প্রতিবাদ করায় তাকে তাকে পরিকল্পিতভাবে পার্বত্য এলাকায় বদলি দেয়া হয়েছেন।তিনি তার কর্তৃপক্ষের কাছে এখনও সুবিচার প্রত্যাশা করেন।সত্য বলায় পরবর্তীতে কোন শাস্তির মুখোমুখি যাতে না হতে হয় সেজন্য আকুতি জানিয়েছেন।
এ ব্যাপারে বিট কর্মকর্তা মেহেদী হাসানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান,সাদিকুর রহমানের মাথা ঠিক নেই।সে কখন যে কি বলে তা নিয়ে আমার চিন্তা নেই।এসব সকল অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট। আর আমার বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ থাকলে উপরে অভিযোগ দিন।
এ বিষয়ে সিলেটের বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো: আবুল কালাম জানান,বিষয়টি অত্যন্ত মারাত্মক। অভিযুক্তের বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।




















