https://bangla-times.com/
ঢাকাবুধবার , ৬ ডিসেম্বর ২০২৩
  • অন্যান্য

‘শ্রম বিলের ত্রুটি সংশোধন নির্বাচনের পর’

নিজস্ব প্রতিবেদক
ডিসেম্বর ৬, ২০২৩ ৭:২৬ অপরাহ্ণ । ৯৩ জন
Link Copied!

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, নির্বাচনের পর দ্বাদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনেই শ্রম বিলের ত্রুটি সংশোধন করা হবে।

রাষ্ট্রপতি বিলে সই না করে ফেরত পাঠানোর সাথে, মার্কিন নতুন শ্রম নীতির কোনো সম্পর্ক নেই বলেও জানান তিনি।

বুধবার (৬ ডিসেম্বর) দুপুরে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের আইনমন্ত্রী একথা জানান।

এসময় আইনমন্ত্রী বলেন, ’একাদশ সংসদে পাস হওয়া শ্রম আইনের সংশোধিত বিলে, মালিকদের বেআইনি আচরণের সাজার ক্ষেত্রে ভুল লেখা হয়েছিলো। এ কারণে শ্রমিকদের অধিকার ক্ষুণ্ন হতো। বিষয়টি আমলে নিয়েই তাতে সই না করার জন্য, রাষ্ট্রপতিকে অনুরোধ করেছিলো সরকার। বর্তমানে বিলটি সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এর আগে সংসদে পাসে হওয়া সংশোধিত শ্রম বিলে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন সই না করে তা পুনর্বিবেচনার জন্য পাঠান। যার ফলে বিলটি আইনে পরিণত হতে পারেনি। বিলটি পরীক্ষা করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য তিন দিন সময় দিয়ে তা শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়–সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়।

জানা যায়, একাদশ জাতীয় সংসদের শেষ অধিবেশনে, গত ২ নভেম্বর পাস হয় সংশোধিত শ্রম বিল-২০২৩। সইয়ের জন্য ৮ নভেম্বর বিলটি রাষ্ট্রপতির কাছে পেশ করা হয়। পরে ২০ নভেম্বর তিনি সেটি সংসদে ফেরত পাঠান। ২২ নভেম্বর সংসদ সচিবালয় এ–সংক্রান্ত বার্তাসহ একটি বুলেটিন প্রকাশ করে। তাতে রাষ্ট্রপতির বার্তা তুলে ধরা হয়।

ওই বার্তায় বলা হয়, ‘এই বিলের দফা-৪৫ বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে বলে প্রতীয়মান হয়। কাজেই উক্ত দফা পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৮০(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বিলটি পুনর্বিবেচনার জন্য সংসদে ফেরত পাঠানো হলো।’

জানা গেছে, ২০০৬ সালের শ্রম আইনের ২৯৪ ধারার দুটি উপধারায় বেআইনি শ্রমিক ধর্মঘট এবং মালিকপক্ষের বেআইনি লকআউটের ক্ষেত্রে যে শাস্তি ছিল, তার কিছুটা সংশোধন করার প্রস্তাব করা হয়। ওই আইনে কোনও শ্রমিক কোনও বেআইনি ধর্মঘট করলে ছয় মাস পর্যন্ত কারাদণ্ডে, অথবা পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডে, অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হওয়ার বিষয়টি রয়েছে। কোনও মালিকও কোনও বেআইনি লকআউট করলে ঠিকই একই শাস্তির মুখোমুখি হবেন বলে আইনি বিধান করা হয়। তবে ২০২৩ সালে আইনটির যে সংশোধনী প্রস্তাব সংসদে পাস হয়েছে, সেখানে শ্রমিকদের বেআইনি ধর্মঘটের ক্ষেত্রে জরিমানা ৫ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা করা হয়েছে। কিন্তু মালিকদের ক্ষেত্রে জরিমানা আগের সমপরিমাণই (৫ হাজার টাকা) রাখা হয়েছে।

উল্লেখ্য, সংবিধানের বিধান অনুযায়ী, কোনও বিল সংসদে পাস হওয়ার পর তাতে রাষ্ট্রপতি সম্মতি দিলেই আইনে পরিণত হয়। তবে রাষ্ট্রপতি বিলে যেমন সম্মতি দিতে পারেন, তেমনই চাইলে নোটসহ ফেরতও পাঠানো পারেন। এক্ষেত্রে সংবিধানের ৮০ অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ী, সংসদে গৃহীত বিল সম্মতির জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠাতে হবে। তাতে রাষ্ট্রপতি ১৫ দিনের মধ্যে সম্মতি দেবেন। এ সময়ের মধ্যে সম্মতি না দিলে তা সম্মতি দিয়েছেন বলে গণ্য হবে। তবে রাষ্ট্রপতি মনে করলে ওই সময় শেষ হওয়ার আগে বিলের বিশেষ কোনও বিধান পুনর্বিবেচনা বা কোনও সংশোধনীর নির্দেশনা দিয়ে রাষ্ট্রপতির বার্তাসহ সংসদে ফেরত পাঠাতে পারেন। রাষ্ট্রপতি বিলটি ফেরত দিলে সংসদ বার্তাসহ তা পুনর্বিবেচনা করবে। সংসদ ওই বিলটি সংশোধনীসহ বা সংশোধনী ছাড়াই পুনরায় গ্রহণ করলে সম্মতির জন্য সেটা আবারও রাষ্ট্রপতির কাছে যাবে। এক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি ৭ দিনের মধ্যে তাতে সম্মতি দেবেন। এক্ষেত্রে ওই সময়ের মধ্যে রাষ্ট্রপতি সম্মতি দিতে অসমর্থ হলে সময় অবসানের পর (৭ দিন) বিলে সম্মতি দিয়েছেন বলে গণ্য হবে।