https://bangla-times.com/
ঢাকারবিবার , ৩ ডিসেম্বর ২০২৩

শিশুর সুস্থভাবে বেঁচে থাকতে ভিটামিন ‘এ’ গুরুত্বপূর্ণ

চট্টগ্রাম ব্যুরো
ডিসেম্বর ৩, ২০২৩ ৭:২৫ অপরাহ্ণ । ১০১ জন
Link Copied!

সারাদেশের ন্যায় আগামী ১২ ডিসেম্বর মঙ্গলবার চট্টগ্রাম বিভাগেও অনুষ্টিত হতে যাচ্ছে দিনব্যাপী জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন-২০২৩। এ ক্যাম্পেইন সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে বিভাগীয় অবহিতকরণ ও কর্মপরিকল্পনা সভা রোববার (৩ ডিসেম্বর) নগরীর সিনেমা প্যালেস সংলগ্ন রয়েল রোডস্থ চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্টিত হয়।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রনালয়ের আওতাধীন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্টান ও জাতীয় পুষ্টি সেবার বাস্তবায়নে বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) কার্যালয় সভার আয়োজন করেন। সভায় জানানো হয়, আগামী ১২ ডিসেম্বর মঙ্গলবার রোববার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিতব্য বিভাগীয় ক্যাম্পেইন চলাকালীন সময়ে সিটি করপোরেশনসহ বিভাগীয় পর্যায়ে ৬-১১ মাস বয়সী ৬ লাখ ৫ হাজার ১৪৩ জন শিশুকে একটি করে নীল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল (১ লক্ষ আই.ইউ) ও ১২-৫৯ মাস বয়সী ৪৪ লাখ ৩৪ হাজার ৮৬১ জন শিশুকে একটি করে লাল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল (২ লক্ষ আই.ইউ) খাওয়ানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

গত ১৮ জুন অনুষ্ঠিত বিভাগীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনে ৬-১১ মাস বয়সী ৫ লাখ ৬ হাজার ৩৫০ জন শিশুকে একটি করে নীল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল (১ লক্ষ আই.ইউ) খাওয়ানো হয়েছিল, যার অর্জিত হার ছিল ৯৮.৭৮ শতাংশ এবং ১২-৫৯ মাস বয়সী ৩৯ লাখ ১১ হাজার ৭৮৯ জন শিশুকে একটি করে লাল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল (২ লক্ষ আই.ইউ) খাওয়ানো হয়েছিল, যার অর্জিত হার ছিল ৯৮.৮২ শতাংশ। এবার শতভাগ সফলতার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. মোহাম্মদ মহিউদ্দিনের সভাপতিত্বে ও চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয়ের এমওসিএস ডা. মোঃ নওশাদ খানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত অবহিতকরণ সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের লাইন ডাইরেক্টর (এনএনএস) অধ্যাপক ডা. মিজানুর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি প্রবীর কুমার রায়, বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের সিনিয়র সহকারী কমিশনার গাজালা পারভীন রুহি, বিভাগীয় পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী ও চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ইলিয়াছ চৌধুরী। স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিভাগীয় উপ-পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. ইফতেখার আহমেদ। মাল্টিমিডিয়ার মাধ্যমে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. সুমন বড়ুয়া।

আলোচনায় অংশ নেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা (মাউশি) চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরিচালক রেজাউল করিম, সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ একরাম উল্লাহ (ব্রাহ্মণবাড়িয়া), সিভিল সার্জন ডা. আহমেদ কবির (লক্ষীপুর). সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ সাহাদাৎ হোসাইন (চাঁদপুর), সিভিল সার্জন ডা. মাসুম ইফতেখার (নোয়াখালী), ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পরিচালক বোরহান উদ্দিন মোঃ আবু আহসান, প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের উপ-পরিচালক ড. মোঃ শফিকুল ইসলাম, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক শাহিদা আক্তার, পরিবার পরিকল্পনার উপ-পরিচালক মোঃ আবদুর রাজ্জাক (ব্রাহ্মণবাড়িয়া), পরিবার পরিকল্পনার উপ-পরিচালক বেগম সাহানওয়াজ (রাঙ্গামাটি), পরিবার পরিকল্পনার উপ-পরিচালক ডা. মোঃ কামরুল হুদা (নোয়াখালী), জ্যৈষ্ঠ্য সাংবাদিক রনজিত কুমার শীল, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মাধবী বড়–য়া, বিভাগীয় সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ শাহীনেওয়াজ, ইউনিসেফ’র প্রতিনিধি ডা. উবাসুই, চট্টগ্রাম সটি করপোরেশনের সহকারী স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. তপন কুমার চক্রবর্তী প্রমূখ। স্বাস্থ্য, শিক্ষা, গণমাধ্যম, সরকারী-বেসরকারী পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং এনজিও প্রতিনিধিগণ সভায় অংশ নেন।

ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনের অবহিতকরণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের লাইন ডাইরেক্টর (এনএনএস) অধ্যাপক ডা. মিজানুর রহমান বলেন, বিভিন্ন কারণে শিশুরা অপুষ্টিতে ভূগছে। শিশুর সুস্থভাবে বেঁচে থাকা, স্বাভাবিক বৃদ্ধি, দৃষ্টিশক্তি, রক্ত স্বল্পতা ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য ভিটামিন ‘এ’ অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এক অনুপুষ্টি। তাই এই ক্যাম্পেইন কার্যক্রম সফলভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে অপুষ্টি দূরীকরণ সম্ভব হবে। শিশুর জন্মের সাথে সাথে মায়ের বুকের শাল দুধ খাওয়াতে হবে এবং ৬ মাস পর্যন্ত বুকের দুধ ছাড়া অন্য কিছু দেয়া যাবে না। শিশুর বয়স ৬ মাস পূর্ণ হলে দুই বছর পর্যন্ত মায়ের দুধের পাশাপাশি পরিমাণমত ঘরে তৈরি পুষ্টি সমৃদ্ধ সুষম খাবার খাওয়াতে হবে। কোন শিশু ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো থেকে যাতে বাদ না যায় সে দিকে সবাইকে অবশ্যই নজর রাখতে হবে। যে কোন মূল্যে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন সফল করা হবে।

সভাপতির বক্তব্যে বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. মোহাম্মদ মহিউদ্দিন বলেন, ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন সফল করতে হলে মসজিদ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাটবাজার, বাস স্ট্যান্ড, নৌ-ঘাটসহ গুরুত্বপূর্ণস্থানেও মাইকিং করে সচেতনতামূলক প্রচার-প্রচারণা চালানো হবে। স্বাস্থ্য বিভাগ, সরকারী প্রতিষ্টান, জনপ্রতিনিধি, আনসার-ভিডিপি ও এনজিও সংস্থাগুলোকে ক্যাম্পেইন বাস্তবায়নে এগিয়ে আসতে হবে। স্থায়ী ও অস্থায়ী টিকাদান কেন্দ্রে মাঠকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী শিশুদেরকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর কাজে নিয়োজিত থাকবে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। আগামী ২০৪১ সালে স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।

সভায় অন্যান্য অতিথিবৃন্দ বলেন, ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল শিশুর অপুষ্টি, অন্ধত্ব প্রতিরোধ, দেহের স্বাভাবিক বৃদ্ধি নিশ্চিত, হাম ও ডায়রিয়াজনিত মৃত্যুর হার হ্রাসসহ সকল ধরণের মৃত্যুর হার হ্রাস করে। পরিবারের রান্নায় ভিটাামিন ‘এ’ সমৃদ্ধ ভোজ্য তেল ব্যবহার শিশুর জন্য যথেষ্ট উপকারী। মা ও শিশুর পুষ্টির জন্য গর্র্ভবতী ও প্রসূতি মায়েদের স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি করে ভিটামিন ‘এ’ সমৃদ্ধ প্রাণিজ ও উদ্ভিজ্জ খাবার খেতে দিতে হবে।