https://bangla-times.com/
ঢাকাসোমবার , ১৮ ডিসেম্বর ২০২৩

সীমান্তে তৎপর দু’পাড়ের মাদক ব্যবসায়ীরা (পর্ব-১)

নিজস্ব প্রতিবেদক, ব্রাহ্মণবাড়িয়া
ডিসেম্বর ১৮, ২০২৩ ১২:২৪ অপরাহ্ণ । ১৮৪৩ জন
Link Copied!

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরের বিভিন্ন স্থানে বেড়েছে মাদকদ্রব্যের ব্যবসা। প্রতিবেশী দেশ ভারতের সঙ্গে ৩২ কিলোমিটার সীমান্ত পথ রয়েছে এই উপজেলায়।

বিভিন্ন অভিযানের মাধ্যমে দেশে প্রতিদিনই উদ্ধার হচ্ছে ভিন্ন ভিন্ন মাদক।মামলার বাদী হচ্ছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। জব্দ করা হচ্ছে মাদকদ্রব্য। তদন্ত শেষে আদালতে জমা দেওয়া হচ্ছে অভিযোগপত্রও। তারপরও দেখা যাচ্ছে, মাদক মামলার বিচার শেষে সাজার হার কম। মাত্র ৩৭ শতাংশ মামলায় সাজা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, তদন্তে অবহেলা, যথাযথ প্রক্রিয়ায় মাদক জব্দ না করা, যথাযথ সাক্ষ্যের অভাব কিংবা সাক্ষ্য দিতে অনীহার কারণে খালাস পেয়ে যাচ্ছে আসামিরা। এছাড়া আইনের ফাঁকফোকর তো আছেই। আর আইনের আওতায় আনা বা সাজা যাদের হচ্ছে, তারা মূলত মাদক বহনকারী।এসব কারণে আড়ালেই থেকে যাচ্ছে মূলহোতারা।
বিজয়নগর উপজেলা দীর্ঘ সীমান্ত পথ থাকার সুবাদে ওই উপজেলার অন্তত ৩৫০ থেকে ৪০০ লোক মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত। তবে এরমধ্যে শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী ৪৫ থেকে ৫০ জন।সীমান্ত পেরিয়ে বিজয়নগরে ঢুকছে গাঁজা, ইয়াবা, ফেনসিডিলসহ নিষিদ্ধ মাদকদ্রব্য।এতে তরুণ মাদক সেবনকারীর সংখ্যা যেমন বেড়েছে তেমনি বেড়েছে নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড।

তাদের হাত ধরেই উপজেলার ৩২ কিলোমিটার সীমান্তপথে ঢুকছে মাদকসহ অন্যান্য চোরাচালানী পন্য।মাদক চোরাচালান আর ব্যবসা বদলে দিয়েছে এখানকার অনেক চোরাচালানীর জীবন। কারো কারো সাফল্য চোখে পড়ার মতো। একাধিক গাড়ি-বাড়ির মালিক এদের কেউ কেউ। ব্যবসা করছে দাপটের সঙ্গে।প্রভাবশালী মাদক ব্যবসায়ীদের অনেকে আবার বিশেষ দলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত।এরমধ্যে বিজয়নগরে শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীর তালিকায় চান্দুরা ইউপির জালালপুর,হোসেনপুর,আলাদাউদপুর,কালিসীম,চান্দুরা,হরষপুর ইউপির পাইকপাড়া গ্রামের মাদক ব্যবসায়ীসহ তালিকায় ১ থেকে ১০ভিতরে তাদের অবস্থান।

এসব মাদক কারবারিদের পৃষ্ঠপোষকতা করছেন স্থানীয় ক্ষমতাসীন মুষ্টিমেয় রাজনৈতিক দলের নামধারী গুটি কযেক নেতা,কিছু সাংবাদিক এবং কিছু বিট পুলিশের গাফিলতি ও মাদক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে তাদের যোগসাজশের কারণে প্রকাশ্যে চালাচ্ছেন মাদকের স্পট।

এসব দেখে সচেতন মহল হতাশ হয়ে পড়েছে। নতুন-পুরোনো মিলে মাদক ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে চালাচ্ছে মাদক কারবার।

বছরখানেক আগে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সাবেক কমিশনার শফিকুল ইসলাম মাদক মামলার তদন্তে একটি বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছিলেন।ওই নির্দেশনায় সব মাদক মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে রুট পর্যন্ত অনুসন্ধানপূর্বক মাদকের প্রকৃত মালিক বা মূলহোতাদের খুঁজে বের করে অভিযোগপত্র দিতে বলেছিলেন। কিন্তু মাদক মামলার তদন্ত কর্মকর্তারা কখনোই রুট পর্যন্ত পৌঁছাতে চান না।

পরের পর্বে নাম ও মাদক পাচারের ভিডিওসহ আসতেছে………….।