https://bangla-times.com/
ঢাকাবৃহস্পতিবার , ৭ ডিসেম্বর ২০২৩

৭ ডিসেম্বর মুক্ত হয় সাতক্ষীরা

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
ডিসেম্বর ৭, ২০২৩ ১২:৩৪ পূর্বাহ্ণ । ১০০ জন
Link Copied!

৭ ডিসেম্বর সাতক্ষীরা মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে সাতক্ষীরার দামাল ছেলেরা থ্রি নট থ্রি আর এসএলআরের ফাঁকা গুলি ছুড়তে ছুড়তে সাতক্ষীরা শহরে প্রবেশ করে। ওড়ানো হয় স্বাধীন বাংলার পতাকা।

সাতক্ষীরা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমা-ার মোশাররফ হোসেন মশু জানান, ১৯৭১ সালের ২ মার্চ সাতক্ষীরা শহরে পাকিস্তান বিরোধী মিছিলে রাজাকাররা গুলি করে হত্যা করে শহীদ আব্দুর রাজ্জাককে। আর এখান থেকে শুরু হয় সাতক্ষীরার দামাল ছেলেদের মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়া।২৯ এপ্রিল সাতক্ষীরার ভোমরা সীমান্তে প্রথম সম্মুখ যুদ্ধ শুরু হয় এ সময় পাক সেনাদের ২ শতাধিক সৈন্য নিহত হয়। এরপর থেমে থেমে চলতে থাকে সাতক্ষীরার বিভিন্ন এলাকায় মুক্তিযোদ্ধাদের গুপ্ত হামলা। এসব যুদ্ধের মধ্যে ভোমরার যুদ্ধ, টাউন শ্রীপুর যুদ্ধ, বৈকারী যুদ্ধ, খানজিয়া যুদ্ধ উল্লেখযোগ্য। এ সব যুদ্ধে শহীদ হন ৩৩ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা। লাইটের আলোয় অসুবিধা হওয়ায় ৩০ নভেম্বর টাইম বোমা দিয়ে শহরের কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থিত পাওয়ার হাউস উড়িয়ে দিয়ে মুক্তিযোদ্ধারা ভীত সন্ত্রস্ত করে ফেলে পাক সেনাদের। রাতের আঁধারে বেড়ে যায় গুপ্ত হামলা। পিছু হটতে শুরু করে পাক সেনারা। ৬ ডিসেম্বর রাতে মুক্তিযোদ্ধাদের হামলায় টিকতে না পেরে বাঁকাল, কদমতলা ও বিনেরপোতা ব্রীজ উড়িয়ে দিয়ে পাক বাহিনী সাতক্ষীরা থেকে পালিয়ে যায়। ৭ ডিসেম্বর জয়ের উন্মাদনায় জ্বলে ওঠে সাতক্ষীরার দামাল ছেলেরা।

তবে বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ সুভাষ সরকার অভিযোগ করে বলেন, সাতক্ষীরা সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের পেছনে বধ্যভূমি রয়েছে। যার পাশেই আবাসিক ভবন করেছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তিনি বধ্যভূমিটি সংরক্ষণের দাবি জানান।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, জেলা কালেক্টরেটের সামনে বিতর্কিত স্মৃতিফলক রয়েছে, অনেক রাজাকারের নাম রয়েছে। সেই নামগুলো কালো কালি দিয়ে অস্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। আমরা দাবি করি,‘‘স্মৃতিফলকটি ভেঙে ফেলে নতুন করে স্মৃতিফলক নির্মাণ করতে হবে।

সাতক্ষীরা জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার ও জেলা প্রশাসক হুমায়ুন কবির জানান, জেলা প্রশাসন ও জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের যৌথ আয়োজনে ৭ ডিসেম্বর পালন করা হবে। সাতক্ষীরা সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের পেছনে বধ্যভূমি সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। আর স্মৃতিফলকের বিষয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের নাম সংগ্রহ করা হচ্ছে। তালিকা চুড়ান্ত হলে পুরনো নাম মুছে নতুন নাম লেখা হবে।