https://bangla-times.com/
ঢাকাবুধবার , ২৯ নভেম্বর ২০২৩

মামলার ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়

ত্রিপুরারী দেবনাথ তিপু, হবিগঞ্জ
নভেম্বর ২৯, ২০২৩ ৩:০৬ পূর্বাহ্ণ । ৩১৭ জন
Link Copied!

হবিগঞ্জের মাধবপুরে দক্ষিণ বেজুড়া গ্রামের অলিদ মিয়া নামে এক ব্যক্তির মধ্যস্থতায় এক সেলুন কর্মচারীকে রাস্তা থেকে জোরপূর্বক থানায় ধরে এনে মাদক মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখিয়ে ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ ওঠেছে।এ ঘটনার প্রতিকার চেয়ে পুলিশ সুপারের কাছে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী লস্কর আলী।তিনি ঢাকায় সেলুন কর্মচারী হিসাবে কাজ করেন।কিছুদিন আগে স্ত্রীর সিজারিয়ান অপারেশন করানোর প্রয়োজনে বাড়ি এসেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ২৫ নভেম্বর রাত সাড়ে ১১ টায় মাধবপুর উপজেলার জগদীশপুর ইউনিয়নের দক্ষিন বেজুড়ার লস্কর আলী নামে এক ব্যক্তি নতুন বাড়ি থেকে পুরাতন বাড়িতে যাওয়ার সময় পথিমধ্যে তার বন্ধু একই গ্রামের শাহীন মিয়ার সাথে দেখা হয়।দুই বন্ধুর আলাপের মধ্যেই হঠাৎ মাধবপুর থানার একটি পুলিশ ভ্যান এসে থামে।ভ্যান থেকে নেমে এসআই আবু রায়হান দেশের অবস্থা ভালো নয় জানিয়ে এতো রাতে তারা রাস্তায় কি করছে জানতে চান।এসময় লস্কর আলী জানান, নিজের গ্রামে বন্ধুর সাথে কথা বলার সাথে দেশের অবস্থার সম্পর্ক কি?

ক্ষিপ্ত হয়ে এসআই আবু রায়হান অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন।এসময় সাথে থাকা ভ্যানচালক কনস্টেবল মোঃ আলমগীর দুজনের দেহ তল্লাশী শুরু করে পকেটে থাকা সাড়ে ২১ হাজার টাকা কেড়ে নিয়ে এসআই আবু রায়হানের হাতে দেন।এসআই রায়হান লস্কর আলী ও শাহীন মিয়াকে জোরপূর্বক টেনেহিঁচড়ে ভ্যানে তুলে থানায় নিয়ে যান।তাদের মোবাইল কেড়ে নেন।থানায় নেওয়ার পর হেরোইন ও গাঁজার মামলায় কোর্টে চালান করার ভয় দেখিয়ে ৫ লাখ টাকা দাবি করেন রায়হান।চাহিদামতো টাকা দিলে তাদের ‘নরমাল’ মামলায় পুলিশ ফরোয়ার্ডিং দিয়ে কোর্টে চালান দেওয়ার আশ্বাস দেন রায়হান। এতো টাকা দেওয়ার ক্ষমতা তাদের নেই জানালে শেষ পর্যন্ত ৫০ হাজার টাকায় নামেন এসআই আবু রায়হান।

পরদিন (২৬ নভেম্বর) সকালে লস্কর আলীর ভাই শওকত মিয়া একই গ্রামের বাসিন্দা অলিদ মিয়াকে ঘটনা জানালে অলিদ মিয়া এসআই রায়হানের সাথে কথা বলে ৫০ হাজার টাকা দিতে হবে বলে জানান।উপায়ান্তর না দেখে ধারদেনা করে ৫০ হাজার টাকা অলিদ মিয়ার হাতে তুলে দেন লস্কর আলীর ভাই শওকত মিয়া ও তার বোন নাজমা বেগম।ওইদিন (২৬ নভেম্বর) লস্কর আলী ও শাহীন মিয়াকে ১৫১ ধারায় কোর্টে চালান করে পুলিশ।ওইদিনই জামিন হয় তাদের। জামিন পাওয়ার পরদিন (২৭ নভেম্বর) ঘটনা উল্লেখ করে অলিদের এমন কর্মকান্ডের প্রতিকার চেয়ে হবিগঞ্জের পুলিশ সুপারের কাছে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী লস্কর আলী।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বেজুড়া গ্রামের অলিদ মিয়া বাংলা টাইমসকে বলেন , আমারে যে টাকা দিছে এটা মূলত কোর্টের খরচ,আর অভিযোগ দিয়ে থাকলে,সে ওই খণ্ডাইবনে, কেমনে দিছে কারে দিছে।

এ ব্যাপারে মাধবপুর থানার এসআই আবু রায়হান জানান, ‘আমি লস্কর আলী ও অপর একজনকে বেজুড়া থেকে থানায় এনেছি ঠিকই।পরে কিভাবে কি হয়েছে তা ওসি সাহেব বলতে পারবেন।ওসি সাহেবের কথা অনুযায়ী কাজ করেছি আমি।’

ওসি রকিবুল ইসলাম খান জানান, যেহেতু উর্ধ্বতন কর্মকর্তা বরাবর অভিযোগ হয়েছে বিষয়টি স্যাররা দেখবেন।

অভিযোগের বিষয়ে পুলিশ সুপার এস এম মুরাদ আলী পুলিশ সুপার, হবিগঞ্জ বরাবর মুঠোফোনে কল করে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।