https://bangla-times.com/
ঢাকাবুধবার , ২৯ নভেম্বর ২০২৩

সিদ্ধান্তে অনড় রওশন এরশাদ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নভেম্বর ২৯, ২০২৩ ৬:৩২ অপরাহ্ণ । ১৩৪ জন
Link Copied!

নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্তেই অনড় থাকলেন জাতীয় পার্টির প্রধান পৃষ্ঠপোষক রওশন এরশাদ। বুধবার (২৯ নভেম্বর) রাতে তাঁর গুলশানের বাসভবনে সাংবাদিকদের নির্বাচনে না যাওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানান এই বিরোধীদলীয় নেতা।

এ সময় সাংবাদিকদের সামনে ভোটে না যাওয়ার কারণ জানিয়ে দুই মিনিটের বক্তব্য দেন রওশন। সাংবাদিকদের কাছ থেকে কোনো প্রশ্ন নেননি তিনি।

রওশন বলেন, ‘আমি দেশ ও গনতন্ত্রের স্বার্থে ২০১৪ এবং ২০১৮ সালের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছিলাম। এবারও তফসিল ঘোষনাকে স্বাগত জানিয়েছি। এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার প্রস্তুতি গ্রহণ করেছিলাম। বর্তমান নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার ক্ষেত্রে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও মহাসচিব সহযোগীতা না করায় দলের পরীক্ষিত নেতা–কর্মীদের মনোনয়ন প্রদান করা হয়নি। দলের নেতাদের অবমূল্যায়ন করায় নির্বাচনে আমার অংশগ্রহণ করা সম্ভব নয়।

রওশনের জন্য রাখা আসনে মুসা সরকারকে জাতীয় পার্টির মনোনয়ন রওশনের জন্য রাখা আসনে মুসা সরকারকে জাতীয় পার্টির মনোনয়ন
গত সোমবার ২৮৭ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করে জাতীয় পার্টি। এবার জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের দুটি আসন ঢাকা–১৭ এবং রংপুর–৩ থেকে দলটির মনোনয়ন পেয়েছেন চেয়ারম্যান জিএম কাদের।

এরশাদের মৃত্যুর পর ২০১৯ সালের অক্টোবরে রংপুর–৩ আসনে হওয়া উপনির্বাচনে জয়ী হয়ে সংসদ সদস্য হয়েছিলেন তাঁর ছেলে রাহগির আলমাহি সাদ এরশাদ। ধারণা করা হয়েছিল, এবারও তিনি এই আসনে মনোনয়ন পাবেন। প্রধান পৃষ্ঠপোষক রওশন এরশাদের জন্য ময়মনসিংহ-৪ আসন খালি রাখা হয়। কিন্তু পছন্দের আসনে মনোনয়ন না পেয়ে নির্বাচন করতে অস্বীকৃতি জানান রওশন এরশাদ ও সাদ এরশাদ।

রওশন নির্বাচনে না আসায় বুধবার রাতে এই আসনটিতে ময়মনসিংহ জেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক আবু মুসা সরকারকে মনোনয়ন দিয়েছে জাতীয় পার্টি।

দলীয় মনোনয়ন নিয়ে গত কয়েকদিন ধরেই জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান জিএম কাদেরপন্থী নেতাদের সঙ্গে রওশনপন্থী নেতাদের টানাপোড়েন চলছিল। জাতীয় পার্টির একাংশের নেতাদের অভিযোগ, দলে রওশনপন্থী হিসেবে পরিচিত নেতা–কর্মীদের এবার নির্বাচনে মনোনয়ন দেওয়া হয়নি। রংপুর–১ আসন থেকে জাতীয় পার্টির হয়ে বরাবরই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতেন দলের সাবেক মহাসচিব মশিউর রহমান রাঙ্গা। রওশনপন্থী হিসেবে পরিচিত এই নেতা এবার মনোনয়ন পাননি। তাঁর জায়গায় মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে এইচ এম শাহরিয়ার আসিফকে।

জাতীয় পার্টির প্রধান পৃষ্ঠপোষক ছাড়াও রওশন জাতীয় সংসদে প্রধান বিরোধী দলীয় নেতা। তিনি জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদের স্ত্রী। দলের একটি অংশে তাঁর বেশ প্রভাব আছে বলে মনে করা হয়।

জাতীয় পার্টিতে গৃহবিবাদ নতুন কিছু নয়। ২০১৯ সালে এরশাদের মৃত্যুর পর জাতীয় পার্টির নেতৃত্বে আসেন তাঁর ছোট ভাই জি এম কাদের। শুরু থেকেই এ সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে আসছিলেন রওশন। দুজনই নিজেদের দলের চেয়ারম্যান হিসেবে ঘোষণা করেন। পরে অবশ্য সমঝোতার মাধ্যমে জি এম কাদেরকে চেয়ারম্যান ও রওশন এরশাদকে বিরোধী দলীয় নেতা করা হয়।

এরপর ২০২২ সালে আবারও দলের এই গৃহবিবাদ প্রকাশ্যে আসে। সে সময় এই দুই পক্ষের দ্বন্দ্বের অন্যতম কারণ ছিল আওয়ামী লীগের সাথে জোটে থাকা-না থাকাকে কেন্দ্র করে। জি এম কাদেরপন্থীদের চাওয়া ছিল মহাজোট থেকে বের হয়ে বিএনপির সাথে বা আলাদা করে নির্বাচনে অংশ নেওয়া। অন্যদিকে রওশনপন্থীদের চাওয়া ছিল মহাজোটেই থেকে যাওয়া।

একপর্যায়ে ওই বছরের আগস্টে থাইল্যান্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই রওশন এরশাদ কেন্দ্রীয় সম্মেলন ডাকেন। সে সময় রওশনের ঘনিষ্ঠ বেশ কয়েকজন নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করেন চেয়ারম্যান জি এম কাদের।

জি এম কাদেরের চেয়ারম্যান পদে থাকাকে চ্যালেঞ্জ করে একাধিক মামলাও করা হয়। এতে শুরুতে জি এম কাদেরের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে আদালত। পরে অবশ্য উচ্চ আদালতের রায়ে চেয়ারম্যান পদ ফিরে পান জি এম কাদের।

গত ১৫ নভেম্বর দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল। তফসিল অনুযায়ী ভোট হবে আগামী ৭ জানুয়ারি।

এছাড়াও মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় ৩০ নভেম্বর, মনোনয়নপত্র বাছাই ১ থেকে ৪ ডিসেম্বর। রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল দায়ের ৬ থেকে ১৫ ডিসেম্বর। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ১৭ ডিসেম্বর আর প্রতীক বরাদ্দ ১৮ ডিসেম্বর। প্রচারণা শুরু হবে ১৮ ডিসেম্বর থেকে। চলবে ৫ জানুয়ারি সকাল ৮টা পর্যন্ত।