https://bangla-times.com/
ঢাকারবিবার , ৩ ডিসেম্বর ২০২৩

ভোটে লড়ছেন বিএনপির ৩৩ নেতা

বিশেষ প্রতিবেদক
ডিসেম্বর ৩, ২০২৩ ১২:৪৬ পূর্বাহ্ণ । ১০৩ জন
Link Copied!

তফসিল অনুযায়ী আগামী ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এরই মধ্যে প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এখন চলছে প্রার্থী যাচাই-বাছাই। তবে এই নির্বাচনে নেই মাঠের বড় রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দাবি আদায়ে হরতাল ও অবরোধ কর্মসূচিও পালন করছে দলটি।

দলটি দাবি আদায়ে আন্দোলন চালিয়ে এলেও দলের কতিপয় নেতাকর্মী এর ঘোর বিরোধী। তারা চাইছে নির্বাচন করতে। তবে দলের হাইকমান্ডের নির্দেশনা না থাকায় অনেকই নির্বাচন করতে পারেনি। অন্যদিকে, কতিপয় নেতা দলের বাইরে গিয়ে ভোটের মাঠে লড়াই করছেন।তাদের দলে অন্তত ৩৩ নেতা। সবশেষ নির্বাচনে আসার ঘোষণা দেন বিএনপির সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান শাহজাহান ওমর।

বিএনপি ছেড়ে ভোটের লড়াইয়ে সামিল হওয়া দলের সাবেক নেতারা বলেন, রাজনৈতিক নেতা হিসেবে নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতেই নির্বাচনে আসার সিদ্ধান্ত। সেই সঙ্গে নির্বাচন প্রশ্নে দলটির অনড় অবস্থান নিয়েও ক্ষোভ ও বিরক্তি প্রকাশ করেছেন, বিএনপিত্যাগী নেতারা।

অনেক আগ থেকে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বরাবরই বলা হচ্ছিলো, দল হিসেবে বিএনপি নির্বাচনে না এলেও তাদের অনেক নেতাই শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে মাঠে লড়বেন। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, কেউ বিএনপি ছেড়ে আওয়ামী লীগে যোগ দিলে গণতান্ত্রিকভাবে কিছু বলার নেই। কাউকে ব্ল্যাকমেইল করে নির্বাচনে আনা হচ্ছে না।

নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরই আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টিসহ বিভিন্ন দলের মনোনন ঘোষণার পাশাপাশি অনেকটা চমকের মতোই নির্বাচনে আসার ঘোষণা দেন বিএনপির কয়েকজন নেতা। তৃণমূল বিএনপি ও নতুন নিবন্ধিত বিএনএম এ মনোনয়নে নির্বাচনে আসার ঘোষণা দেন কেউ কেউ। সব শেষ চমক দেখালেন বিএনপির সদ্য সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান শাহজাহান ওমর।

দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন বিএনপির সাবেক পাঁচজন সংসদ সদস্য। এ ছাড়া দলের চেয়ারপারসনের সাবেক উপদেষ্টা, ভাইস চেয়ারম্যান এবং নির্বাহী কমিটির একাধিক সদস্যও দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া নেতাদের সংখ্যাটি ১৩ জনের মতো।

এর বাইরে তৃণমূল বিএনপি এবং বিএনএম থেকে নির্বাচন করছেন বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের আরও ১৯ জন সাবেক নেতা। আর বিএনপি ছেড়ে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েই মনোনয়ন পেয়েছেন একজন। সব মিলিয়ে বিএনপির সাবেক নেতাদের মধ্যে কমপক্ষে ৩৩ জন আগামী নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন।

শাহজাহান ওমরের মতোই গত ২২ নভেম্বর সরকার পতনের এক দফা আন্দোলন ছেড়ে নির্বাচনে আসার নাটকীয় ঘোষণা দেন বিএনপির দীর্ঘদিনের মিত্র ও কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান সাবেক সেনা কর্মকর্তা সৈয়দ মুহাম্মদ ইব্রাহিম। এর আগে নির্বাচনমুখী হবার ঘোষণা দেন সাবেক নেতা শমসের মবিন চৌধুরীসহ ও তৈমুর আলম খন্দকার। পরে তৃণমূল বিএনপি থেকে ১৫১ আসনে মনোনয়ন ঘোষণা করে দলটি।

এ ছাড়া নতুন নিবন্ধিত দল বিএনএমএতে যোগ দেয়ার মধ্য দিয়ে নির্বাচনমুখী হবার ঘোষণা দেন বিএনপির সাবেক পাঁচ জন নেতা। বিএনপির ঘাটি বলে পরিচিত বগুড়ার চারজন নেতাও দল ছেড়ে নির্বাচনে আসার ঘোষণা দিয়েছেন। এদের একজন চারবারের এমপি জিয়াউল হক মোল্লা কাহালু নন্দীগ্রাম থেকে নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছেন।

জিয়াউল হক মোল্লা বলেন, দীর্ঘদিন দল আমাকে মূল্যায়ন করেনি। সংস্কারপন্থী পরিচয় দিয়ে আমাকে মনোনয়নবঞ্চিত করা হয়েছিল। দলে যেহেতু জায়গা নেই, তাই নিজের রাজনীতির ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করেই স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছি। কোনো দলের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা নেই।

জেলা হিসাবে ময়মনসিংহে ভোট করবেন বিএনপির সাবেক দুই সংসদ সদস্য। ময়মনসিংহ-২ আসনে প্রার্থী হয়েছেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য শাহ্ শহীদ সারোয়ার। আর, ময়মনসিংহ-৪ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন বিএনপির আরেকজন সাবেক সংসদ সদস্য দেলোয়ার হোসেন খান।

টাঙ্গাইল-১ আসনে সাবেক সংসদ সদস্য খন্দকার আনোয়ারুল হক স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। আর, কিশোরগঞ্জ-২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান। কুমিল্লা-৫ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন বিএনপির সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান শওকত মাহমুদ।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন বিএনপি নেত্রী উপদেষ্টা সৈয়দ এ কে একরামুজ্জামান। বিএনপির নির্বাহী কমিটি থেকে বহিষ্কৃত আরেক নেতা আবুল কাশেম ফখরুল ঝালকাঠি-১ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। একইভাবে নির্বাহী কমিটির বহিষ্কৃত হওয়া খন্দকার আহসান হাবিব টাঙ্গাইল-৫ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।

জামালপুর-১ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন উপজেলা বিএনপির সদস্য মাহাবুবুল হাসান। অন্যদিকে, তৃণমূল বিএনপিতে যোগ দিয়ে নির্বাচন করছেন বিএনপির অন্তত ১৩ জন নেতা। আর, বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট মুভমেন্ট (বিএনএম) থেকে প্রার্থী হয়েছেন বিএনপির সাবেক তিনজন সংসদ সদস্য।

তফসিল অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার (৩০ নভেম্বর) মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় শেষ হয়েছে। রিটার্নিং কর্মকর্তা প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাছাই করবেন ১ থেকে ৪ ডিসেম্বর। রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কমিশনে আপিল দায়ের ও নিষ্পত্তি ৫ থেকে ১৫ ডিসেম্বর, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ১৭ ডিসেম্বর। রিটার্নিং কর্মকর্তারা প্রতীক বরাদ্দ করবেন ১৮ ডিসেম্বর। নির্বাচনী প্রচার চলবে ৫ জানুয়ারি সকাল ৮টা পর্যন্ত। আর ভোটগ্রহণ হবে ৭ জানুয়ারি।