মন্দিরের সম্পত্তি জবরদখল মুক্ত করতে মানববন্ধন
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৪:৫১:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৫ ১০১ বার পড়া হয়েছে
দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে কেন্দ্রীয় কালী মন্দিরের দেবোত্তর ২.৩৬ একর জমি জোরপ‚র্বক দখলের প্রতিবাদে মানববন্ধন , প্রতিবাদ সভা, স্মারকলিপি প্রদান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১২টায় ফুলবাড়ী উপজেলা পরিষদের সামনে ঘন্টাব্যাপী এই প্রতিবাদ সভায় ২ শতাধিক হিন্দু সম্প্রদায়ের উপস্থিতিতে প্রতিবাদসভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ফুলবাড়ী কেন্দ্রীয় শ্যামা কালী মন্দিরের সভাপতি শ্রী জয় প্রকাশ গুপ্ত।
শ্রী জয় প্রকাশ গুপ্ত বলেন, ১৯৩৪ সালের ২ আগস্ট দিনাজপুর জেলার ফুলবাড়ী উপজেলার ২নং আলাদিপুর ইউনিয়নের উত্তর রঘুনাথপুর মৌজায় ২৮৯/১৭৫ এবং ৬৫৫/৫৯৮ নং দাগে ফুলবাড়ী কেন্দ্রীয় কালী মন্দিরের নামে প্রাপ্ত মোট ২.৩৬ (দুই দশমিক ছত্রিশ) একর জমি যার দলিল নং-২২২৯ ম‚লে মন্দিরের পক্ষ থেকে চাষাবাদ করার মাধ্যমে ভোগদখল করে আসছে।
এরইমধ্যে কিছুদিন আকস্মিকভাবে ফুলবাড়ী উপজেলার ২নং আলাদিপুর ইউনিয়নের উত্তর রঘুনাথপুর গ্রামের মৃত মোতাহার হোসেনের ছেলে মো. আমিনুল ইসলাম তার ভাড়াটিয়া অন্তত ২০০ জন লাঠিয়াল বাহিনী বিভিন্ন লাঠিসোটা নিয়ে মন্দিরের উল্লিখিত জমি জবরখদল করে নিয়েছে। বিষয়টি জানার পর মন্দিরের পক্ষে আমি সভাপতি ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক শ্রী হারান দত্তসহ অন্যান্য হিন্দু সম্প্রাদায়ের লোকজন জমিতে গেলে তাদের উপর চড়াও হয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে তাদেরকে বিভিন্ন ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে জমির এলাকা থেকে জোরপ‚র্বক বিতাড়িত করে ভ‚মিদস্যু আমিনুল ইসলাম ও তার ভাড়াটিয়া লাঠিয়াল বাহিনী।
সঞ্জয় গুপ্ত,রতন চক্রবর্তী, উত্তম গুপ্ত বলেন, আমিনুল ইসলাম দীর্ঘদিন থেকে মন্দিরের ঐ জমিটি গ্রাস করার জন্য জাল দলিল তৈরির মাধ্যমে জবর দখলের অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এ ব্যাপারে আমিনুল ইসলামের সাথে ০৪/০১/২০১৯ ইং তারিখে মহামান্য হাইকোর্টে একটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। যার মামলা নং-৮৩/১৯ পিজে। বর্তমানে আমিনুল ইসলাম লাঠির জোরে ঐ জমি জবর দখলে নিয়েছে। তার ভয়ে মন্দির কর্তৃপক্ষ মন্দিরের ঐ জমিতে যেতে পারছেন না। ফুলবাড়ী উপজেলার হিন্দু সম্প্রদায়ের দাবি আমাদের ফুলবাড়ী কেন্দ্রীয় কালী মন্দিরের দেবোত্তর সম্পত্তি যেন মন্দিরের নামেই থাকে।এ ব্যাপারে স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
মন্দিরের উল্লেখিত জমি দখলকারী রঘুনাথপুরের আমিনুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘ ৫০ বছর ধরে ওই জমির মামলা হয়ে আসছিল। নি¤œ আদালত, উচ্চ আদালত এমনকি আপিলেও পরাজিত হয়েছে। মামলায় আমার পক্ষে রায় হয়। বিগত সরকারের আমলে তারাই জোরপ‚র্বক দখল করে আসছিল। এখন আমি আমার কাগজের বৈধতা স‚ত্রে জমি ফিরে পেয়ে আমি আবাদ করেছি।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মীর মো. আল কামাহ তমাল বলেন, স্মারকলিপি পেয়ে গুরুত্বের সাথে বিষয়টি যথাযথ কর্তৃপক্ষকে পাঠাচ্ছি এবং তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

























